ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিববঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’

বৃহস্পতিবার   ১৪ নভেম্বর ২০১৯   কার্তিক ২৯ ১৪২৬   ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

আজকের ময়মনসিংহ
১৮

মন্দিরের নিরাপত্তায় মাদরাসাছাত্রদের ব্যারিকেড

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর ২০১৯  

ভোলার বোরহানউদ্দিনের ঘটনার জেরে হাটহাজারীতে বিক্ষোভের সময় ব্যারিকেড দিয়ে মন্দিরের নিরাপত্তা দিয়েছে হাটহাজারীর মাদরাসা শিক্ষার্থীরা। 

রোববার বিকালে বিক্ষোভ চলাকালীন সময়ে এ ঘটনা ঘটে। মন্দিরের নিরাপত্তায় মাদরাসাছাত্রদের এ উদ্যোগ সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।

এর আগে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট নিয়ে ভোলার বোরহানউদ্দিনে জনতার সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশসহ শতাধিক আহত হয়েছেন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাটহাজারীতে বিক্ষোভ করেছে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা। এ সময় পার্শ্ববর্তী সীতাকালী মন্দিরে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করার চেষ্টা করলে মাদরাসার অন্য শিক্ষার্থীরা তাদের রুখে দেয় এবং মন্দিরে যাতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে না পারে এজন্য তারা বেশ জোড়ালো ভূমিকা পালন করে।

হাটহাজারী বড় মাদরাসার সামনে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি মহাসড়কে অবস্থান নেয়। তারা মহাসড়কে হাটহাজারী মাদরাসার সম্মুখে, হাটহাজারী বাজার, মেডিকেল গেট, ভূমি অফিসের সামনে, কলেজ গেট ও বাসস্টেশন এলাকার মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে।

এ সময় বাসস্টেশন চত্বরে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা মাগরিবের নামাজ আদায় ও অগ্নিসংযোগ করতে দেখা গেছে। হঠাৎ ওই মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুই পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি জেলায় পৌঁছানো প্রায় ৩০টি রুটের হাজার হাজার যাত্রীসাধারণকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।

ওই অবরোধ চলাকালে সাধারণ যাত্রীদের ভয়ে দিগ্‌বিদিক ছোটাছুটি করতে দেখা গেছে। এছাড়া হাটহাজারী বাজারের শত শত দোকান-পাট বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে সরে যায় দোকানিরা।

বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা একপর্যায়ে হাটহাজারী মডেল থানায় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে মূল ফটক ও কাচের দরজা এবং জানালার কাচ ভাঙচুর করে। 

হাটহাজারী মাদরাসার একদম পাশেই অবস্থিত মন্দিরটির নিরাপত্তায় মাদরাসা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা সবসময় প্রশংসিত হয়ে আসছে।  বছরের পর বছর ধরে এ অঞ্চলে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের পরিচায়ক হয়ে পাশাপাশি অবস্থান করছে দক্ষিণ এশিয়ার ঐতিহ্যবাহী আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার বাইতুল করিম নামে প্রধান জামে মসজিদ প্রকাশ ‘বড় মসজিদ’ এবং ‘শ্রী শ্রী সীতাকালী কেন্দ্রীয় মন্দির’।

যেখানে মসজিদ ও মন্দিরে শুধু এক দেয়ালের ফারাক। যা শুধু এ দেশে নয়, বিশ্বে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য নজির।

জানা গেছে, প্রায় শত বছরের পুরানো এ মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন দীর্ঘ সময় ধরে পূজা-অর্চনা করছে। এ নিয়ে কারো মধ্যে কখনো কোনো বৈরি অবস্থা তৈরি হয়নি।

সীতাকালী মন্দির পরিচালনা কমিটি ও উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি উদয় সেন বলেন, এখানে মাদরাসার ছাত্ররাই পাহারা দিয়ে মন্দিরকে রক্ষা করেছেন। শত বছর ধরে হিন্দু-মুসলিম যার যার অবস্থানে থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন।

হাটহাজারী মাদরাসা ১৯০১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১১৯ বছরের ইতিহাসে হিন্দু সম্প্রদায় ও মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার ইতিহাস নেই।

এখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অসাধারণ উদাহরণ রয়েছে উল্লেখ করে হাটহাজারী মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস মুফতি জসিম উদ্দিন  জানান, শত বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এ মাদরাসার সীমানা দেয়ালের সঙ্গে গড়ে উঠেছে কালী মন্দির। ভিন্ন ধর্মের দুটি প্রতিষ্ঠান পাশাপাশি থেকে যার যার মতো করে ধর্মীয় রীতি পালন করছেন তারা। 

আজকের ময়মনসিংহ
আজকের ময়মনসিংহ
এই বিভাগের আরো খবর