ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিববঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’
  • মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||

  • আশ্বিন ১৩ ১৪২৭

  • || ১১ সফর ১৪৪২

আজকের ময়মনসিংহ
৩১৪

মনে আছে? ‘লেইস ফিতা লেইস’

আজকের ময়মনসিংহ

প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারি ২০২০  

লেইস ফিতা লেইস, চুরি ফিতা, রঙিন সুতা রঙিন করিবে মন! লেইস ফিতা লেইস - সংগীত গুরু জেমসের সেই গানের কথা নিশ্চয়ই মনে আছে। ‘নিঃশব্দে, কোলাহলে ঈমান আলী হেকে বেড়ায় লেইস ফিতা লেইস! পথে পথে সে বেচে বেড়ায় বাক্স বন্দী কিছু স্বপ্নসুখ! সেই ঈমান আলীকে নিয়ে আমাদের লেইস ফিতা লেইস’- এই কথাগুলো এই গানটির মিউজিক ভিডিওর শুরুতেই লেখা, ৯০-এর দশকে এত চমৎকার ভিডিও বানানো হয়েছিল ভাবতেই অবাক লাগে!

৯০-এর দশকের সেই লেইস ফিতাওয়ালাদের এখন আর আগের মতো দেখা মেলে না। শহরের যান্ত্রিকতার ভিড়ে হারিয়ে গেছে বাক্সবন্দি ব্যবসায়ী লেইস ফিতাওয়ালারা। তবে মফস্বল বা গ্রামের পথেও তাদের পদচারণা কদাচিৎ ঘটে। আধুনিক সভ্যতা কেড়ে নিয়েছে সেই লেইস ফিতাওয়ালাদের বিচরণ। তাই সচরাচর আর চোখে পড়ে না কাগজের কার্টনের ওপর সাদা বা লাল কাপড় পেঁচিয়ে পুঁটলি কাঁধে ঝুলিয়ে আরেক হাতে কাচের ঢাকনাওয়ালা বাক্স বহনকারী লেইস ফিতাওয়ালাদের।

সে সময় দুপুরের পর যখন অন্দরমহলের নারীরা মধ্যাহ্নভোজ সেরে উঠানের আড্ডার জন্য প্রস্তুত, তখন রাস্তা দিয়ে হেঁকে যেতেন লেইস ফিতাওয়ালারা। তাদের সে ডাক শুনে খুকুমণিরা বায়না ধরত ফিতা-চুড়ি বা নেইল পলিশের। নারী বরাবরই প্রসাধনপ্রিয়, খুকুমণির আবদারে খুকুমণির মায়েরও দেখতে ইচ্ছা করত, কী আছে ফেরিওয়ালার বাক্সে! এটা থেকে ওটা পরখ করে নারীরা কিনে নিতেন স্নো, ক্রিম বা কদুর তেল। খুকুমণির কাঁধঝোলানো চুলে বেঁধে দেয়া হতো লাল টুকটুকে ফিতা।

এখন বাক্সবন্দি ব্যবসার চেয়ে অনেকে দোকান খুলে কিংবা অন্য ব্যবসার দিকে ঝুঁকে গেছেন অনেকটা। ফেরি করে লাভবান হওয়া যায় না বলে ব্যবসায়ীরা এ ব্যবসা থেকে আগ্রহ হারাচ্ছেন। তাই তাদের আর দেখা মেলে না। খুকুমণিরাও আজকাল আর লাল ফিতার বায়না ধরে না। 

 

 

 

যশোরের সারদা এলাকায় লেইস ফিতাওয়ালা জমসেদ জানান, এখন আর আগের মতো গ্রামে কেউ চুড়ি-ফিতা কেনে না। মার্কেটে সবরকম প্রসাধন সামগ্রী আর সাজসজ্জার জিনিস পাওয়া যায়। এখন সবাই মার্কেটে যান। তারপরও জমসেদের কণ্ঠে শোনা যায় ‘লেইস ফিতা, এই লেইস ফিতা’ ডাক।

ছোটবেলার স্মৃতিচারণ করে রাজধানীর মগবাজার এলাকার ফাতেমাতুজ্জোহরা বলেন, ছোটবেলায় লেইস ফিতাওয়ালার কাছ থেকে জিনিস কিনতাম। এখন আর তাদের দেখা যায় না। সবাই একসঙ্গে এটা সেটা দেখে অনেক মজা করে চুড়ি-ফিতা, নেইল পলিশ কিনতাম। আগের দিনগুলো সত্যি অনেক মজার ছিল।

রাজধানীর সেনানিবাস এলাকার বাসিন্দা সাদিকা আক্তার বলেন, ছোটবেলায় বিকেলে যখন ঘুমিয়ে পড়তাম ফেরিওয়ালার ‘লেইস ফিতা লেইস’ ডাক শুনে উঠে যেতাম। সঙ্গে সঙ্গেই মা'র কাছে বায়না ধরতাম লাল ফিতা কিনে দেয়ার জন্য। সেই লাল ফিতা মাথায় বেণি করে পেঁচিয়ে চারদিকে ঘুরে বেরাতাম। সেই দিনগুলো সত্যি অসাধারণ ছিল।

ইত্যাদি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর