ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিববঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’

শনিবার   ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৫ ১৪২৬   ২১ মুহররম ১৪৪১

আজকের ময়মনসিংহ
৩২

মাত্র ১৪ বছর বয়সে সমকামিতায় জড়িয়ে পড়েন সাহসী এই নারী

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট ২০১৯  

ইতিহাসের অন্যতম সাহসী এক লেসবিয়ান তিনি। তার নামটি হয়তো অনেকেরই জানা। তিনিই ইংল্যান্ডের প্রথম নারী, যিনি প্রকাশ্যেই বিয়ে করেন অন্য এক নারীকে। কিন্তু তৎকালীন সমাজে তো সমকামী প্রথাই ছিল প্রায় নিষিদ্ধ, তার মধ্যে থেকেও কীভাবে প্রকাশ্যে লেসবিয়ানের জীবন কাটাতে পারলেন তিনি? তার উত্তর সে নিজেই স্পষ্ট ভাষায় লিখে গেছেন তার ডায়েরিতে, যেটা কিনা ১৮০৬ থেকে ১৮৪০ সালের মধ্যে লিখা হয়েছিল। নিশ্চয়ই আন্দাজ রতে পেরেছেন বলছি আনা লিস্টারের কথা।

আনা লিস্টার এর জন্ম ১৭৯১ সালে, পশ্চিম ইয়র্কশায়ার এর হালিফ্যাক্সে। পারিবারিকভাবে প্রচুর ধন সম্পদের মালিক আনা লিস্টারের বাবা জেমস লিস্টার ছিলেন একজন বৃটিশ মিলিটারী অফিসার, আর মা রেবেকা ব্যাটল ছিলেন গৃহিনী। ১৮ শতকের শিল্প বিপ্লবের পরই মূলত প্রচুর অর্থ সম্পদের মালিক হয় তারা। আনা লিস্টারের বেড়ে ওঠা তাদের উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমিদার বাড়ি শিবডেন হলে। ছোট থাকতেই আনার মা-বাবা ও ৪ ভাই-বোনের মৃত্যু হয়। তার কাছের মানুষের মধ্যে একমাত্র জীবিত ছিল তার বোন মারিয়ান। 

 

জ্যাক জেন্টলম্যান ড্রামার দৃশ্য

জ্যাক জেন্টলম্যান ড্রামার দৃশ্য

বাপ-মা হীন মেয়েকে মানুষ করার জন্য ৭ বছর বয়সেই তাকে পাঠানো হয় রিপনের এক বোর্ডিং স্কুলে। ছোটবেলা থেকেই আনার টম বয় সূলভ আচরণ ছিল। পূর্বে সমস্যা না হলেও স্কুল হোস্টেলে তার এরকম আচরণের জন্য প্রায়ই তাকে মার খেতে হতো। এভাবেই কেটে যায় কয়েকবছর। অত:পর, ১৪ বছর বয়সে, ইয়র্কেরই একটি বোর্ডিং স্কুলে পাঠানো হয় তাকে। 

সেখানেই সর্বপ্রথম এলিজা রায়না নামের সমবয়সী একটি মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয় সে। সেই সময় থেকেই সে তার ডায়েরি লিখা শুরু করে। এলিজা রায়না ছিল হাফ-ইন্ডিয়ান। তারা রুম শেয়ার করে থাকত। বোর্ডিং স্কুলের টিচারদের চোখ ফাঁকি দিয়ে এলিজা আর আনা সম্পর্কে লিপ্ত হলেও বেশিদিন তা চাপা থাকেনি। হাতে নাতে ধরা না পরলেও আনাকে স্কুল থেকে বের করে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয় ‘অন্য মেয়েদের নষ্ট করছে’ সন্দেহে। 

জ্যাক জেন্টলম্যান ড্রামার দৃশ্য

জ্যাক জেন্টলম্যান ড্রামার দৃশ্য

এলিজার সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করে, চাচা-চাচীর কাছে শিবডেন হলে একেবারে চলে আসে আনা। আনার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর গভীর ডিপ্রেশনে চলে যায় এলিজা। তার মানসিক অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে যায় যে, মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হয় তাকে। কোনোদিনও সেই অবস্থা থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হতে পারেনি এলিজা। এদিকে দ্বিতীয় সম্পর্কে জড়ায় আনা লিস্টার। তার নাম- মারিয়ানা বেলকম্ব। এই মেয়েটিকেই ধরা হয় আনার জীবনের সত্যিকার ভালোবাসা হিসেবে। তাদের সম্পর্ক এতটাই গভীর ছিল, প্রতিদিন হালিফ্যাক্স থেকে ইয়র্কশায়ার এর ৪০ মাইল পাড়ি দিত তারা একজন আরেকজনকে দেখার জন্য। 

