ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিববঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’
  • বুধবার   ১২ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ২৮ ১৪২৭

  • || ২২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

আজকের ময়মনসিংহ
৭১

মধ্যপাড়া পাথর খনি একযুগ পর লাভের মুখ দেখছে

আজকের ময়মনসিংহ

প্রকাশিত: ৭ ডিসেম্বর ২০১৯  

একযুগ পর লাভের মুখ দেখেছে দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ পাথর খনি দিনাজপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (এমজিএমসিএল)।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি ৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা মুনাফা করেছে। খনির ইতিহাসে এটিই প্রথম মুনাফা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরেও খনিতে ৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা লোকসান হয়।

দিনাজপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করে ২০০৭ সালের ২৫ মে। প্রথম অবস্থায় খনি থেকে দৈনিক ১৫ থেকে ১৮শ’ টন পাথর তোলা হলেও পরে তা নেমে আসে মাত্র ৫শ’ টনে। উৎপাদন শুরুর ছয় বছরে খনিতে লোকসান দিয়েছে প্রায় একশ’ কোটি টাকা।

অব্যাহত লোকসানের মুখে খনির উৎপাদন বাড়াতে ২০১৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি খনির উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেয়া হয় বেলারুশের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম-জিটিসিকে। জিটিসি ১৭১.৮৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিময়ে ৬ বছরে ৯২ লাখ টন পাথর তুলে দেয়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়।

২০১৪ সালে দায়িত্ব নেয়ার পর জিটিসি তিন শিফটে পাথর তোলা শুরু করে। ছয় মাসের মধ্যেই দৈনিক উৎপাদন ৫শ’ টন থেকে সাড়ে ৫ হাজার টনে উন্নীত হয়। ২০১৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তারা পাথর তুলে ১১ লাখ ৯২ হাজার টন পাথর।

কিন্তু আধুনিক ইকুইপমেন্টের অভাব দেখিয়ে ২০১৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে খনিতে পাথর তোলা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় জিটিসি। জিটিসি দায়িত্ব নেয়ার পরও বিভিন্ন সময়ে ইকুইপমেন্টের অভাব, খনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মতবিরোধসহ বিভিন্ন কারণে খনির উৎপাদন ব্যাহত হয়।

ফলে খনিটি উৎপাদন শুরুর পর থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের পরও লাভের মুখ দেখতে পারেনি। ফলে শুরু থেকে কয়েকশ’ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে এ খনিতে।

২০১৭-১৮ অর্থবছরেও খনির লোকসান হয় ৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা। অব্যাহত লোকসানের পর অবশেষে লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছে খনিটি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে খনিতে মুনাফা হয় ৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) আবু তালেব মো. ফারাজী জানান, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে খনি থেকে ১০ লাখ ৬৭ হাজার মেট্রিক টন পাথর তোলা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬৪ কোটি ১৪ লাখ টাকায় পাথর বিক্রি হয়েছে ৭ লাখ ৩১ হাজার ১৯৪ মেট্রিক টন।

পাথর বিক্রি থেকে প্রায় ৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা মুনাফা হয়েছে। তবে অব্যাহতভাবে পাথর তোলা হলে এ মুনাফার পরিমাণ আরও বাড়ত বলে জানান তিনি। তিনি জানান, খনিটি উৎপাদন শুরুর পর ইতিপূর্বে কখনই লাভের মুখ দেখেনি। খনির ইয়ার্ডে বর্তমানে ৬ লাখ মেট্রিক টন মজুদ রয়েছে।

খনির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসির মহাব্যবস্থাপক জাবেদ সিদ্দিকী জানান, খনির দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে জিটিসি খনিটিকে লাভজনক করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

খনির নতুন স্টোপ নির্মাণ করে বিদেশি মেশিনারিজ যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ স্থাপন করে খনির পাথর তোলা বাড়ানো গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে অর্ধশতাধিক বিদেশি খনি বিশেষজ্ঞ, দেশি প্রকৌশলী এবং ৭ শতাধিক খনি শ্রমিক তিন শিফটে পাথর তোলার কাজে নিয়োজিত আছেন।

বর্তমানে সব সমস্যা কাটিয়ে খনির উৎপাদন পুরোদমে চলছে। এখন প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৫ হাজার টন পাথর তোলা হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে উৎপাদন আরও বাড়বে।

মধ্যপাড়া পাথর খনি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ায় শুক্রবার খনি এলাকার প্রায় ১০ হাজার মানুষকে নিয়ে এক প্রীতিভোজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসি। খনির অভ্যন্তরে এবং খনি এলাকার তিনটি স্থানে প্যান্ডেল করে তাদের আপ্যায়ন করা হয়।

এই প্রীতিভোজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দিনাজপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জিটিসির চেয়ারম্যান ড. সিরাজুল ইসলাম কাজীসহ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা, রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন স্তরের মানুষ।