ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিববঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’

সোমবার   ২১ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৬ ১৪২৬   ২১ সফর ১৪৪১

আজকের ময়মনসিংহ
৫১৩

লাভ ডায়েরী

বিপরীতে বাড়ে ভালোবাসা

প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০১৮  

গল্পের শুরু একটি মেয়ে এবং একটি ছেলের মাঝেই। এদেশের বেশিরভাগ পরিবারে যা হয়, পারিবারিকভাবেই এনগেজমেন্ট সম্পন্ন হয় অপরিচিত দুইটি মানুষের। সবাই ঠিক করেন দুই মাস পর বিয়ে হবে। এতটুকু সময়ের মাঝে পরিচিত হতে হবে দুজনকে। কী করে সম্ভব? দুই মাসের মাঝে কী মানুষকে চেহা যায়?

 

থমথমে মুখ, ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা নিয়ে এনগেজমেন্টের দিন আংটি পরানো। 

তবে একটা ব্যাপার শুরু থেকেই বোঝা গেল। দুজনের মাঝে আকাশ পাতাল তফাৎ। মেয়েটি চঞ্চল, ছেলেটি একবারেই চুপচাপ। মেয়ের পছন্দ পাস্তা, ছেলের পছন্দ গরম ভাত। এনগেজমেন্টের পর থেকেই দিন রাত মোবাইলে তুমুল ঝগড়া চলে এসব নিয়েই। একটা সময়ে গিয়ে শুধু কথায় কথা বাড়ে। বোঝা যায় দুজনের মাঝে তাল কেটে যাচ্ছে কোথাও। 

“আপনাকে আমি বিয়ে করবো না,” রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলে মেয়েটি। “সকালটা হোক, আব্বু আম্মুকে ডিসিশন জানিয়ে দিব।”

“আসলেই আমাদের কিছুতেই যখন মেলে না, তখন এটাই ভালো,” সায় দেয় ছেলেটি। 

এরপর?

অনেক গল্প এখানেই থেমে যায়। জীবনের বইতে নতুন একটা অধ্যায় শুরু হয়। কিন্তু এখানে তা নয়। 

সকাল সকাল মেয়েটিকে ফোন দেয় ছেলেটি, সে নাকি মেয়েটার বাসার নিচে দাঁড়িয়ে। এহেন আচরণে বিরক্তই হলো মেয়েটি। ঘুমের সময়ে পরে থাকা এলোমেলো বেশ, পায়ে স্পঞ্জের চটি পরেই সে নিচে চলে যায়, ভাবে একচোট ঝগড়া হবে আরো, এনগজমেন্ট রিংটা ফেরত দিয়ে চলে আসবে।

কিন্তু না, ছেলেটা মেয়েটাকে বলে সিএনজিতে উঠতে, যাওয়া হবে শীতের পাখি দেখতে। মেয়েটি জোরাজুরিতে নিমরাজি হয়, ভাবে হয়ত জাহাঙ্গীর নগর ক্যাম্পাসে যাবে, কিন্তু একি! সিএনজি থামলো এয়ারপোর্টে!

‘কোথায় যাচ্ছি আমরা?’

‘আকাশে। আকাশে উড়ে পাখি দেখব, আর নিচে নেমে সমুদ্র।‘

হতভম্ব হয়ে কান্না শুরু করে দেয় মেয়েটি। তার অভিমান একটু একটু করে কমে, “আমি না হয় গরম ভাতের সাথেই পাস্তা মিশিয়ে খাব,’ বলে ছেলেটি। এই মানুষটিকে কষ্ট দেওয়া যায় কীভাবে? সেই মুহূর্তেই হয়তো ভালোবাসার শুরু, একে অপরের চোখে অদৃশ্য মায়াজালে বন্দী হয়ে যাওয়া। 

হঠাৎই মনে পড়ে, মেয়েটির পায়ে এখনো স্পঞ্জের স্যান্ডেল। এমন বেহাল অবস্থা নিয়েই তাদের চট্টগ্রামে যাত্রা। ‘সিম্পল থাকলেই অনেক সুন্দর লাগে আপনাকে, এই স্পঞ্জের স্যান্ডেলটা রেখে দিবেন, এটা পরে এমন অনেক ট্যুর দিতে চাই,’ হেসে বলে ছেলেটি। মেয়েটি ভাবে, এই মানুষটিকে যতটা বেরসিক ভেবেছিলেন অতটা নয়। 

 

আকদের গল্পটা দারুণ মজার!

তাদের আকদের গল্পটা না বললেই নয়। অনেক কান্নাকাটি করে কবুল বললেন মেয়েটি। বান্ধবীরা তাকে বসিয়ে দিলেন নতুন বরের পাশে। ছেলেটি শংকা নিয়েই বললেন, “ঠিকমত কবুল বলেছেন তো?”

আর যাবে কোথায়! মেয়েটি বললেন, “না! কান্নাকাটি করছিলাম তো অনেক! আব্বা হাইপার হয়ে কবুল বলে ফেলেছেন, আপনার সাথে আমার আব্বার বিবাহ হয়েছে, আমাকে ভুলেও ধরবেন না!”

 

ছেলেটি হলো ইজাজুল ইসলাম, আর মেয়েটি হলো আফরিন রুমনা। রুমনা ভাবতেন বিয়ে মানেই দেশ ভাগের মত বস্তা-বাক্স নিয়ে অপরিচিত কোথায় চলে যাওয়া, নিজের সবকিছু ছেড়ে চলে আসে। মনের মাঝে ভয় কাজ করত তার, ভাবতেন কত না কঠিন হবে সংসার, কত না স্যাক্রিফাইস করতে হয়। নতুন পরিবারের মন রাখতে কী না কী করতে হয়। কিন্তু জীবনসঙ্গীর সাথে তার জীবনটি এখন সুখে ভরপুর।

আজকের ময়মনসিংহ
আজকের ময়মনসিংহ