ভালোবেসে আনা মারিয়ানাকে বিয়ে করতে চাইলো। কিন্তু তখনো উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি পায়নি বিধায় স্বাধীনভাবে বাস করার জন্য যথেষ্ট টাকা পয়সা আনার ছিল না। আর সমাজ তো কখনোই মেনে নিবে না এই সম্পর্ককে। অন্যদিকে, ১৮১৫ সালে এক বিপত্নীক লোককে বাধ্য হয়ে বিয়ে করে মারিয়ানা। ক্রোধে, রাগে ফেটে পরে আনা। কিন্তু তবুও, মারিয়ানার বিয়ের পরেও লুকিয়ে তার সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলে আনা। কিন্তু দিনকে দিন মারিয়ার আচরণে পরিবর্তন আসে। ধীরে ধীরে আনার সঙ্গে সব রকম সম্পর্কের ইতি টানে মারিয়ানা।

কালো পোশাকে আনা লিস্টার ও পাশে মারিয়ানা

কালো পোশাকে আনা লিস্টার ও পাশে মারিয়ানা

পরবর্তীতে চাচার মৃত্যুর পর একমাত্র উত্তরাধিকার হিসেবে সব সম্পত্তির মালিক হয় আনা। ইউরোপের হাই সোসাইটিতে তার চলাফেরা। আভিজাত্য জীবনের এই অংশেও সে অনেক নারীর সংস্পর্শে আসে। তাদের মধ্যে ডেনমার্কের কুইন ম্যারিও ছিল। কিন্তু আনা থিতু হতে পারেনি তাদের কারো সঙ্গেই। ইয়র্কশায়ার এ ফেরত এসে, ১৮৩২ সালে আনার পরিচয় হয় আন ওয়াকার নামের এক নারীর সঙ্গে। যথারীতি যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয় তারা। পরিচয়ের দুই বছর পর, ১৮৩৪ সালে এই দুই নারী ইয়র্কের হলি ত্রিনিতি চার্চে, ইস্টার সানডের দিন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়।

ওয়াকারের পরিবারের অমতেই বিয়ে করে তারা। শিবডেন হলেই নতুন সংসার শুরু করে। ১৮৪০ সালে, আনার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত একসঙ্গেই ছিল এই দুই নারী। যাই হোক, যে সময়টায় সমকামীতা ঘৃণ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হতো, সেই সময়ে আনা লিস্টারের এরকম জীবনধারা তাকে সাহসী, স্বাধীন নারী হিসেবেই পরিচয় করিয়ে দেয় সত্যিকার অর্থে।

 

আনা লিস্টারের চরিত্রে অভিনেত্রী সুরানী জোনস

আনা লিস্টারের চরিত্রে অভিনেত্রী সুরানী জোনস

আনা লিস্টার সম্পর্কে আরো কিছু তথ্য:

১. আনা লিস্টার সবসময় কালো পোশাক পরতেন এবং তার পুরুষসুলভ আচরণের জন্য ‘জেন্টেলম্যান জ্যাক’ ডাকনামে পরিচিত ছিলেন তার এলাকায়।

২. আনা তার ডায়েরি লিখেছেন তার আবিষ্কৃত কোড ভাষায়, আনুমানিক ৪০ লাখ শব্দে। সেক্সুয়াল জীবন ছাড়াও আনার জীবনের অন্যান্য পর্যায়গুলোও স্পষ্টভাবে বর্ণিত আছে এটিতে।

৩. তার ডায়েরি বংশধরদের দ্বারা লুকায়িত ছিল, যা তার মৃত্যুর অনেক বছর পর প্রকাশিত হয়।

 

আনা লিস্টার

আনা লিস্টার

৪. হেলেনা হুইটব্রেড নামের এক ইতিহাসবিদ ৬ বছর গবেষণা করে আনার কোডিং ভাষার গোপন তত্য খুঁজে বের করেন। ‘আই নো মাই ওউন হার্ট: দ্য ডায়েরিজ অব আনা লিস্টার ১৭৯১ থেকে ১৮৪০’ নামক বই প্রকাশ করেন।

৫. আনা লিস্টারের জীবনী নিয়ে বিবিসি ওয়ান চ্যানেলে একটি শো প্রদর্শিত হচ্ছে ১৯ মে, ২০১৯ থেকে। নাম- জ্যাক জেন্টলম্যান। যার শ্যুটিং হয়েছে আনার বাড়ি শিবডেন হলে। ড্রামাটির ট্রেইলার দেখুন এই লিঙ্কে ক্লিক করে।

আজকের ময়মনসিংহ
আজকের ময়মনসিংহ