ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিববঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’

রোববার   ১৭ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৩ ১৪২৬   ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

আজকের ময়মনসিংহ
৮২১

ঐতিহ্যবাহী

রঙ বেরঙের কাচের চুড়ি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮  

কাঁচের তৈরি রঙিন, রেশমি চুড়ি মেয়েদের পছন্দের তালিকায় অন্যতম। অতীত কাল থেকেই সাজ পোশাকের অনুষঙ্গ হিসেবে কাচের রেশমি চুড়ির আবেদন কোন অংশে কমেনি। চুড়ি প্রেমীরা সালোয়ার কামিজ অথবা শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে রঙিন কাচের চুড়ি পড়তে ভালোবাসেন। বাংলা নববর্ষ, পূজা-পার্বণসহ জাতীয় দিবসগুলোতেও নারীর হাতে রিনিঝিনি রেশমি চুড়ি কখনো বাদ পড়ে না। বসন্তের প্রথম দিন বাঙালি মেয়েরা শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে দু’হাত ভর্তি কাচের চুড়ি পরেন। আবার পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে কন্ট্রাস্ট চুড়ি পড়তে দেখা যায় তরুণীদের। দেশীয় পোশাকের সঙ্গে হাত ভর্তি চুড়ি ও অপর হাতে একটি মোটা বালা বা হাত খালি রাখলেও বেশ ভালো লাগে। আবার শাড়ির সঙ্গে দু’হাত ভর্তি চুড়ি পড়তে পছন্দ করেন অনেকেই। অনেক সময় তরুণীরা কাচের চুড়ির দু’পাশে মেটাল বা কাঠের তৈরি মোটা বালা পড়তে পছন্দ করেন।

কাচের চুড়ির ইতিহাস:

পূর্বের ইতিহাস থেকে আমরা জানতে পারি রেশমি চুড়ির এক স্বর্ণালি ইতিহাস রয়েছে। এটি মূলত নর-নারীর কাছে ছিল রোমান্টিকতার প্রতীক। সিন্ধু উপত্যকার সভ্যতা থেকেই নারীর সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে কাচের চুড়ির প্রচলন ঘটে। তখনকার কাচের চুড়ির ফর্ম ও শৈলী ছিল প্লেন রেশমি কাচের চুড়ি। কিন্তু মধ্যযুগে কাচের চুড়ির শৈলী পরিবর্তিত হয়ে খাঁজকাটা যোগ হয়েছে। ওজনে ভারী হয়েছে এবং রংয়েও এসেছে ভিন্নতা। তখনকার নারীরা মূলত বিয়ে ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কাচের চুড়ি পরিধান করতেন। বিয়েতে নারীদের ২ বাহুতে শোভা পেত রঙ-বেরঙের কাচের চুড়ি। জরি, মুক্তা, পাথর, স্বর্ণ ও রুপার মত মূল্যবান উপকরণ বসিয়ে তৈরি করা হতো কাচের চুড়ি। বউ সাজে লাল-সবুজ ও সোনালি মত রঙের চুড়িগুলো প্রাধান্য পেত।

শৈলী: বিগত কয়েক বছর ধরে কাচের চুড়ি বিশেষ ঐতিহ্যগত ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কাচের চুড়ির ফর্ম তৈরিতে যোগ নতুন নতুন রঙ। বর্তমানে লাল, সবুজ ও সোনালী রঙে শুধু সীমাবদ্ধ নয়। মেরুন, বেগুনি, আকাশি, গাঢ়ো নীল, কমলা, গোলাপী, হলুদ, টিয়া রঙগুলোসহ সব রঙই সহজলভ্য। ঐতিহ্যবাহী কাঁচের রেশমি চুড়ি বেশ পাতলা হতো, কিন্তু এখন বাজারে পুরো আকৃতির কাঁচের চুড়ি পাওয়া যায়।

উদ্ভাবন: বিভিন্ন ডিজাইনার ও কারিগর দ্বারা উদ্ভাবিত কাঁচের চুড়ি বর্তমানে আরো ফ্যাশনেবল ও আড়ম্বরপূর্ণ হয়েছে। উদ্ভাবনের এর শৈল্পিক নিদর্শন, কাঠামো ও ডিজাইন সব বয়সী নারীদের আকৃষ্ট করছে। ডিজাইনাররা কাঁচের চুড়িকে আরো বেশি আকর্ষণীয় করতে এতে যোগ করছেন মুক্তা, পাথর, ফুল মটিফ, জরি, বিভিন্ন রঙ ইত্যাদি।

কোথায় পাবেন: রাস্তার ধারে ফুটপাতে, দেশের যেকোন শপিংমলগুলোতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলায় অনুষদের রাস্তায় বিশাল চুড়ির সমাহার বসে রোজই। এছাড়া নিউমার্কেট, গাউসিয়া,ফার্মগেট এ কাচের চুড়ি বিক্রি হয়।

দরদাম: প্লেইন কাচের চুড়ির দাম ৩০-৪০ টাকা ডজন, জরি বসানো ৬০-৭০ টাকা, রাজস্থানি চুমকি পাথর বসানো চুড়ির দাম পড়বে ৪০-৮০ টাকা।

আজকের ময়মনসিংহ
আজকের ময়মনসিংহ