ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিববঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’
  • বুধবার   ১২ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ২৭ ১৪২৭

  • || ২২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

আজকের ময়মনসিংহ
১৩৭

সপ্তাহের সাতদিনের ৭ নাম যেভাবে এলো!

আজকের ময়মনসিংহ

প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারি ২০২০  

সপ্তাহের সাতটি দিনের রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন নাম। নিশ্চয় তা কারো কাছেই অজানা নয়। শনিবার থেকে শুরু হয়ে শুক্রবারে এসে শেষ হয় সপ্তাহটি। প্রতিটি দিনই মানুষের জীবনে নিয়ে আসে নতুন নতুন মুহূর্ত, নতুন নতুন ঘটনা।

তবে কখনো কি মনে প্রশ্ন জেগেছে, কীভাবে করা হলো এই সাত দিনের নাম? ডেইলি বাংলাদেশের আজকের আয়োজনে থাকছে সপ্তাহের সাতদিনের নামকরণের ইতিহাস। দেরি না করে চলুন তবে জেনে নেয়া যাক, সাতদিনের ৭ নাম যেভাবে এলো।

সপ্তাহের সাত দিনের নামের প্রচলন যেভাবে এলো
পূর্বের সমাজে দেব-দেবীদের প্রভাব ছিল অনেক বেশি। তখনকার মানুষ দিন শুরু করতো দেবতার নাম নিয়ে, দিন শেষ করতো তাদের স্মরণ করে। তাদের প্রাত্যাহিক জীবনের সঙ্গে ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকতো দেবতারা। তাই সপ্তাহের সাতটি দিনের নামকরণও করা হয় তাদের স্মরণ রেখে। একে তারা শুভ বলে মনে করেছিল।

 

সাত দিনের সাত নাম

সাত দিনের সাত নাম

শনিবার
এই দিনটিকে ‘স্যাটার্ন’স ডেও বলা হয়ে থাকে। শৌর্য-বীর্যের প্রতীক, রোমান দেবতা স্যাটার্ন এর নামানুসারে এই দিনের নামকরণ করা হয়। রোমান সাম্রাজ্যের লোকেরা বিশ্বাস করতো, ‘স্যাটান’ নামের একজন দেবতা আছেন। যিনি খুশি হলে ভালো ফসল দেন কৃষকদেরকে। তার হাতেই আবহাওয়া ভালো বা খারাপ করার শক্তি আছে। তাই তার সম্মানে তারা সপ্তাহের একটি দিনের নাম রাখেন ‘স্যাটনি ডেইজ’। সেখান থেকেই আসে স্যাটার ডে। বাংলায় যা শনিবার।

রবিবার
গ্রীক ও ল্যাটিন শব্দ থেকে এই নামটির উদ্ভব। গ্রীক ও ল্যাটিন ভাষায় এই দিনটিকে বলা হয় সূর্যের দিন (সানডে)। সূর্য দেবতার স্মরণে রাখা হয় এই নাম। তবে অনেক অনেক দিন আগের কথা। আগেকার দিনের দক্ষিণ ইউরোপের বাসিন্দারা বিশ্বাস করতো একজন দেবতা রয়েছেন, যিনি শুধু আকাশে গোলাকার আলোর বল আঁকেন। আর ল্যাটিন ভাষায় তার নাম হলো ‘সলিছ’। তারা তাকে ডাকতো ‘সলিছ ডে’ বলে। তবে উত্তর ইউরোপের বাসিন্দারা তাকে ‘স্যানাল ডেইজ’ নামে ডাকতো। সেখান থেকেই সানডে শব্দটির উৎপত্তি। যা বাংলায় রবিবার।

সোমবার
মানডেকে মুন’স ডে বা চন্দ্রদিনও বলা হয়। চন্দ্র দেবীর নামে করা হয় এই নামকরণ। ল্যাটিন ভাষায় একে চন্দ্রের দিন বলে। রাতের বেলার আকাশের গায়ে রূপালী বল দেখে দক্ষিণ ইউরোপের লোকেরা একে ডাকতো ‘লুনা’ বলে। এটিও একটি ল্যাটিন শব্দ। তবে উত্তর ইউরোপের মানুষরা একে ডাকতো ‘মোনান ডেইজ’। সেখান থেকেই এসেছে মানডে। বাংলায় যা সোমবার।

মঙ্গলবার
এই দিনটির নামকরণ করা হয় ঈশ্বরের নামে। যুদ্ধ ও আকাশের দেবতা টিউ এর নামে দিনটির নামকরণ করা হয়। আগেরকার দিনে রোমানরা বিশ্বাস করতো টিউ নামে তাদের একজন দেবতা আছে, যিনি কিনা যুদ্ধ দেখাশোনা করেন। তাদের মতে, যারা টিউকে মেনে চলতো তাদেরকে টিউ যুদ্ধের ময়দানে সাহায্য করতো। আর যারা পরলোকগমন করেছে, তাদের বিশ্রামের জায়গা করে দিতে টিউ। একদল মহিলাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে পাহাড় থেকে নিচে নেমে আসতো সে। তারা একে ‘ডুইস’ বলে ডাকতো। সেই থেকে এসেছে টিউসডে। যা বাংলায় মঙ্গলবার।

 

সাত দিনের সাত নাম

সাত দিনের সাত নাম

বুধবার
ওডিন নামক একজন দেবতার নাম থেকে এই দিনের নামকরণ করা হয়। তার নামানুসারে একে ওডেন’স ডে-ও বলা হয়। দক্ষিণ ইউরোপের লোকেরা ভাবতো, দেবতাদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী হলে ‘উডেন’। একবার তিনি জ্ঞান আহরণ করতে যেয়ে নিজের এক চোখ হারান। সেই চোখটি তিনি তার লম্বা টুপি দিয়ে ঢেকে রাখতেন। তার আবার ছিল দুইটি পাখি, যারা তার গোয়েন্দা হিসেবে কাজ করতো। সেই পাখি দুইটা সারারাত পুরো পৃথিবীর ঘটনাবলী উডেনকে শোনাতো। এভাবেই উডেন পুরো পৃথিবীর খোঁজখবর রাখতো। এইজন্য লোকেরা বলতো ওয়েডনেস ডেইস। সেই থেকে এসেছে ওয়েডনেসডে। যা বাংলায় বুধবার।

বৃহস্পতিবার
এইদিনটির নামকরণ করা হয় বজ্র ও বিজলির দেবতা থরের নামে। এই দিনটিকে ল্যাটিন ভাষায় জুপিটার এবং গ্রীক ভাষায় জিউস বলা হয়। আগে মানুষ মনে করতো, বিদ্যুৎ চমকানো ও বজ্রপাতের পেছনে রয়েছে ‘থর’ নামের এক দেবতা। তাদের মতে থর যখন রাগান্বিত হন, তখন তিনি তার ছাগলের গাড়িতে বসে আকাশের দিকে নিজের হাতুড়ি নিক্ষেপ করেন। ছাগলের গাড়ির চাকার শব্দ হচ্ছে বজ্রপাত ও হাতুড়ির আঘাতে সৃষ্ট শব্দটি হচ্ছে বিদ্যুৎ চমকানোর শব্দ। থরের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য তারা সপ্তাহের একটি দিনের নাম রাখেন ‘থার্স ডেইস’। সেই থেকে এসেছে থার্স ডে। বাংলায় যা বৃহস্পতিবার।

শুক্রবার
ভালোবাসা, বিয়ে এবং উর্বরতার দেবী ফ্রিগ’র নামে এই দিনটির নামকরণ করা হয়। পুরাণমতে, ওডিন নামের একজন দেবতা ছিলেন। আর তার স্ত্রী ছিলেন ফ্রিগ। তিনি ছিলেন প্রকৃতি, ভালোবাসা ও বিবাহের দেবী। ওডিনের পাশে সবসময় তার স্ত্রী ফ্রিগ থাকতেন। তারা একসঙ্গে পৃথিবীকে দেখতেন এবং প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতেন। তাই সপ্তাহের একদিনের নাম রাখা হয় ‘ফ্রিগ ডেইজ’। সেখান থেকেই এসেছে ‘ফ্রাইডে’। বাংলায় যা শুক্রবার।

ইত্যাদি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর