ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিববঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’

শনিবার   ১৯ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৩ ১৪২৬   ১৯ সফর ১৪৪১

আজকের ময়মনসিংহ
১৬

রাতের আকাশে বিস্ময়কর এসব রঙ কিসের ইঙ্গিত দেয় জানেন কি?

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮ অক্টোবর ২০১৯  

রাত বলতে আমরা কি বুঝি? কালো অন্ধকারে ঘেরা আকাশ নাকি শুধুই নিস্তব্ধতা? রাত মানেই কি রোমাঞ্চের বিরতি? শুধুই কি বিশ্রাম আর ঘুম? বিস্ময়ের অবসান? পৃথিবীর রহস্যময় এই আকাশের নীচে এসে দাঁড়ালে আপনার রাত সম্পর্কে ধারণাই সম্পূর্ণই বদলে যাবে! 

যেখানে রাতেই বিস্ময়ের শুরু হয়। সেখানে রাতের আকাশ সাজে রঙিন আলোর ফোয়ারায়। কি ভাবছেন? রাতের আকাশে রঙিন আলোর সন্ধান কি পাওয়া আদৌ সম্ভব? হ্যাঁ, সম্ভব। তবে চলুন জেনে নেয়া যাক, রাতের রঙিন আকাশের দেশগুলো ও রঙিন হওয়া আকাশের রহস্য সর্ম্পকে-

যে কারণে রাতের আকাশ রঙিন হয়?

পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর জিনিস কোনটি, এ নিয়ে বিতর্ক থাকলেও আকাশের সুন্দরতম জিনিস কোনটি, এ প্রশ্নে ‘মেরুপ্রভা’ ব্যতীত কোনো উত্তর আসা অষ্টমাশ্চর্য। রাতের শেষভাগে উত্তর গোলার্ধ বা দক্ষিণ গোলার্ধের প্রান্ত ছোঁয়া দেশগুলোর আকাশে প্রায়ই দেখা যায় এই স্বর্গীয় হোলি। মেরুপ্রভা শুরুতে আকাশে আবির্ভূত হয় কয়েকটি রঙের বর্ণালীতে, যেগুলো ধনুকের মতো বাঁকা। হাতে বানানো বায়োস্কোপে কাগজের নকশাগুলো যেমন বারবার পরিবর্তিত হতে থাকে।

তেমনি আবির্ভাবের পর মেরুপ্রভাতেও রঙগুলো এক হতে থাকে, কিন্তু সেকেন্ডে সেকেন্ডে পাল্টাতে থাকে নকশা। রঙগুলো তখন একটি অন্যটির সঙ্গে যেভাবে মেশে, তাতে আপনার মনেই হতে পারে কোনো আকাশের প্যালেটে এক নিপুণ শিল্পী তুলিতে নানা রঙ মাখিয়ে জলেতে গুলছেন। মেরুপ্রভার নড়নচড়ন কখনো ঢেউয়ের মতো তরঙ্গাকারে কম্পমান, আবার কখনো সাইক্লোনের বায়ুকুণ্ডলীর মতো ঘূর্ণায়মান। কখনো মেরুপ্রভার রঙগুলো একত্রে পাক খায়। কখনো আবার পুরো আকাশে লালিমার মতো ছড়িয়ে যায়। আবার দ্রুতগামী স্প্রে-রঙের মতো বিক্ষিপ্তভাবে ছিটিয়ে যায়।

রাতের আকাশে আলোর ছটা

রাতের আকাশে আলোর ছটা

মেরুপ্রভার বাহারি ধরন ও নাম

একটি ব্যাপার লক্ষণীয়। মেরুপ্রভার রঙের বৈচিত্র্যের মতো এর নামকরণ ও ধরনেও রয়েছে বিচিত্র মোহময়তা। মেরুপ্রভার কার্যকারণ ১৯ শতকের শেষ দশকে ক্রিস্টিয়ান বার্কেল্যান্ড আবিষ্কার করলেও এর নামকরণ হয় অনেককাল আগে। ইতালিয়ান জ্যোতির্বিজ্ঞানী গ্যালিলি মেরুপ্রভার নামকরণ করেন ‘অরোরা’ বা ‘ভোরের দেবী’। ইংরেজির ব্যবহারে অনেক সময় আমরা মেরুপ্রভাকে ‘অরোরা’ না বলে বলি ‘নর্দার্ন লাইটস’। 

আসলে নর্দার্ন লাইটস হচ্ছে মেরুপ্রভার কেবল একটা প্রকরণ। মেরুপ্রভা দেখা যায় দুই মেরুতেই, আর দুই মেরুর জন্য এর আছে ভিন্ন ভিন্ন নাম। উত্তর বা সুমেরুরটাকে বলে ‘অরোরা বোরেয়ালিস’ বা ‘নর্দার্ন লাইটস’ এবং দক্ষিণের বা কুমেরুরটাকে বলে ‘অরোরা অস্ট্রালিস’ বা ‘সাউদার্ন লাইটস’। বাংলা অভিধানে এগুলোর রয়েছে চমৎকার বাংলা প্রতিশব্দ, উদীচী ঊষা ও অবাচী ঊষা। একেক রঙের মেরুপ্রভার আবার রয়েছে অঞ্চলভেদে একেক রকম নাম, যদিও সেসব নামকরণ স্বীকৃত কিছু নয়।

আকাশে বিভিন্ন রঙ

আকাশে বিভিন্ন রঙ

মেরুপ্রভাকে নিয়ে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

সূর্যের অভ্যন্তরে তাপ এতোটাই যে সেখানে পদার্থের চারটি অবস্থা দেখা যায়- কঠিন, তরল, বায়বীয় ও প্লাজমা। প্লাজমার ভেতর চার্জিত ইলেক্ট্রন ও প্রোটন মুক্তভাবে বিচরণ করে। প্লাজমার সেই আয়নে এতোই বেশি পরিমাণ শক্তি থাকে, যে তা সূর্যের প্রবল মহাকর্ষিক ক্ষেত্র অতিক্রম করে বেরিয়ে যেতে পারে এবং ভীষণ বেগে ধাবিত হয় পৃথিবীর দিকে। এটিই সৌরবায়ু। 

এই সৌরবায়ু আবার স্বয়ং এক চৌম্বকক্ষেত্র তৈরি করে, যা পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রের কাছে এলে বাধাপ্রাপ্ত হয়। মোটের তুলনায় সৌরবায়ুর অল্প সংখ্যক চার্জিত ইলেক্ট্রন। যাদের চৌম্বকক্ষেত্র পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রের প্রতি সমান্তরাল অবস্থানে আসে, তারাই বাধা অতিক্রম করে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করতে পারে। এক্ষেত্রে সব থেকে সুবিধাজনক স্থান হচ্ছে পৃথিবীর দুই মেরু।

এ প্রবেশের সময় ইলেক্ট্রনের স্রোত স্প্রিংয়ের মতো পাক খায়। প্রবেশের পর বায়ুমণ্ডলের অক্সিজেন ও নাইট্রোজেনের সাথে সংঘর্ষ ঘটে চার্জিত ইলেক্ট্রনের। নীলস বোরের তত্ত্ব অনুযায়ী, সংঘর্ষের ফলে শক্তির গ্রহণ-নির্গমনে ইলেক্ট্রনের গতিশক্তি আলোকশক্তিতে পরিণত হয়। কোটি কোটি ইলেক্ট্রন দ্বারা এভাবে বিচ্ছুরিত আলোকরশ্মিই আমরা মেরুপ্রভারূপে দেখতে পাই।

আকাশ থেকে রং উপচে পড়ছে

আকাশ থেকে রং উপচে পড়ছে

বিকিরিত রশ্মির রঙ কী হবে, তা নির্ভর করে দু’টি প্রশ্নের ওপর –

(১) কোন পরমাণুর সঙ্গে সংঘর্ষ হচ্ছে এবং
(২) কত উচ্চতায় সংঘর্ষ হচ্ছে।

মেরুপ্রভাকে নিয়ে কল্পকাহিনী

বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা না জানায় মেরুপ্রভাকে স্বাভাবিকভাবেই অতিপ্রাকৃতিক ভেবে যুগে যুগে জন্ম নিয়েছে অজস্র মিথ বা কল্পকথার। প্রাচীন গ্রিক ও রোমানরা ভোরের দেবীকে অরোরা বা মেরুপ্রভা মনে করতো। গ্রিকরা বিশ্বাস করতো, অরোরা হলো সূর্যদেবতা হেলিওস ও চন্দ্রদেবতা সেলাইনের বোন। শেষ রাতে বাহারি রঙের দীপ্তি নিয়ে সে তার ভাই সূর্যকে জাগাতে আসে। দক্ষিণ ইউরোপে সচরাচর মেরুপ্রভা দেখা যেতো না। অল্পবিস্তর যা দেখা যেতো, সেটা নিয়েও ভয়ে ভয়ে থাকতো মানুষ।

কেননা সে অঞ্চলের লোকেরা একে ভাবতেন মহামারী/প্লেগ, দুর্ভিক্ষ বা যুদ্ধের আলামত। লোককথায় প্রচলিত আছে, ফরাসী বিপ্লবের কিছু আগে ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডে রক্তিম মেরুপ্রভা দেখা গিয়েছিল। ফরাসী বিপ্লবের পর ব্রিটিশরা সেই মেরুপ্রভাকে ভেবেছিল প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন শত্রুতা তৈরির আগাম সংকেত। চীনের পুরাণকথা অনুযায়ী, স্বর্গে দুষ্ট ও শিষ্ট ড্রাগনের আগুনে যুদ্ধের ফলাফলেই আকাশে দেখা যায় রঙিন এই আভা। জাপানের আদি সংস্কৃতিতে আজও মনে করা হয়, মেরুপ্রভার উদিত হবার রাতে যেসব শিশু গর্ভলাভ করে, তারা ঈশ্বরের বিশেষ আশীর্বাদপুষ্ট।

আদি অস্ট্রেলীয় বিশ্বাসমতে মেরুপ্রভা হলো দেবতা-নৃত্যের প্রতিরূপ। যুক্তরাষ্ট্রের আদিবাসিন্দা ক্রি ইন্ডিয়ানরা মনে করে, মেরুপ্রভা হলো মৃত আত্মাদের এক বিরাট জমায়েত। আকাশে আলোর রূপে ওভাবে তারা স্বজনদের দেখা দেন, কথা বলতে চান। এলগোনকুইন আদিবাসীরা ভাবেন, জগতস্রষ্টা নানাবোঝো আগুন জ্বালিয়ে তাদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে চাইছেন, মনে করিয়ে দিতে চাইছেন যে তিনি তাদের ভুলে যাননি। আলাস্কা না নুনাভিক দ্বীপের মানুষ ভাবতো মৃত আত্মারা বুঝি সিন্ধুঘোটকের খুলি দিয়ে খেলা করছে।

বিভিন্ন রঙের বাহার

বিভিন্ন রঙের বাহার

সূর্যগ্রহণ-চন্দ্রগ্রহণের সময় গর্ভাবস্থা-জন্মদান নিয়ে যেমন নানা সংস্কার-কুসংস্কার আছে, তেমনি আছে মেরুপ্রভার মূল জায়গা স্ক্যান্ডিনেভিয়াতে মেরুপ্রভাকে নিয়ে। আইসল্যান্ডে ভাবা হতো, মেরুপ্রভার দিকে তাকালে জন্মদানের সময় মায়ের কষ্ট কমে, কিন্তু সন্তান হয় ট্যারা। ফিনল্যান্ডে ভাবা হতো কোনো এক অগ্নিশেয়াল ছুটে যায় আকাশে, যার লেজ থেকে বেরোনো আলোকচ্ছটাই মেরুপ্রভা। বাল্টিক অঞ্চলে ভাবা হতো, কোনো পঙ্ক্ষীরাজ স্বর্গীয় অতিথিদের কোনো স্বর্গীয় জলসায় পৌঁছে দিচ্ছে।

কোথায় দেখতে পাবেন মেরুপ্রভাকে?

সুমেরুর মেরুপ্রভা বিশ্বজুড়ে বেশি জনপ্রিয় কুমেরুর মেরুপ্রভা থেকে। কেননা অস্ট্রেলিয়ান অঞ্চলের কিছু কিছু দ্বীপ (তাও কদাচিৎ) ছাড়া কুমেরুর মেরুপ্রভা বা সাউদার্ন লাইটস কেবল এন্টার্কটিকাতেই দেখা যায়, যেখানে জনবসতি শূন্য হওয়ায় সচরাচর কেউ যায় না। অন্যদিকে পুরো উত্তর আমেরিকা, গ্রিনল্যান্ড, স্ক্যান্ডিনেভিয়া, উত্তর ও পূর্ব ইউরোপে নর্দার্ন লাইটস দেখা যায়, যেখানে পর্যটনব্যবস্থা বেশ উন্নত। এজন্য মেরুপ্রভার অনেকটা সমার্থকই হয়ে গেছে ‘নর্দার্ন লাইটস’। নর্দার্ন লাইটস বা অরোরা বোরেয়ালিসের জন্য কিছু বিখ্যাত জায়গা হচ্ছে –

ফেয়ারব্যাঙ্কস, আলাস্কা, যুক্তরাষ্ট্র

এ যেন আকাশের বিশাল ক্যানভাসে শিল্পীর তুলির এলোমেলো আচরে আঁকা রঙ্গীন কোনো চিত্রকর্ম। বায়ুমন্ডলে বিভিন্ন গ্যাসীয় বিক্রিয়ার কারণে সৃষ্টি হয় এই রঙের উৎসবের। যেমন ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৫০ মাইলের ভেতর অক্সিজেনের সঙ্গে সংঘর্ষ হলে সেটির রং হবে হলুদ ও সবুজ; আর ১৫০ মাইলের ওপরে হলে হবে লাল। আবার ভূপৃষ্ঠ থেকে ৬০ মাইল অবধি উচ্চতায় নাইট্রোজেনের সাথে সংঘর্ষে বেগুনি, গোলাপি রঙের মেরুপ্রভা দেখা যায়; আর এর উর্ধ্বে হলে নীল। 

স্প্লিটি ভ্যালি, ভারত

আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের স্প্লিটি ভ্যালিতেই দেখা মিলবে মোহনীয় রাতের সেই দৃশ্য। হিমালয় এবিসের প্রত্যন্ত এলাকায় ছোট্ট, শান্ত প্রকৃতির অমোঘ লিলার এই ভান্ডারের অবস্থান। যেকোনো ধরণের আলোর দূষণ থেকে বহু বহু দূরে স্প্লিটির পরিষ্কার আকাশে তাঁরারা মেলে ধরে তাদের আসল রূপ। রাতের আকাশে পরিষ্কার দেখতে পাওয়া মিল্কি ওয়ে অবাক করে দেবে আপনাকে। এক মূহুর্তে যেন অনুভব করতে পারবেন মহাবিশ্বের বিশালতা।

লোফোটেন দ্বীপ, নরওয়ে

নরওয়ের দক্ষিণাঞ্চলের আকাশ রঙের যাদুকরি খেলা দেখার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত জায়গা। এখানে লফোটেন দ্বীপের ঝড়ো আকাশে ভেসে ওঠে রঙিন মনোমুগ্ধকর আলো। এখানকার তাপমাত্রা খুবই চমৎকার। তাই রাতের অন্ধকারে ঘন্টার পর ঘন্টা অনায়াসেই অপেক্ষা করতে পারবেন এই সুমেরুপ্রভা দেখার জন্য। লাল, বেগুনী, সবুজ আর হলুদের এমন দূর্দান্ত বিন্যাস একবার দেখার পর মনে হবে জীবন সার্থক, বেঁচে থাকা অর্থবহ।

রাতের আকাশে বাহারি রং

রাতের আকাশে বাহারি রং

তাসমানিয়া

অরোরা কোথায় বেশি আর্কষণীয়? তাসমানিয়ার উত্তরে নাকি দক্ষিণে? এই বিতর্কের নেই কোনো অবসান। কিন্তু এন্টার্ক্টিকার তাসমানিয়ার অরোরা বিশ্বের সবচেয়ে বেশী উচ্চ মাত্রার রঙের তরং তৈরি করে। উজ্জ্বল আলোরা যেন নেচে বেড়ায় এখানে। স্বচ্ছ আকাশে ভেসে ওঠে ছায়াপথ। দূরের আকাশ যেন কাছে নামতে নামতে ঘিরে ধরে চারপাশ থেকে। আবারো মনে পড়ে, মহাবিশ্ব কত বিশাল রহস্যের ভান্ডার।

স্টিউয়ার্ড আইল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড

নিউজিল্যান্ডের মাওরি জনগণের কাছে এই দ্বীপের আছে ভিন্ন নাম তার অনন্য বৈশিষ্টেরর জন্য। স্টিউয়ার্ড দ্বীপকে মাওরিরা বলে ‘রাকিউরা’। এর অর্থ হল, ‘প্রদীপ্ত আকাশ’। মানুষের স্বল্প বসতির কারণে আলোক দূষণ খুবই কম। তাই আকাশ পরিচ্ছন্ন। আর পরিচ্ছন্ন আকাশই অরোরার প্রকৃত রূপ দেখার জন্য আদর্শ। শীতকাল এখানে আসার সঠিক সময়। তাই ব্যাগ গুছিয়ে রাখুন, গ্রীষ্ম পেরোলেই বেড়িয়ে আসুন, ফিরে আসুন কখনোই ভোলা যায় এমন অভিজ্ঞতা নিয়ে।

চেরি স্প্রিং স্টেট পার্ক, যুক্তরাষ্ট্র

যখন সাড়া উন্নয়নশীল দেশগুলো তাদের অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার কারণে গ্রামে গঞ্জে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে পারছে না, সেই একই সময়ে উন্নত দেশগুলো মেতেছে অন্যরকম যুদ্ধে। এই যুদ্ধ কৃত্রিম আলোর বিরুদ্ধে। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে চেরি স্প্রিং স্টেট পার্কে তাই তৈরি করা হয়েছে ‘dark sky reserve zone’। এখানেই খালি চোখেই দেখতে পাবেন ১০ হাজারের বেশি তারা। আর সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, এখানে দাঁড়িয়ে আপনি যে আকাশ গঙ্গাটি দেখতে পাবেন তা এতই স্পষ্ট যে, তার ছায়া তৈরি হয়!

বিশ্বজুড়ে অন্যান্য অভিযাত্রীদের পাশাপাশি প্রেমী-যুগল ও নব বিবাহিত দম্পতিদের কাছে সেরা পর্যটক গন্তব্যের একটি হচ্ছে এই মেরুপ্রভা বা অরোরা। আকাশে রঙের মূর্চ্ছনা দেখতে দেখতে আপনাতে বিলীন হতে কে না চাইবে! ঠিক এ কারণেই শুধুমাত্র মেরুপ্রভার পর্যটনকে অবলম্বন করেই গড়ে উঠেছে শত শত পর্যটন কেন্দ্র। আপনিও ব্যাকপ্যাক করে শীতের সরঞ্জাম ভরে বা প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে উপভোগ করে আসতে পারেন মেরুর এ স্বর্গীয় জলসা।

আজকের ময়মনসিংহ
আজকের ময়মনসিংহ