ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিববঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’

রোববার   ১৭ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২ ১৪২৬   ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

আজকের ময়মনসিংহ
২৪

‘সূরা ফাতেহা সর্ব রোগের ওষুধ’

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮ নভেম্বর ২০১৯  

সূরা ফাতিহা একদিক দিয়ে সমগ্র কোরআনের সার সংক্ষেপ। এ সুরায় সমগ্র কোরআনের সারমর্ম সংক্ষিপ্তাকারে বলে দেয়া হয়েছে। 

কোরআনের সবশিষ্ট সূরাগুলো প্রকারান্তরে সূরা ফাতিহারই বিস্তৃত ব্যাখ্যা। কারণ, সমগ্র কোরআন মূলত ঈমান এবং নেক আমলের আলোচনাতেই কেন্দ্রীভূত। আর এ দু’টি মূলনীতিই এ সূরায় সংক্ষিপ্তাকারেই বর্ণনা করা হয়েছে। তাফসীরে রুহুল মাআনী ও রুহুল বয়ানে এর বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। তাই এ সূরাকে সহীহ হাদিসে উম্মুল কোরআন, উম্মুল কিতাব, কোরআনে আযীম বলেও অভিহীত করা হয়েছে। (কুরতুবী)।

অথবা এজন্য যে, যে ব্যক্তি কোরআন তেলাওয়াত করবে তার জন্য এ মর্মে বিশেষ নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, সে যেন প্রথমে পূর্ব ঘোষিত যাবতীয় ধ্যান ধারণা অন্তর থেকে দূরীভূত করে একমাত্র সত্য ও সঠিক পথের সন্ধানের উদ্দেশ্যে এ কিতাব তেলাওয়াত করে এবং আল্লাহর নিকট এ প্রার্থনাও করে যে, তিনি যেন তাকে সিরাতে মুস্তাকীমের ওপর হেদায়েত দান করেন। 

হজরত রাসূলে করিম (সা.) এরশাদ করেন যে, যার হাতে আমার জীবন মরণ আমি তার শপথ করে বলছি, সূরা আল ফাতিহার দৃষ্টান্ত তাওরাত, ইনজিল, যাবুর প্রভৃতি অন্য কোনো আসমানী কিতাবে তো নেই এমনকী পবিত্র কোরআনেও এর দ্বিতীয় নেই। ইমাম তিরমিযি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, হুজুর (সা.) আরো বলেছেন যে, সূরায়ে ফাতিহা প্রত্যেক রোগের ওষুধ।

হাদিস শরিফে সূরা আল ফাতিহাকে সূরায়ে শেফাও বলা হয়েছে। (কুরতুবী)। বুখারী শরিফে হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূল (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘সমগ্র কোরআনে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ সূরা হচ্ছে, سورة الفاتحة সূরায়ে ফাতেহা।  (কুরতুবী, মাআরেফুল কোরআন-১)।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সা.) উবাই ইবনে কাব (রা.) এর নিকট গেলেন এবং তাকে ডাকলেন হে উবাই! উবাই (রা.) তখন নামাজরত ছিলেন। তিনি তার প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন কিন্তু জবাব দিলেন না।

