ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিববঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’

রোববার   ১৯ জানুয়ারি ২০২০   মাঘ ৫ ১৪২৬   ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

আজকের ময়মনসিংহ
৮৯৩

বিয়ের বৈধতার অত্যাবশকীয় শর্ত: দেনমোহর

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল ২০১৯  

ইসলাম ধর্মে পালনীয় বিষয়গুলোর মধ্যে বিয়ে অন্যতম এবং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর বিয়েতে ইসলাম যে সব নিয়ম-কানুন আরোপ করেছে, তন্মধ্যে দেনমোহর উল্লেখযোগ্য।
ইসলামে বিয়ে করা যেমন ফরজ তেমনি বিয়েতে স্ত্রীর মোহরানা প্রদান করাও ফর‍জ। মুসলিম আইন অনুযায়ী দেনমোহর বিয়ের অন্যতম শর্ত। প্রত্যেক স্ত্রী তার স্বামীর কাছে দেনমোহর প্রাপ্য। স্বামী কর্তৃক এটি প্রদান না করলে বিয়ে শুদ্ধ হবে না। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে দেনমোহর দেওয়ার ব্যাপারে এবং এতে অবহেলা না করতে জোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিয়ের শর্ত হলো- দেনমোহর, স্ত্রীর ভরণপোষণ, তার ইজ্জত-আবরুর হেফাজত ইত্যাদি। সুতরাং যথাসময়ে এসব পূরণ করতে হবে। 
 
পবিত্র কোরআনে দেনমোহর আদায়ের বিষয়ে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা নারীদেরকে সন্তুষ্টচিত্তে মোহর প্রদান করো।’ (সূরা: আন-নিসা: ৪)

‘তোমরা, এই নারীদেরকে প্রাপ্য মোহরানা দিয়ে বিবাহ করলে তোমাদের অপরাধ হবে না।’ (সূরা: মুমতাহিনা, আয়াত -১০)

‘হে নবী! আমি তোমার জন্য বৈধ করেছি তোমার স্ত্রীদেরকে, যাদের মোহর তুমি প্রদান করেছো।’ (সূরা: আল-আহজাব, আয়াত -৫০)

‘অনন্তর তাদের মধ্যে যাকে তোমরা গ্রহণ করবে, তাকে তার নির্ধারিত হক দান কর। তোমাদের কোনো গোনাহ হবে না যদি নির্ধারণের পর তোমরা পরস্পরে সম্মত হও। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিজ্ঞ, রহস্যবিদ।’ (সূরা: আন- নিসা-২৪)

‘তোমাদের জন্যে হালাল সতী-সাধ্বী মুসলমান নারী এবং তাদের সতী-সাধ্বী নারী, যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তোমাদের পূর্বে, যখন তোমরা তাদেরকে মোহরানা প্রদান কর।’ (সূরা: মায়িদা,আয়াত -৫)

হজরত মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো নারীকে কম বা বেশি মোহর ধার্য করে বিয়ে করল; অথচ তার অন্তরে মোহরের সে হক আদায়ের আদৌ কোনো ইচ্ছাই নেই, সে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন আল্লাহর দরবারে ব্যভিচারী হিসেবে উপস্থিত হবে।’
মুসলিম নিকাহ অনুযায়ী একটি শুদ্ধ বিয়ের জন্য দেনমোহর অত্যাবশ্যকীয়। দেনমোহর নির্ধারণ ছাড়া বিয়ে শুদ্ধ হবে না। বিয়ের সময় যদি দেনমোহর নির্ধারিত না হয়ে থাকে, অথবা স্ত্রী কোনো দেনমোহর দাবি করবে না শর্তে বিয়েটি যদি সম্পাদিতও হয়, তবুও স্বামীকে দেনমোহর দিতে হবে স্ত্রীকে। এ ক্ষেত্রে স্বামীর কোনো ধরনের অজুহাত দেখিয়ে স্ত্রীকে দেনমোহর দেয়া থেকে বিরত থাকার কোনো সুযোগ নেই।

দেনমোহর আদায়ের পদ্ধতি: সাধারণত দেনমোহর দুই ধরনের হয়ে থাকে। যথা-
(১) মুয়াজ্জল বা তাৎক্ষণিক দেনমোহর।
(২) মু-অজ্জল বা বিলম্বিত দেনমোহর।

তাৎক্ষণিক দেনমোহর, যা স্ত্রীর চাওয়ামাত্র পরিশোধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্ত্রী তাৎক্ষণিক দেনমোহর না পাওয়া পর্যন্ত স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য জীবন শুরু করতে অস্বীকার করতে পারেন। এবং বিলম্বিত দেনমোহর বিবাহবিচ্ছেদ অথবা স্বামীর মৃত্যুর পর পরিশোধ করতে হয়। এ ছাড়া স্বামী সালিসি পরিষদের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে স্ত্রীকে বিলম্বিত দেনমোহর পরিশোধ করতে হবে। সাধারণত দেনমোহরের কিছু পরিমাণ বিয়ের সময় তাৎক্ষণিক দেনমোহর হিসেবে দেয়া হয় এবং তা কাবিননামায় লিখিত থাকে। বাকিটা বিলম্বিত দেনমোহর হিসেবে ধরা হয়।

আইন অনুযায়ী দেনমোহর স্বামীকে অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে। কারণ, দেনমোহর সব সময়ই স্বামীর ঋণ। স্ত্রী পারিবারিক আদালতে মামলা করে দেনমোহর আদায় করতে পারবেন। দেনমোহর দাবি করার পর স্বামী ওই দাবি পরিশোধ না করলে স্ত্রী স্বামীর কাছ থেকে পৃথক থাকতে পারবেন এবং ওই অবস্থায় স্বামী অবশ্যই তার ভরণপোষণ করতে বাধ্য থাকবেন।

এ ছাড়া বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে গেলে বা স্বামীর মৃত্যু হলে স্ত্রী তার দেনমোহর আদায়ের জন্য পারিবারিক আদালতে মামলা করে তা আদায় করতে পারেন। তবে অবশ্যই তালাক বা স্বামীর মৃত্যুর তিন বছরের মধ্যে মামলা করতে হবে। স্বামীর মৃত্যু হলেও বকেয়া দেনমোহর একটি ঋণের মতো। এটি শোধ করতেই হয়। স্বামীর উত্তরাধিকারীরা এটি প্রদানে বাধ্য। অন্যথায় মৃত স্বামীর উত্তরাধিকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করে আদায় করা যায়। স্ত্রী আগে মারা গেলেও দেনমোহর মাফ হয় না। স্ত্রীর উত্তরাধিকারীরা এই দেনমোহরের হকদার।

বিয়ের পর স্বামী তার স্ত্রীকে অনেক কিছুই দিতে পারে। স্বামী যদি দেনমোহর হিসেবে স্ত্রীকে কিছু দেয়, তবেই তা দেনমোহর বলে বিবেচিত হবে। এ ক্ষেত্রে ‘দেনমোহর বাবদ’ কথাটি লেখা থাকতে হবে। যেমন: জমি হস্তান্তর দলিলে ‘দেনমোহর বাবদ’ কথাটি লেখা না থাকলে এরূপ জমি প্রদান দেনমোহর হিসেবে ধরা হবে না। বিয়ের সময়ে দেয়া শাড়ি, গয়না ইত্যাদি কখনো দেনমোহরের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে না। অনেক ক্ষেত্রে বিয়ের সময় গয়না, শাড়ি ইত্যাদির মূল্য দেনমোহরের একটি অংশ ধরে উসুল লিখে নেয়া হয়। আসলে বিয়েতে দেয়া উপহার বা উপঢৌকন দেনমোহর নয়। এগুলোকে দেনমোহরের অংশ বলে ধরা যাবে না এবং উসুল বলা যাবে না। 
আবার ভরণপোষণ দেনমোহর বলে বিবেচিত হবে না দেনমোহরের সঙ্গে ভরণপোষণের কোনো সম্পর্ক নেই। বিবাহিত অবস্থায় স্ত্রীকে ভরণপোষণের জন্য স্বামীর যে খরচ তা কোনোভাবেই দেনমোহরের অংশ বলে বিবেচিত হবে না। আবার বিয়ে-বিচ্ছেদের ফলে স্বামী, স্ত্রীকে যে ভরণপোষণ দেয় তাও দেনমোহরের অংশ নয়। দেনমোহর এবং ভরণপোষণ দু’টি সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস। একটি পরিশোধ করলে অপরটি মাফ হয়ে যায় না।

দেনমোহর স্বামীর আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ রেখে নির্ধারণ করতে হয়। দেনমোহরের পরিমাণ নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে স্ত্রীর পারিবারিক অবস্থান ও স্বামীর আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনা করা প্রয়োজন। দেনমোহর এত অধিক হওয়া উচিত নয় যা স্বামীর পক্ষে পরিশোধ করা সম্ভব নয়; আবার এত কম হওয়া উচিত নয় যা স্ত্রীর আর্থিক নিরাপত্তা দিতে পারে না। দেনমোহর পরিশোধ না করা পর্যন্ত এ অধিকার বহাল থাকবে। প্রয়োজনে স্বামীর সম্পত্তি থেকে স্ত্রী তা আদায় করে নিতে পারবেন।

স্ত্রী যেকোনো সময় স্বামীর কাছে দেনমোহর দাবি করতে পারেন। কেননা আপনার কাছে এটা তার পাওনা। তালাক বা মৃত্যুর সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই আবার মুসলিম আইন অনুযায়ী দেনমোহর বিয়ের একটি অন্যতম শর্ত এটি কোনো যৌতুক নয়।

দেনমোহর স্বামী কতৃর্ক স্ত্রীকে পরিশোধ যোগ্য একটি আইনগত দায় বা ঋণ। সুতরাং দেনমোহর ও যৌতুক দুটি ভিন্ন বিষয়। দেনমোহর বিয়ের সময় বা বিয়ের পরও নির্ধারণ করা যায়। উপযুক্ত দেনমোহর নির্ধারিত হয় বর-কনের পারস্পরিক ও সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে। এতে উভয়পক্ষের অভিভাবকদের সম্মতি থাকে। দেনমোহর নির্ধারণ কম বা বেশিতে আইনগত কোনো বাধা নেই, তবে টাকার অংশ স্বামীর আর্থিক সামর্থ্যরে মধ্যে থাকা বাঞ্ছনীয়। তবে যেভাবেই, যতোটুকু পরিমাণে দেয়া হোক না কেন প্রত্যেকেরই উচিত দেনমোহর নামক অধিকার বিষয়ে সচেতন হওয়া।

আজকের ময়মনসিংহ
আজকের ময়মনসিংহ
এই বিভাগের আরো খবর