ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিববঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’

মঙ্গলবার   ২২ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৬ ১৪২৬   ২২ সফর ১৪৪১

আজকের ময়মনসিংহ
৩০

শিশু যৌন নিপীড়ন নিয়ে প্রচলিত ৬টি ভুল ধারণা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

আজকাল আমাদের সমাজে শিশু যৌন নিপীড়নের মতো একটা নির্মম, নোংরা আর ভয়ংকর অপরাধ দিন দিন বেড়েই চলেছে। তাই নিজের সন্তানদের প্রতি আরো বেশি সচেতন হতে হবে। কিন্তু অনেক মা-বাবারই শিশু যৌন নিপীড়ন নিয়ে কিছু ভুল ধারণা আছে। যা সন্তানদের আরো বেশি বিপদের মুখে ঠেলে দেয়।
কিছু অমানুষদের হাত থেকে সন্তানকে রক্ষা করার জন্য আমাদেরকে একটু সাবধান থাকতেই হবে। যথাসম্ভব কোমল ও সুন্দর করে সাবধান করতে হবে আমাদের সন্তানদেরও। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক শিশুদের যৌন নিপীড়ন নিয়ে প্রচলিত বেশ কিছু ভুল ধারণা সম্পর্কে-

১. ছেলে শিশুরা নিপীড়নের শিকার হয় না
যৌন নিপীড়ন শব্দটা শুনলেই আমাদের মাথায় সবার আগে কিন্তু মেয়েদের কথাই আসে। আমরা ধরেই নেই যে কেবল মেয়ে শিশুরাই নিপীড়নের শিকার হতে পারে। ছেলেদের উপর এই কালো ছায়াটা পড়ে না। কিন্তু আমাদের পাশের দেশ ভারতের একটা গবেষণায় উঠে এসেছে, প্রায় ৫৩ শতাংশ ছেলে শিশুরা কোন না কোনভাবে যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। সত্যি বলতে একজন নিপীড়কের মানসিকতা এতটাই বিকৃত থাকে যে, তার কাছে ছেলে বা মেয়ে কোন তফাৎ তৈরি করে না। সে সুযোগ খোঁজে সবসময়। সুতরাং আপনার মেয়ে শিশুর পাশাপাশি ছেলে শিশুকেও অবশ্যই নিপীড়ন সম্পর্কে সচেতন করবেন।
২. পরিবার ও পারিবারিক পরিচিতরা শিশুর জন্য নিরাপদ
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিউটের সাইকিয়াট্রিক ডাঃ হেলাল উদ্দিন আহমেদের একটি গবেষণায় উঠে এসেছে, আমাদের দেশের যৌন নিপীড়নের শিকার শিশুদের ৭৫ শতাংশই হয় পারিবারিক ঘনিষ্ঠজন দ্বারা। নিপীড়ক যে কেউ হতে পারে। সাধারণত এই ধরণের লোককে বাইরে থেকে তেমন কিছু বোঝা যায় না। কিন্তু সুযোগ পেলেই এরা শিশুদের উপর এদের বিকৃত ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। পারিবারিক পরিচিত, বাসার ড্রাইভার, গৃহ পরিচায়িকা কিংবা আপনার কোন রুচিশীল আধুনিক বন্ধুও নিপীড়ক হতে পারে। পরিচিত মানুষদের প্রতি সন্তানের আচরণ পর্যবেক্ষণ করুন। কোন আচরণ আপনার কাছে অস্বাভাবিক মনে হলে সন্তানকে জিজ্ঞেস করুন।

৩. শুধুমাত্র পুরুষরাই নিপীড়ক হয়ে থাকে
এটা আরো একটি ভুল ধারণা। নিপীড়ক নারী পুরুষ যে কেউ হতে পারে। আরো পরিষ্কার করে বললে, মেয়ে শিশুরা নারী দ্বারা ও ছেলে শিশুরা পুরুষ দ্বারাও আক্রান্ত হতে পারে। হতে পারে এর ঠিক বিপরীতটাও। মনে রাখবেন, নারী, পুরুষ, সাদা, কালো, ধনী, গরিব, শিক্ষিত, অশিক্ষিত যে কারোর ভেতরই লুকিয়ে থাকতে পারে একজন নিপীড়ক।
৪. শুধু মাত্র নিম্নবিত্ত সমাজে শিশুরা যৌন নিপীড়নের শিকার হয়
নিন্মবিত্ত, উচ্চবিত্ত কিংবা মধ্যবিত্ত ইত্যাদি সামাজিক অবস্থার সাথে যৌন নিপীড়নের কোন সম্পর্ক নাই। একজন নিপীড়ক যে কোথাও থাকতে পারে। নোংরা বস্তিতে যেমন থাকতে পারে তেমনি থাকতে পারে বিলাস বহুল ভবনে সুন্দর ডেকোরেশন করা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুমেও। হ্যাঁ, উচ্চবিত্ত, আধুনিক, স্মার্ট যে কোনো সমাজেই বসবাস করতে পারে একজন নিপীড়ক।

৫. শিশুরা নিজেরাই নিপীড়ন বুঝতে পারে
একটা নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত শিশুরা যৌনতা সম্পর্কেই তেমন কিছু জানে না। সেখানে নিপীড়ন সম্পর্কে কীভাবে জানবে? আরেকটা মজার বিষয় হলো আমরা যৌনতাকে ট্যাবু করে কখনোই শিশুদের সঙ্গে যৌনতা নিয়ে সরাসরি কথা বলি না। ফলে শিশুরা জানেও দেরিতে, তাও অন্য কারোর মাধ্যমে, কিন্তু ভুল ভাবে। ফলে তারা যদি কারো কাছ থেকে নিপীড়নের শিকার হয় তা আপনাকে বলতেও পারে না। ফলে আপনি সাবধান হতে পারেন না। ঘটে যেতে পারে বড় কোন দুর্ঘটনা।

৬. শিশুদের সঙ্গে যৌন নিপীড়ন নিয়ে আলোচনা করলে তারা ভয় পাবে
হ্যাঁ। এই টপিকটা আপনাকে কিছুটা ভাবাতে পারে। কেন ভাবাতে পারে সেটাও বলি। শত শত বছর ধরে আমরা যৌনতা নিয়ে আমাদের সন্তানদের সঙ্গে কথা বলাকে অস্বাভাবিকভাবে দেখে আসছি। যার ফলে যৌনতা ও এর সঙ্গে সম্পর্কিত যেকোনো কিছুকেই আমরা অস্বাভাবিক ভেবে বসে থাকি। কিন্তু যদি আমরা সন্তানের সঙ্গে যৌনতা নিয়ে আলোচনা করতাম, সন্তান যদি যৌন শিক্ষাটা আমাদের কাছ থেকেই পেতো তাহলে এই ধারণার জন্ম নিতো না। 
প্রতিদিনই আমাদের সঙ্গে ছোট খাটো দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা তৈরি হয়, সেগুলোর জন্য আমরা সাবধানও থাকি। সাবধান করি সন্তানদেরও। অপহরণ, ছেলে ধরা, রাস্তায় সাবধানে হাঁটা, চুরি, ছিনতাই ইত্যাদি ইত্যাদি অন্যান্য দুর্ঘটনার মতো যৌন নিপীড়নকেও একটা স্বাভাবিক দুর্ঘটনা হিসেবে সন্তানের সামনে উপস্থাপন করুন। এতে বিষয়টা তার কাছেও স্বাভাবিক হবে। আর যৌনতা তার কাছে স্বাভাবিক হলেই সে আপনার সঙ্গে সবকিছু নিঃসংকোচে শেয়ার করবে।

যৌন নিপীড়ন সন্তানের সাথে ঘটে যাওয়া একটা কুৎসিত ও ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। এটা ঘটে নিরবে। অনেকে শিশুদের নানা ভাবে ভয় দেখায়, যেন শিশুরা বিষয়টা বাবা-মাকে না জানায়। শিশুরা বিষয়টা সম্পর্কে তেমন জানে না বলে বাবা-মাকেও জানাতে পারে না। সে নিজেও একটা ভয়, আতঙ্ক আর দোলাচলে থাকে। আর কড়া শাসনে রাখলেতো স্বাভাবিক বিষয়ই শিশুরা বাবা-মাকে জানাতে ভয় পায়। সেজন্য এই কুৎসিত কাজটি থেকে সন্তানকে রক্ষা করার জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে আলোচনা। যত বেশি সন্তানের সঙ্গে আলোচনা করবেন বিষয়টা তার কাছে তত স্বাভাবিক হবে। ফলে আপনার সন্তানের সঙ্গে এমন কিছু ঘটলে সবার আগে আপনাকেই তা বলবে।

আজকের ময়মনসিংহ
আজকের ময়মনসিংহ