সংক্ষেপে নামাজ শেষ করে তিনি রাসূল (সা.) এর নিকট গেলেন এবং বললেন, আসসালামু আলাইকুম ইয়া রাসূলুলাহ! রাসূল (সা.) বললেন, ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হে উবাই, আমি তোমাকে ডাকলাম কিসে তোমাকে জবাব দিতে বাধা দিল? তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমি তো নামাজে ছিলাম। তিনি বলেন, আল্লাহ আমার কাছে যে ওহী পাঠিয়েছেন তার মধ্যে তুমি কী এ হুকুম পাওনি যে রাসূল যখন তোমাদের এমন কিছুর দিকে ডাকেন যা তোমাদেরকে প্রাণবন্ত করে, তখন আল্লাহ ও রাসূলের ডাকে সাড়া দেবে। (আনফাল-২৪)। 
তিনি বলেন, হ্যাঁ। আর কোনো দিন এরুপ করব না ইনশাআলাহ! তিনি বলেন, তুমি কি চাও যে, আমি তোমাকে এমন একটি সূরা শিখাই যার মতো কোনো সূরা তাওরাত, ইনজিল, যাবুর এমনকী কোরআনেও নাজিল হয়নি? তিনি বলেন, হ্যাঁ ইয়া রাসূলুলাহ! রাসূলুলাহ (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, তুমি নামাজে কী পড়? তিনি উম্মুল কোরআন পাঠ করলেন, রাসূল (সা.) বলেন, যার হাতে আমার প্রাণ সেই সত্তার শপথ এ সূরার মতো মর্যাদা সম্পন্ন কোনো সূরা তাওরাত ইনজিল যাবুর এমনকী কুরআনেও নাজিল করা হয়নি। আর এটি বারবার পঠিত সাতটি আয়াত সম্বলিত সূরা এবং মহান কোরআন যা আমাকে দেয়া হয়েছে।  (তিরমিযি-২ : ১১৫)।

সূরায়ে ফাতিহার অবতরণ যেখানে:
সূরায়ে ফাতেহা কোথায় নাজিল হয়েছে এ নিয়ে মুফাসসিরীনদের মাঝে মতবিরোধ রয়েছে। কাজী সানাউলাহ পানিপথি বলেন, সূরায়ে ফাতেহা মক্কাতে নাজিল হয়েছে। তাফসীরে মাদারেকুত তানজিলের লেখক বলেন, সূরায়ে ফাতেহা মক্কা ও মদিনা উভয় স্থানে নাজিল হয়েছে। কাজী বায়জাবী বলেন, সূরায়ে ফাতেহা মক্কায় নাজিল হয়েছে যখন নামাজ ফরজ হয় আর মদিনায় নাজিল হয়েছে যখন কিবলা পরিবর্তন হয়। কিন্তু বিশুদ্ধ হলো যে, সূরায়ে ফাতেহা মাক্কী সূরা। কেননা আল্লাহ তায়ালা বলেন, وَلَقَدْ اَتَيْنَأ سَبْعًا مِّنَ الْمَثَانِىْ আমি আপনাকে সাবয়ে মাসানী দান করেছি। সাবয়ে মাসানী হলো সূরায়ে ফাতেহার অপর নাম। আর এ আয়াতটি সর্বসম্মতিক্রমে মাক্কী। অতএব, বুঝা গেল সূরা ফাতিহা মাক্কী সূরা। আবার কেউ কেউ বলেন, সূরায়ে ফাতেহা অর্ধেক নাজিল হয়েছে মক্কায়, অর্ধেক নাজিল হয়েছে মদিনায়।

সূরায়ে ফাতিহার নামসমূহ:
১। আল্লামা সুয়ুতি (র.) الاتقان নামক কিতাবের মধ্যে সূরা ফাতেহার ২০টি নাম উল্লেখ করেছেন।

২। আল্লামা আব্দুলাহিল কাফি আল কুরাইশি তার তাফসীরে মধ্যে সূরা ফাতেহার ২৩টি নাম উল্লেখ করেছেন।

৩। আল্লামা বাগবি বলেন, সূরা ফাতিহার প্রসিদ্ধ নাম ৩টি-
(১) سبع المثانى সাবউল মাসানী।

(২) ام القران উম্মুল কোরআন।

(৩) فاتحة الكتب ফাতিহাতুল কিতাব।

فاتحة الكتاب ফাতেহা অর্থ উদ্বোধন করা বা শুরু করা। যেহেতু সূরা ফাতেহা দ্বারা কোরআন উদ্বোধন করা হয়েছে সে জন্য এই সূরাকে ফাতেহাতুল কিতাব (فاتحة الكتب) বলা হয়।

উম্মুল কিতাব, উম্মুন অর্থ আসল বা মূল। যেহেতু এই কোরআনে যা কিছু আলোচনা করা হয়েছে তা সংক্ষিপ্ত আকারে এই সূরাতে বর্ণনা করা হয়েছে।

উম্মুল কোরআন অর্থাৎ কোরআনের মূল। যেহেতু এই কোরআনে যা কিছু আলোচনা করা হয়েছে তা সংক্ষিপ্ত আকারে এই সূরায় বর্ণনা করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে ইমাম রাগেব ইস্পাহানী বলেন, এই সূরাকে উম্মুল কোরআন এই জন্য বলা হয় এর মাধ্যমে কোরআনের সূচনা হয়েছে। ইমাম খাজিন (রা.) বলেন, এই সূরাকে এই জন্য কোরআন বলা হয় যেহেতু এই সূরা পবিত্র কোরআনের মূল। আর প্রত্যেক জিনিসের মূলকে উম্মুন বলা হয়। আল্লামা ইমাম বায়জাবি (র.) বলেন, এই সূরাকে উম্মুল কোরআন এজন্য বলা হয়, যেহেতু এই সূরা পবিত্র কোরআনের মুখ ও কান বা বুনিয়াদ স্বরূপ। ফলে এই সূরাটি যেন আল কোরআনের মূল এবং উৎপত্তিস্থলে পরিণত হলো।

আল্লামা ইমাম মাওয়ারিদ (রহ.) বলেন, ইহা কোরআনের অগ্রগামী সূরা আর অন্য সকল সূরা এর অনুসারী হওয়ার কারণে এটাকে উম্মুল কোরআন বলা হয়। যেমন যুদ্ধের পতাকাকে উম্মুন বলা হয়। কারণ এটা সবার আগে থাকে আর সৈনিকরা ইহাকে অনুসরণ করে চলে। ঠিক তেমনিভাবে মক্কা নগরীকে উম্মুল কুরা বলা হয় যেহেতু ইহা পৃথিবীর প্রথম জনপদ। হাদিস শরিফে এ সূরাকে উম্মুল কোরআন বলা  হয়েছে। যেমন আল্লামা ইবনে জারীর আত তাবারী (রহ.) আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল (সা.) বর্ণনা করেন, সূরা ফাতিহা ইহা উম্মুল কোরআন অর্থাৎ কোরআনের মা।

৪। السبع المثانى সাবয়ে মাসানী নামকরণের ব্যাপারে ওলামায়ে কেরাম বিভিন্ন রায় পেশ করেছেন। (১) মাসানী অর্থ দ্বিতীয় আর যেহেতু কোরআনের সাত আয়াত বিশিষ্ট সূরা দু’টি প্রথমটি সূরায়ে মাউন দ্বিতীয়টি সূরা ফাতিহা। এজন্য ইহাকে সাবয়ে মাসানী বলা হয়। (২) মাসানী অর্থ বারবার পাঠ করা। যেহেতু এ সূরাটি নামাজের মধ্যে বারবার পাঠ করা হয় এজন্য তাকে সাবয়ে মাসানী বলা হয়। (৩) মাসানী অর্থ দুই যেহেতু এই সূরা দুইবার অবতীর্ণ হয়েছে এজন্য তাকে সাবয়ে মাসানী বলা হয়। (৪) কেউ কেউ বলেন মাসানী ثنى থেকে নির্গত। অর্থ প্রশংসা। যেহেতু এ সুরাতে আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা কারা হয়েছে এজন্য এ সূরাকে সাবয়ে মাসানী বলে। (৫) মাসানী ইহা ইসতেসনা হতে নির্গত। ইসতেছনা মানে আলাদা বা ব্যতিক্রমধর্মী। যেহেতু আল্লাহ পাক সূরা ফাতেহাকে এই উম্মতের জন্য আলাদা করে রেখেছেন এবং এই উম্মতের ওপর অবতীর্ণ করেছেন। অন্য উম্মতের জন্য অবতীর্ণ করেননি। এজন্য এ সূরাকে সাবয়ে মাসানী বলা হয়। কোরআন এর মধ্যেও এই সূরায়ে সাবয়ে মাসানী বলা হয়েছে। যেমন আল্লাহ বলেন وَلَقَدْ اَتَيْنَأكَ سَبْعً مِنَ الْمَثَانِىْ হাদিসও ইহাকে সাবয়ে মাসানী বলা হয়েছে।

৫। سورة الشفاء মালেক ইবনে উমায়ের (র.) বলেন, রাসূল (সা.) এরশাদ করেন- فاتحة الكتاب شفاء لكل داء সুরা ফাতেহা সর্ব রোগের ওষুধ।

৬। سورة الحمد প্রশংসার সূরা। যেহেতু এই সূরাকে আল্লাহ পাকের প্রশংসার দ্বারা শুরু করা হয়েছে এজন্য তাকে سورة الحمد বলে।

৭। سورة الوافية পূর্ণতা প্রাপ্ত সূরা অর্থাৎ সূরা ফাতেহা পড়লে পূর্ণ সূরা পড়তে হবে আংশিক পড়লে চলবে না। ইমাম ثعلبى (র.) বলেন, অন্যান্য সূরা আংশিক পড়া যেতে পারে কিন্তু যদি সূরায়ে ফাতেহা আংশিক পড়ে তাহলে নামাজ বাতিল হয়ে যাবে। ইমাম সুফিয়ান ইবনে সালাবী (রহ.) বলেন, পুরো কোরআনের মধ্যে যে সকল বিষয় বস্তুর আলোচনা করা হয়েছে। অত্র সূরায় তৎসমূহের সারাংশ উল্লেখিত হয়েছে।

৮। سورة النور হজরত আব্দুলাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, একবার দুইজন ফেরেশতা রাসূল (সা.) এর খেদমতে উপস্থিত হলেন এবং বললেন, আপনি এমন দু’টি নূরের সুসংবাদ গ্রহণ করুন যা একমাত্র আপনাকে  দেয়া হয়েছে। আপনার পূর্বে কোনো নবীকে দেয়া হয়নি। (১) سورة الفاتحة (২) سورة البقرة এর শেষ কয়েক আয়াত।

৯। سورة الكنز ধন ভান্ডারের সূরা। ইকলিল নামক কিতাবের মধ্যে হাদিসে কুদুসী বর্ণিত আছে, আল্লাহ পাক বলেন,
فاتحة الكتاب كنز من كنوز عرش

অর্থাৎ: ‘ফাতেহাতুল কিতাব আমার আরশের ধন ভান্ডারের একটি’।

আল্লামা আমিমুল ইহসান (র.) বলেন, পুরো কোরআনের মধ্যে ৪টি মৌলিক বিষয় আলোচনা করা হয়েছে। এই ৪টি বিষয় সংক্ষিপ্ত আকারে এই সূরাতে বর্ণিত হয়েছে।

১০। سورة الراقية ঝাড় ফুকের সূরা প্রসঙ্গে আবু সাঈদ খুদুরী (রা.) বলেন, একবার আমরা কোনো স্থানে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ ওই এলাকার এক নেতাকে সাপে দংশন করলে আমাদের মধ্য হতে জনৈক ব্যক্তি সূরায়ে ফাতেহা পড়ে তার ওপর দম করলে সে সুস্থ হয়ে গেল। এর বিনিময়ে সে আমাদেরকে ত্রিশটি বকরি ও প্রচুর দুধ উপহার দেয়। আমরা এগুলো নিয়ে হুজুর (সা.) এর খেদমতে উপস্থিত হলাম এবং পুরা ঘটনা বর্ণনা করলাম। হুজুর (সা.) খুশি হয়ে বললেন, ইহা যে ঝাড় ফুকের সূরা তোমরা ইহা কীভাবে জানলে? অতঃপর হুজুর (সা.) দুধ ও বকরীর গোস্ত ভক্ষণ করলেন। এই হাদিস দ্বারা বুঝা যায় এই সূরাটি সূরায়ে রকেয়া এবং ইহা বুঝা গেল ঝাড় ফুকের বিনিময়ে গ্রহণ করা জায়েজ আছে। 

১১। القران العظيم মহান কোরআন। যেহেতু পুরা কোরআনের মধ্যে যা কিছু আছে তা সংক্ষিপ্ত আকারে সূরা ফাতেহার মধ্যে বর্ণনা করা হয়েছে। এজন্য এই সূরাকে القران العظيم বলে।

১২। اساس القران কোরআনের ভিত্তি। এই প্রসঙ্গে ইমাম শাবী (রহ.) বলেন, পুরো ৩০ পারা কোরআন এর মধ্যে যে পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা পেশ করা হয়েছে। তার ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে এই সূরার বর্ণিত কয়েকটি আয়াতের মধ্যে। তাই এই সূরাকে বলা হয় اساس القران।

১৩। سورة الراس কোরআনের মগজ। যেহেতু এই সূরা পুরো কোরআনের মগজ এজন্য ইহাকে سورة الراس বলা হয়। 

১৪। سورة الشكر কৃতজ্ঞতার সূরা। যেহেতু এই সূরার মধ্যে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়েছে এজন্য ইহাকে سورة الشكر বলা হয়।

১৫। سورة الكفاية যথেষ্ট। যেহেতু এই সূরা অন্যান্য সূরার পক্ষ থেকে যথেষ্ট এজন্য এই সূরাকে سورة الكافية বলা হয়। 

১৬। سورة الدعاء যেহেতু এই সূরার মধ্যে সিরাতে মুসতাকিমের জন্য দোয়া করা হয়েছে। এজন্য এই সূরাকে سورة الدعاء বলা হয়েছে।

১৭। سورة السوال প্রার্থনার সূরা। যেহেতু এই সূরার মধ্যে বান্দা সিরাতে মুসতাকিমের জন্য প্রার্থনা করে এই জন্য এই সূরাকে سورة السوال বলা হয়।

১৮। سورة تعليم المسئلة চাওয়ার পদ্ধতি শিক্ষা দেয়ার সূরা। যেহেতু এই সূরার মধ্যে প্রার্থণা করার বা চাওয়ার পদ্ধতি শিক্ষা দেয়া হয়েছে এজন্য এই সূরাকে سورة تعليم المسئلة বলা হয়। 

১৯। سورة المناجات মুনাজাতের সূরা। যেহেতু এই সূরার মধ্যে বান্দা সিরাতে মুসতাকিমের জন্য দোয়া করে এজন্য এই সূরাকে سورة المناجات বলা হয়।

২০। سورة التفويض আত্ম সমর্থন করার সূরা। যেহেতু এই সূরার মধ্যে বান্দা اياك نعبد واياك نستعين এর মাধ্যমে আল্লাহর সামনে আত্মসমর্থন করে। এজন্য এই সূরাকে سورة التفضيد বলে।

২১। سورة الصلاة যেহেতু এই সূরা নামাজের মধ্যে পড়া হয় এজন্য এই সূরাকে سورة الصلاة বলা হয়। এ প্রসঙ্গে আল্লামা সাইয়েদ কুতুব (র.) বলেন, لا تقوم  الصلاة بغير عن رسول الله صلعم من حديث عبادة بن صامة

যেহেতু এই সূরা ব্যতিত নামাজ সহিহ হয় না। বুখারী ও মুসলিম শরিফের মধ্যে উবাদা ইবনে সামেত (রা.) থেকে বর্ণিত। হুজুর (সা.) বলেন, لا صلاة لمن لم يقرأ بفاتحة الكتاب অর্থাৎ যে সূরা ফাতিহা পড়েনি তান নামাজ হয় নি। হজরত আব্দুল কাদের জিলানী (র.) বলেন, এই সূরাকে سورة الصلاة এজন্য বলা হয় যে, فان قرائتها فريضة وهى ركن ونبطل الصلاة بتركها উহার কেরাত ফরজ উহা একটি রোকন উহা ছেড়ে দেয়ার কারণে নামাজ বাতিল হয়ে যাবে।

আজকের ময়মনসিংহ
আজকের ময়মনসিংহ
এই বিভাগের আরো খবর