ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিববঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’
  • সোমবার   ০১ জুন ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৭ ১৪২৭

  • || ০৯ শাওয়াল ১৪৪১

আজকের ময়মনসিংহ
২৪৪

পাপিয়ার ভুয়া তালিকা তৈরির মূল হোতা মতিউর রহমান ও আসিফ নজরুল!

আজকের ময়মনসিংহ

প্রকাশিত: ৫ মার্চ ২০২০  

কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় পাপিয়া সঙ্গে বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জড়িয়ে যে ভুয়া তালিকা ছড়ানো হয়, সেই তালিকাটি দৈনিক মানবজমিন অফিসে সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী ও অধ্যাপক আসিফ নজরুলের উপস্থিতিতে তৈরি করা হয় বলে মানবজমিন পত্রিকার একটি গোপন সূত্র নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, তালিকাটি টাইপ করানো হয় দৈনিক মানবজমিনের রিপোর্টার আলামিনকে দিয়ে। এসময় দৈনিক মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, অধ্যাপক আসিফ নজরুল ছাড়াও তাদের ফোনের অপর প্রান্তে ছিলেন সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান। এছাড়াও ফোনের অপর-প্রান্তে লন্ডনে আরেকজন ছিলেন যার সাথে মতিউর রহমান চৌধুরী ও আসিফ নজরুল বাংলায় কথা বলেছেন, তবে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মানবজমিন পত্রিকার একটি সূত্র আরো জানায়, রোববার বিকেলে সাড়ে ৫টায় মানবজমিন অফিসে অবস্থান করছিলেন মতিউর রহমান চৌধুরী। এসময় সেখানে আসেন আসিফ নজরুল। পরে মতিউর রহমান ডেকে পাঠান তার বিশ্বস্ত রিপোর্টার আল আমিনকে। তাকে পাপিয়া কেলেঙ্কারি নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করতে বলেন তিনি। এসময় আল আমিন জানায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো সুনির্দিষ্ট করে কারো সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায়নি। এমনকি তারা পাঁচতারকা হোটেল ওয়েস্টিন থেকে এখনো কোনো ফুটেজ উদ্ধার করতে পারেনি। পরে মতিউর রহমান সোশ্যাল মিডিয়া থেকে কিছু গসিপ যুক্ত করে প্রতিবেদন তৈরি করতে বলেন। এসময় আসিফ নজরুল বলেন, আজকের প্রতিবেদনে সরাসরি কোন নাম না দিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণভাবে কিছু মন্ত্রী, এমপি, সচিব, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও কিছু ব্যবসায়ীকে ইঙ্গিত করবে। এসময় ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির সাবেক সাংবাদিক মাহবুবের বানানো দুটি ইউটিউব ভিডিওর তথ্যের সহায়তা নেওয়ার জন্য নিদের্শনা দেন মতিউর রহমান।

প্রসঙ্গত, ক্যাসিনো ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হবার পর দেশ থেকে পালিয়ে লন্ডন চলে যান মাহবুব। এরপর থেকে মাহবুব লন্ডনে তারেক রহমানের মিডিয়ার সেলের সাথে কাজ করে।

ঘন্টাখানেক পরে আলামিন প্রতিবেদটি তৈরি করে দিলে মতিউর রহমান নিজে সংবাদটি এডিট করেন। এসময় আসিফ নজরুল সেখানে কিছু লাইন যুক্ত করেন। এর পরদিন (সোমবার) বিকেলে মানবজমিন অফিসে আবার আসেন আসিফ নজরুল। সঙ্গে ছিলেন সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্ত নামের একজন দন্ত চিকিৎসক। তারা সেখানে বসে দেশের বাইরের কোন একজনের সাথে কথা বলেন।

এসময় আসিফ নজরুল বলেন, কাজ অনেকটা হয়ে গেছে, এখন নাম যুক্ত করতে হবে। এরপর তৈরি করেন কাল্পনিক একটি তালিকা। সেখান থেকে মতিউর রহমান ফোন করেন ক্রাইম রিপোর্টার এসোসিয়েশনের নেতা আবু সালেহ আকনকে। আবু সালেহ আকন এখনো প্রকাশ্য জামাত করেন। তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় ক্রাইম রিপোর্টারদেরকে একইভাবে ব্রিফিং করার জন্য। সাধারণত এই ধরনের সংবাদ মিডিয়া হাউজগুলোতে ক্রাইম রিপোর্টারদেরকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়। আবু সালেহ আকন ক্রাইম রিপোর্টারদেরকে একে একে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ডেকে নির্দেশনা মোতাবেক ব্রিফিং করেন। ক্রাইম রিপোর্টাররা যেন তাদের অফিসে গিয়ে বলে পাপিয়ার সাথে কারা কারা জড়িত ছিলেন।

একইদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আলামিন তালিকা তৈরি করে নিয়ে আসেন। যেখানে মতিউর রহমান ও আসিফ নজরুলের নির্দেশনা মত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের নাম বসানো হয়। পরে আসিফ নজরুলের মতামত অনুযায়ী তালিকাকে বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য সেখানে কিছু কম গুরুত্বপূর্ণ ও অন্যান্য দলের এমপিদের নাম, ব্যবসায়ীদের নাম ঢুকানো হয়। এসময় প্রিন্ট করা কপি থেকে মোবাইল ফোনে ছবি তুলেন আসিফ নজরুল। এরপর তা বিভিন্ন বিশ্বস্ত জায়গায় পাঠিয়ে দেন তিনি।

এব্যাপারে ডিএমপির উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, যারাই কথিত তথ্য হিসেবে বিভিন্ন ব্যক্তির নাম ও পরিচয় প্রকাশ এবং প্রচার করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রাজনীতি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর