ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিববঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’
  • বৃহস্পতিবার   ২২ এপ্রিল ২০২১ ||

  • বৈশাখ ৮ ১৪২৮

  • || ০৯ রমজান ১৪৪২

আজকের ময়মনসিংহ

রাঙামাটিতে নির্মিত হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ বুদ্ধমূর্তি

আজকের ময়মনসিংহ

প্রকাশিত: ২৪ মার্চ ২০২০  

দৃষ্টিসীমায় বিস্তৃত জলরাশি, দিগন্তে উদীয়মান কিংবা অস্তমিতপ্রায় সূর্য লাল আভার মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে চারধারে। ততক্ষণে আমরা পৌঁছে গেলাম জুরাছড়ি। লঞ্চ থেকে নেমেই মনে হলো, অপার সৌন্দর্যের এ লীলাভূমি না দেখলে জীবনে বড় একটা অপূর্ণতা থেকে যাবে! তারওপর এখানেই নিমির্ত হচ্ছে দেশের সবচেয়ে বড় ‍বুদ্ধমূর্তি। অনেকের মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় এরচেয়ে বড় ‘শুয়ে থাকা’ বুদ্ধমূর্তি নেই।

জুরাছড়ির অবস্থান রাঙামাটি সদর থেকে ৫৭ কিলোমিটার দূরে। উপজেলাটির পূর্বে ভারতের মিজোরাম, উত্তরে বরকল, দক্ষিণে বিলাইছড়ি এবং পশ্চিমে রাঙামাটি। তবে এখানকার একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম নৌপথ। পাহাড় ও জলের জনপদ জুরাছড়ি। জুরাছড়ির দুর্গম পাহাড়ে খুঁজে পাওয়া যায় বুনোগন্ধ আর নীরবতা। 

উপজেলার ছোট্ট বাজারটিতে পা রাখলেই দেখা যায় অসংখ্য সবুজে ঢাকা টিলা। আরেকটু মনোযোগ দিয়ে দেখলেই চোখে পড়বে ধ্যানে মগ্ন গৌতম বুদ্ধকে। শুয়ে থাকা গৌতম বুদ্ধের মাথার পেছনে আকাশের পটভূমি এখনও বসেনি। জুরাছড়ি বাজার থেকে সেখানে যাওয়ার একমাত্র বাহন মোটরসাইকেল। বলে রাখা ভালো, জুরাছড়িতে যাতায়াতের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম মোটরসসাইকেল। সিএনজি নামে পরিচিত অটোরিকশাও দেখতে পাবেন; তবে সংখ্যায় ‍খুবই কম ও ব্যয়বহুল।

 

এখনও অনেকখানি কাজ বাকি

এখনও অনেকখানি কাজ বাকি

 

মোটরসাইকেলে যতটুকুই যাচ্ছিলাম চোখের সামনে একে একে ধরা পড়ছে আদিবাসীদের ছোট ছোট ঘর, লেক পাড়ের পাহাড়জুড়ে জুমের আবাদ, তরমুজের ক্ষেত। আধা ঘণ্টা পর পৌঁছে যাবেন শুভলং শাখা বন বিহারে সাধনানন্দ মহাস্থবীর (বনভান্তে) কমপ্লেক্সে। সেখানেই নির্মিত হচ্ছে ১২৬ ফুট সিংহশয্য গৌতম বুদ্ধের মূর্তি। এখনও অনেকখানি কাজ বাকি।

বিহার কর্তৃপক্ষ জানায়, এত বড় ধ্যানরত বুদ্ধমূর্তি দেশে এই প্রথমবারের মতো নির্মিত হচ্ছে। এমনকি দক্ষিণ এশিয়ায়ও এরচেয়ে বড় শুয়ে থাকা গৌতম বুদ্ধের মূর্তি আছে কি-না জানা নেই। ২০১৬ সালে এটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের জুলাইয়ে এলাকাবাসী উদ্যোগে কায়িক শ্রমে বুদ্ধমূর্তিটির ঢালাই দেয়া হয়। সেসময় দূর-দুরান্ত থেকে হাজার হাজার পূণ্যার্থী অংশগ্রহণ করেন। থাইল্যান্ড দেখে বুদ্ধমূর্তির চোখ ও রঙ আনা হবে শিগগিরই।

দেশের সর্ববৃহৎ বুদ্ধমূর্তিটির স্থপতি বিশ্বজিৎ বড়ুয়া, পওতিপদ দেওয়ান ও দয়াল চন্দ্র চাকমা। এটির প্রধান প্রকৌশলী তৃপ্তি শংকর চাকমা ও ডিজাইন করেছেন ভদন্ত বিমলানন্দ স্থবির। জানা যায়, মূর্তির শরীরের রঙ হবে সোনার রঙের। ধ্যানরত বুদ্ধমূর্তির অনেক গুরুত্ব রয়েছে বৌদ্ধধর্মে। দেশে ধ্যানরত অবস্থায় এত বড় একটি বুদ্ধমূর্তি নির্মাণ অত্যন্ত গৌরবের। নতুন এ বুদ্ধমূর্তি পর্যটনেও ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন বিহার কর্তৃপক্ষ।