ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিববঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’

রোববার   ২৫ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ১০ ১৪২৬   ২৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

আজকের ময়মনসিংহ
৩৪

মশার লার্ভা নিধনে দেশীয় প্রজাতির ধানি মাছ অধিক কার্যকরি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯ আগস্ট ২০১৯  

সমস্যা শুধু এডিস মশা নয়, সকল মশাই সমস্যা, আর এই সমস্যার উৎস হচ্ছে মশার লার্ভা (অপূর্ণাঙ্গ মশা/ ডিম/ শূককীট)। এই লার্ভাকে সমূলে ধ্বংস করতে পারলে মশার উৎপাত থেকে অনেকাংশেই হলেও বাঁচা যাবে। মশার এই লার্ভা ধ্বংস করতে ইতোমধ্যে বিজ্ঞানীরা মশার লার্ভা খাদক মাছের আবিস্কার করেছে।

মশা খেকো এই মাছের নাম হচ্ছে মসকুইটো মাছ বা গাপ্পী মাছ। এই মাছ ব্যবহার করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ মশা প্রজনন ধ্বংসে কার্যকরি হয়েছে। মশার প্রজনন স্থলে থেকেই মশা নিধনে বাংলাদেশেও এই মাছের ব্যবহার ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।

এই মসকুইটো মশা নিয়ে গবেষনা করছেন ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ও প্রকৃতি বিজ্ঞানী ড. মামনুর রশীদ। তিনি তার গবেষনায় উল্লেখ করছে মশার লার্ভা নিধনে এই মসকুইটো মাছ কার্যকরি ভূমিকা রাখছে। কিন্তু এই বিদেশী প্রজাতির মসকুইটো মাছের পাশাপাশি দেশীয় প্রজাতির অনেক মাছ রয়েছে যা মসকুইটো মাছের চেয়ে মশার লার্ভা নিধনে অধিক কার্যকরি।

প্রকৃতি বিজ্ঞানী ড. মামনুর রশীদ জানান, দেশীয় প্রজাতির খলিস, দাড়কিনা, ধানি (জ্রেবা মাছ নামে পরিচিত) মাছ বিদেশী প্রজাতির মসকুইটো মাছের চেয়ে অধিক মাশার লার্ভা ধ্বংসে কাজ করে। তিনি আরো জানান, ২০১৭ সালে মশার লার্ভা খাদক মাছের জাত ও কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণায় শুরু করেন । ২০১৮ সালে গবেষনার ফলাফলে প্রকাশ করেন বিদেশী প্রজাতির  মসকুইটো/ গাপ্পী মাছের চেয়ে দেশীয় প্রজাতির খলিসা, দাড়কিনা, ধানি মাছ মশার লার্ভা নিধনের বেশি কাজ করে।

গবেষনায় তিনি উল্লেখ করেন, ড্রেন/নর্দমায় বিদেশী মাছ যেখানে মশার লার্ভা নিধনে ৩০% সফল সেখানে দেশীয় প্রজাতির মাছ সেখানে ৭০% বেশী লার্ভা খেতে সক্ষম। জলাশয়/পুকুরে যেখানে বিদেশী মাছ ৪০% লার্ভা খেতে পারে সেখানে দেশী মাছ খেতে পারে ৬০%। পরিস্কার পানি/ হাউজ/চৌবাচ্চায় যেখানে বিদেশী মাছ ৪৫% মশার লার্ভা খেয়ে থাকে সেখানে দেশীয় মাছ ৫৫% খেয়ে থাকে।

তিনি আরো জানান, বর্তমানে এডিস মশাসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগের প্রাদূর্ভাব যেভাবে আশংঙ্কাজনক ভাবে বেড়েছে , সেই ক্ষেত্রে মশার প্রজনন স্থল ধ্বংশ করতে বাড়ীর আশপাশ, পানিভর্তি চৌবাচ্চা,অগভীর বা স্থীর পানির যেকোন স্থান, পুকুর/ডোবা, ধানক্ষেত ইত্যাদি স্থানে বেশি পরিমানে মশা লার্ভা খাদক দেশীয় প্রজাতির খলিসা, দাড়কিনা, ধানি ছেড়ে দেওয়া গেলে মশার উৎপাদন অনেকাংশে কমে যাবে। ফলে মশার প্রার্দূভাব ও মশাবাহিত রোগ আনুপাতিক হার কমে যাবে।

আজকের ময়মনসিংহ
আজকের ময়মনসিংহ
এই বিভাগের আরো খবর