ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিববঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’

শুক্রবার   ১৫ নভেম্বর ২০১৯   কার্তিক ৩০ ১৪২৬   ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

আজকের ময়মনসিংহ
৩৫২

স্কুলপর্যায়ে ‘স্টুডেন্ট কেবিনেট’ নির্বাচন মার্চে

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারি ২০১৯  

আগামী মার্চে সারাদেশের মাধ্যমিক স্কুল ও মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচন’। আগামী ২৬ জানুয়ারি নির্বাচনের কথা বলা হলেও নির্বাচন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) জানিয়েছে, নির্বাচন হবে আগামী মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে। ভর্তির হার বৃদ্ধি, ঝরে পড়া রোধ, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং শিশুদের মাঝে গণতন্ত্র চর্চার লক্ষ্যকে সামনে রেখে বিদ্যালয়ে স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচন হচ্ছে। ২০১৫ সাল থেকে এই নির্বাচন হচ্ছে। ২০১০ সাল থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একই আদলে নির্বাচন হয়ে আসছে।

ব্যানবেইস মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহ বলেছেন, ‘আগামী ২৬ জানুয়ারি সারাদেশে স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচনের একটা খবর প্রকাশ হয়েছে। ওই তারিখে আসলে আমরা নির্বাচনের বিষয় চূড়ান্ত করিনি। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) ২৬ জানুয়ারি নির্বাচনের তারিখ উল্লেখ করে চিঠি দিয়েছে। আমরা কিছুই চূড়ান্ত করিনি।’

আগামী ২৬ জানুয়ারি নির্বাচন হচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আবার ফেব্রুয়ারির ১ তারিখ থেকে সারাদেশে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। ফলে তখনো নির্বাচন করা সম্ভব হবে না। পরীক্ষার পরে মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচনটা আমরা করবো। দু’একদিনের মধ্যেই আমরা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নির্বাচনের বিষয়টি পরিষ্কার করবো।’

 

তিনি আরো বলেন, শিশুকাল থেকেই গণতন্ত্রের চর্চা, মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন শেখাতে এই স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচন। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা তাদের দায়িত্বের পাশাপাশি শিক্ষকদের নানা কাজেও সহায়তা করবে।

এর আগে, আগামী ২৬ জানুয়ারি মাধ্যমিক পর্যায়ের বিদ্যালয়গুলোতে স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছিল মাউশি অধিদফতর। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচন অনুষ্ঠানে মাউশি অধিদফতর থেকে সকল জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্দেশনাও দেয়া হয়েছিল।

মাউশির কর্মকর্তারা জানান, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদানরত মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে খসড়া কর্মপরিকল্পনা ও তফসিল অনুযায়ী স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচনের আয়োজনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এছাড়া ২০২০ সালে সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও দাখিল মাদ্রাসাসহ স্কুল অ্যান্ড কলেজেও (যেসব প্রতিষ্ঠানে শুধু দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত আছে) এবং আলিম মাদ্রাসায় (যেসব মাদ্রাসায় শুধু আলিম পর্যন্ত আছে) স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের পরই নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে মাঠপর্যায়ে বলা হয়েছিল।

‘স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচনের’ মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণতন্ত্র চর্চাসহ একে অপরকে সহযোগিতা করা, শ্রদ্ধা প্রদর্শন, শতভাগ শিক্ষার্থী ভর্তি ও ঝরে পড়া রোধে সহযোগিতা, পরিবেশ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ নিশ্চিতসহ ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়।

জানা গেছে, বিগত বছরের মতো এবারো শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবে আট সদস্যের স্টুডেন্টস কেবিনেট। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির যেকোনো ছাত্রছাত্রী নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবে। একজন ভোটার সর্বোচ্চ আটটি ভোট দেবে। প্রত্যেক শ্রেণিতে একটি করে এবং যেকোনো তিন শ্রেণীতে সর্বোচ্চ দুটি করে ভোট দিতে পারবে। প্রতি শ্রেণি থেকে একজন করে প্রতিনিধি নির্বাচিত হবে। পাঁচ শ্রেণিতে পাঁচজন নির্বাচনের পর তাদের মধ্য হতে সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত তিনজন নির্বাচিত হবে।

বিধান অনুসারে এবারো নির্বাচনী প্রচারের জন্য কোনো রকম ছাপানো পোস্টার, ফেস্টুন, লিফলেট ব্যবহার ও দেয়াল লিখন করা যাবে না। তবে শিক্ষার্থীদের হাতে লেখা পোস্টার, ফেস্টুন, লিফলেট ব্যবহার করতে পারবে। প্রতিষ্ঠানের সীমানা বা চত্বরের বাইরে প্রচার করা যাবে না। নির্বাচন পরিচালনার জন্য শিক্ষার্থীদের নিয়েই তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে।

প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং সহকারী শিক্ষকরা দশম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অষ্টম ও নবম শ্রেণির একজন করে দুজন শিক্ষার্থীকে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে মনোনীত করবেন। নির্বাচন ও এ সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধান প্রয়োজনে একজন সহকারী শিক্ষককে সমন্বয়কারী হিসেবে নিয়োগ দিতে পারবেন। প্রয়োজনীয়সংখ্যক ভোটকক্ষ স্থাপন করে গোপনীয়তার সঙ্গে ভোট প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।

নির্বাচিত প্রতিনিধিদের আটটি কার্যক্রম দেখভালের দায়িত্ব দেয়া হয়। সেগুলো হলো- পরিবেশ সংরক্ষণ (বিদ্যালয়, আঙিনা ও টয়লেট পরিষ্কার এবং বর্জ ব্যবস্থাপনা); পুস্তক ও শিখন সামগ্রী, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি এবং সহপাঠ কার্যক্রম; পানি সম্পদ; বৃক্ষ রোপণ ও বাগান তৈরি; দিবস ও অনুষ্ঠান উদযাপন এবং অভ্যর্থনা ও আপ্যায়ন; আইসিটি। এ কেবিনেট মাসে কমপক্ষে একবার করে সভা করে। ছয় মাস পর পর সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতিতে সাধারণ সভা করবে।

মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান বলেছেন, শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি শিশুকাল থেকেই গণতন্ত্রের চর্চা, সহনশীলতা ও মূল্যবোধ তৈরির উদ্দেশেই সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে ‘স্টুডেন্টস কেবিনেট’ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। ভবিষ্যতে তারাই এ দেশ গড়ে তুলবে, পরিচালনা করবে। এজন্য তাদের এখন থেকেই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, অন্যের মতের প্রতি সহনশীলতা চর্চার প্রয়োজন রয়েছে।

আজকের ময়মনসিংহ
আজকের ময়মনসিংহ
এই বিভাগের আরো খবর