ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিববঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’

রোববার   ১৯ জানুয়ারি ২০২০   মাঘ ৫ ১৪২৬   ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

আজকের ময়মনসিংহ
৩৬

হাত ছাড়াই উবার ড্রাইভিং করে সংসার চালান দুই সন্তানের জননী

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারি ২০২০  

সংসার চালাতে এক সাহসী নারী বেছে নিয়েছেন ড্রাইভিং পেশা। উবারের গাড়ি চালক হিসেবে সে পূর্ণ দক্ষতাসম্পন্ন। তার গাড়ির যাত্রীরাও বলেন, চালানোর সময় গাড়ি সবসময় তার নিয়ন্ত্রণেই থাকে। ভাবছেন, এ আবার নতুন কি? চালকদের হাত তো পাকা থাকবেই! তবে যার হাত নেই, তার বেলায় কি বলবেন?

অবাক হচ্ছেন নিশ্চয়ই! দুই সন্তানের এই জননীর দুই হাতের কোনাটিই নেই। তার বেঁচে থাকার সংগ্রামই হলো হাত ছাড়া। শুধু কনুই পর্যন্ত রয়েছে, যা দ্বারা কাজ করা প্রায় অসম্ভব। জন্মগতভাবেই জানিত ব্রাউনের (৩১) হাত নেই। যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনার দার্হামের বাসিন্দা তিনি। এই নারীর জীবন সংগ্রাম অন্যদের তুলনায় অনেকটাই ভিন্ন। তবুও হাসিমুখে তিনি জানান, দৈনন্দিনের এমন কোনো কাজ নেই যেটা আমি করতে পারিনা, আমার এই প্রতিবন্ধকতা কখনো আমাকে থামাতে পারেনি।

 

জানিত ব্রাউন

জানিত ব্রাউন

গাড়ির যাত্রীরাও আমাকে উৎসাহ দেন। তাদের মতে, আমি নাকি একজন দক্ষ ড্রাইভার। এমনকি অনেকেই আমাকে ব্যক্তিগত ড্রাইভার হিসেবেও নিয়োগ দিতে চান। কারো মুখ থেকে প্রশংসা শুনলে কাজের প্রতি ও বেঁচে থাকার আগ্রহ আরো বেড়ে যায়। এ পর্যন্ত আমি কখনো দুর্ঘটনার সম্মুখীণ হয়নি, এটা আমার সৌভাগ্য। আমি কখনো কারো কাছ থেকে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পায়নি, সবাই আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন। আর এজন্যই হয়ত আজ এ পেশায় জীবিকা নির্বাহ করছি। দুই সন্তানকে দেখাশুনার পাশাপাশি সংসারও চালাচ্ছি।

ভোর হলেই জীবনযুদ্ধে নেমে পড়েন জানিত। বড় ছেলেকে স্কুলে ও ছোট ছেলেকে ডে কেয়ারে রেখে গাড়ি চালানো শুরু করেন তিনি। তার বড় ছেলের বয়স ৫ ও ছোট ছেলের বয়স মাত্র এক বছর। স্কুলের অনেকেই আমার ছেলেকে জিজ্ঞাসা করে, ‘তোমার মায়ের তো হাত নেই।’ তবে সে কখনো বিষয়টি নিয়ে অপমানবোধ করে না বরং আমার ছেলে বলে, আমার মা স্বাভাবিক মানুষের মতো সব কাজ করতে পারে। 

 

গাড়ি চালাচ্ছেন জানিত

গাড়ি চালাচ্ছেন জানিত

জানিতের এক কাজিন অন্তোনিও গ্ল্যাডপি জানান, হাত না থাকা সত্ত্বেও তার জীবনযুদ্ধে টিকে থাকাটা বেশ রহস্যজনক। যা সাধারণ মানুষের বোধগম্য হবে না। ছোটবেলা থেকেই দেখছি, সে কারো উপর নির্ভরশীল নয়। সে বরাবরই আমাদের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। মানুষ ফিট থাকার পরও কত আফসোস নিয়ে বেঁচে থাকে। আর এ বেচারির হাত না থাকলেও কোনো আফসোস নেই। একজন মায়ের যতটা দায়িত্বশীল হওয়া উচিত, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়েও জানিত সেসব পালন করে যাচ্ছে।

জানিতের এক বন্ধু ডেমিয়া স্কট বলেন, তার দৈনন্দিন জীবনযাত্রা আমাকে অবাক করে। কখনো সে কাউকে বুঝতেই দেয় না যে তার হাত নেই। স্বাভাবিক মানুষের মতই সব কাজকর্মে পারদর্শী জানিত। তার একটাই লক্ষ্য, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজের জন্য বোঝা নয় বরং আশীর্বাদ, সে বিষয়টিই বিশ্বকে জানানো। 

 

রান্নাও করছেন

রান্নাও করছেন

জানিত জানান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে সমাজে অনেক ভুল ধারণার প্রচলন রয়েছে। সবাই ভাবেন, তাদের সবসময় সাহায্যের প্রয়োজন। সবার ক্ষেত্রে কিন্তু বিষয়টি প্রযোজ্য নয়। কারণ আমার মত অনেকেই আছেন যাদের হাত-পা নেই তবু সে প্রতিষ্ঠিত। প্রতিবন্ধীদের প্রতি সবার দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক হলে তারা আরো এগিয়ে যেতে পারবে। কারণ তাদের সাহায্য নয় বরং উৎসাহের যোগান দেয়াটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

৩১ বছর বয়সী এই নারী ড্রাইভিং পেশার পাশাপাশি ‘ইনস্পায়ারিং উইথ হেল্পিংহ্যান্ডস’ নামক একটি অলাভজনক সংস্থা চালু করেছেন। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা দেয়া, অনুপ্রেরণা যোগানো ও বিশ্ব সম্পর্কে জানাতে তার এই সংস্থা কাজ করছে। এ বিষয়ে জানিত জানান, ইচ্ছাশক্তির সাহায্যে আমি যেমন নিজেকে প্রমাণ করেছি তেমনই আরো অনেক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আত্ম উন্নয়নে আমি কাজ করছি। সবার মধ্যেই কোনো না কোনো গুণ অবশ্যই রয়েছে। স্বাভাবিক মানুষ ও প্রতিবন্ধীদের মধ্যে যেন আর কোনো বিভেদ না থাকে আমরা সবাই মিলে সেটিই প্রমাণ করব।  

সূত্র: বারক্রফটটিভি

আজকের ময়মনসিংহ
আজকের ময়মনসিংহ