ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিববঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’

শনিবার   ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৫ ১৪২৬   ২১ মুহররম ১৪৪১

আজকের ময়মনসিংহ
৩৮৭

ঈশ্বরগঞ্জ

মনোনয়ন ঘোষণার আগেই বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর ২০১৮  

কোনো আসনেই এখনো মনোনয়ন চূড়ান্ত করেনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও মহাজোট। তারপর শুধু আশঙ্কার ওপর ভিত্তি করেই ময়মনসিংহের-৮ ঈশ্বরগঞ্জ আসনে মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশ, ছয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সাবেক এমপির সমর্থক ও আত্মীয়রা। শুক্রবার বিকেলে এ ধরনের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশটি হয় ঈশ্বরগঞ্জ পৌর সদরে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, এ আসনে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পান ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে নির্বাচিত এমপি আব্দুছ ছাত্তার। তখন মনোনয়ন পেলেও কেন্দ্রীয় কমিটি নির্দেশে জোট মনোনীত জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমামকে আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয়। আর এর পুরস্কার হিসেবে সাবেক এমপি আব্দুছ ছাত্তার পান কেন্দ্রীয় কমিটির শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক পদটি। কিন্তু একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে আব্দুছ ছাত্তার সমর্থকরা এমপি ফখরুলকে বহিরাগত আখ্যায়িত করে কুশপুত্তলিকা দাহ, মানববন্ধন,বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ ডেকে অবাঞ্চিতও ঘোষনা করা হয়। 

অন্যদিকে তাঁর ছবি সম্বলিত তোরণ ও পেস্টুন ভাঙচুরসহ বাড়িতে আগুন এমনকি দলীয় কার্যালয়েও হামলা ও জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদকে মারধরের মতো ঘটনা ঘটায়। 

এ দিকে একাদশ জাতীয় সংসদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এ আসনটিতে মোট পাঁচজন মনোনয়নপত্র ক্রয় করেন। এ অবস্থায় মনোনয়ন প্রাপ্তের নাম ঘোষণা করার আগ মুহূর্তে সর্বত্রই প্রচার হয় এবারও এ আসনটিতে মহাজোটের প্রার্থী থাকতে পারেন ফখরুল ইমাম। এ ধরনের আশঙ্কায় আবারও তৎপর হয়ে উঠে নৌকা সমর্থক গোষ্ঠীর ব্যানারে সাবেক এমপি ছাত্তার সমর্থকরা। তাঁরা গতকাল বিকেলে সাড়ে ৪টার দিকে পৌর সদরের সাবেক এমপির বাস ভবনের সামনে থেকে ‘ঈশ্বরগঞ্জে স্থানীয় প্রার্থীর পক্ষে নৌকা দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। এই মিছিলে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ছয়জন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ছাড়াও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা বদরুল আলম প্রদীপ ছাড়া যুবলীগের সাবেক ও বর্তমান কমিটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা।

বিক্ষোভ মিছিল শেষে পৌর সদরের মুক্তিযুদ্ধের সামনে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তারা বলেন, বর্তমান এমপির বাড়ি পাশের গৌরীপুর উপজেলায়। গত নির্বাচনে দেশনেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় নেওয়ার জন্যই বর্তমান এমপিকে জোটের প্রার্থী হিসেবে ছাড় দেওয়া হয়। আর এ অবস্থায় গত পাঁচ বছরে বর্তমানে এমপির বিভিন্ন দুর্নীতির কারনে জনপ্রিয়তা শুন্যের কোঠায় পৌঁছেছে। বদনাম হয়েছে বর্তমান সরকারের। তাঁকে আর এলাকার লোকজন দেখতে চায় না। তারপরও স্থানীয় লোক ছাড়া ফের তাঁকে মনোনয়ন দিলে এ আসনটি নিশ্চিত হারাতে হবে। সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হানিফ বলেন, বর্তমান এমপি মনোনয়ন পেলে লগি-বৈঠা দিয়ে প্রতিহত করা হবে। তাঁকে এলাকায় ঢুকতে দেওয়া হবে না। এ সময় তিনি উপস্থিত সকলকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেন। বহিরাগত কাউকে ঈশ্বরগঞ্জবাসী গ্রহণ করবে না।

আওয়ামী লীগ নেতা বদরুল আলম প্রদীপ বলেন, জনপ্রিয়তা ও ত্যাগের বিষয়টি দেখেই স্থানীয় প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া উচিত। বাইরের কাউকে এমনকি বির্তকিত কাউকে মনোনয়ন দিলে দলকে খেসারত দিতে হতে পারে।

আজকের ময়মনসিংহ
আজকের ময়মনসিংহ
এই বিভাগের আরো খবর