ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিববঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’

বুধবার   ১৩ নভেম্বর ২০১৯   কার্তিক ২৯ ১৪২৬   ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

আজকের ময়মনসিংহ
১৫

দেশের জনপ্রিয় ২১ মিষ্টি, যা একবার হলেও খাওয়া উচিত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০১৯  

অনেকে মিষ্টি বেশ পছন্দ করেন, আবার কেউ কেউ মিষ্টি দেখলে ‍মুখ ফিরিয়ে নেন। কিন্তু দেশের বিভিন্ন জেলায় এমন কিছু বিখ্যাত মিষ্টি আছে, যেগুলো চেখে দেখতে ভুল করেন না কেউই। অনেকে তো শুধু মিষ্টি খেতেই পাড়ি দেন বিভিন্ন জায়গায়। এমনই ২১টি জনপ্রিয় মিষ্টির খোঁজ জানানো হলো এই আয়োজনে। চার পর্বের প্রথম পর্ব রইলো আজ-

নাটোরের কাঁচাগোল্লা

নাটোরের কাঁচাগোল্লা

নাটোরের কাঁচাগোল্লা

এটা শুধু মিষ্টির নামই নয়, ইতিহাসও বটে! আনুমানিক আড়াই শ’ বছর পূর্বেও নাটোরের কাঁচাগোল্লার কথা ইতিহাসে পাওয়া যায়। সুপ্রাচীন কাল থেকে মিষ্টি রসিকদের রসনা তৃপ্ত করে আসছে এই মিষ্টি। মিষ্টি প্রেমী তবে, জিভে জল আনা কাঁচাগোল্লার স্বাদ নেয়নি তাদের জীবনের ষোল আনাই বৃথা।

শহরের রানীভবানী প্রতিষ্ঠিত জয়কালী মন্দির সংলগ্ন দ্বারকানাথ কুন্ডু মিষ্টির দোকানে ১৬০ বছর ধরে সুনামের সঙ্গে কাঁচাগেল্লাসহ অন্যান্য মিষ্টি তৈরি হয়ে আসছে। বড়গাছা এলাকার দ্বারিকা নাথ কুন্ডু একই সঙ্গে ছিলেন কারিগর ও দোকানের মালিক। তার মৃত্যুর পর তার ছেলে ননীগোপাল কুন্ডু দোকানের হাল ধরেন। তিনি মারা গেলে বর্তমানে তার ছেলে রবীন্দ্রনাথ কুন্ডু সুনামের সঙ্গে কাঁচাগোল্লা তৈরি ও বিক্রি করছেন।

কারিগর রবী কুন্ডু, অরুন পাল জানান, খাঁটি দুধের ছানা ও চিনি কাঁচাগোল্লা তৈরির প্রধান উপাদান। ১ কেজি কাঁচাগোল্লা তৈরি করতে প্রায় ১ কেজি কাঁচা ছানা লাগে। এই ছানা হতে হবে ননি ও সর না তোলা দুধের। ৪০০  গ্রাম চিনি কড়াইতে নিয়ে পরিমাণমত পানিসহ জ্বাল দিতে হয়। এ সময় কাঠের খুন্তি দিয়ে নাড়তে হয়। এভাবে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট ধারাবাহিকভাবে নাড়তে নাড়তেই কাঁচাগোল্লা তৈরি হয়ে যায়।

 

পোড়াবাড়ির চমচম

পোড়াবাড়ির চমচম

টাঙ্গাইলের পোড়াবাড়ির চমচম

পোড়াবাড়ির চমচম সর্বপ্রথম তৈরি করেন দশরথ গৌড়। আসাম থেকে টাঙ্গাইলে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। ধলেশ্বরী নদীর সুস্বাদু পানি ও দেশি গাভীর খাঁটি দুধ দিয়ে বিশেষ এই মিষ্টি তৈরি শুরু করেন। তার সাফল্য দেখে অন্যরাও তাকে অনুসরণ করতে শুরু করেন। এভাবেই পোড়াবাড়ি গ্রামটি চমচমের জন্য খ্যাতি লাভ করে।

টাঙ্গাইল শহরে পা রাখতেই চোখে পড়ে অসংখ্য মিষ্টির দোকান। রসগোল্লা, সন্দেশ, আমির্তি, রসমালাইসহ চেনা মিষ্টি দিয়ে সাজানো। তবে মূল আকর্ষন চমচম। টাঙ্গাইলে পোড়াবাড়ির চমচম আকারে বড় ডিম্বাকৃতি। এই মিষ্টি অনেক দোকানেই বিক্রি হয়, তবে সবচেয়ে পুরনো দোকানের মধ্যে অন্যতম ‘জয়কালী’। এই দোকান শুরু হয়েছিল খোকা ঘোষের হাতে, বর্তমানে যা পরিচালিত হচ্ছে তার ছেলে স্বপন ঘোষের হাতে। গত প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ বছর ধরে এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত আছেন।

 

বগুড়ার দই

বগুড়ার দই

বগুড়ার দই

বগুড়ার খাবারের কথা উঠলেই প্রথমে আসে দই। কোনো বিকল্প নেই। দইয়ের স্বাদ না নিয়ে বগুড়া ছাড়া খুব কষ্টসাধ্য। প্রায় ২০০ বছর বয়স হতে চলল। বগুড়ার নওয়াববাড়িতে বেড়াতে এসে ব্রিটিশরাও এর স্বাদ নিয়েছিল। বিলাতে ফিরে গিয়ে গল্পও বলেছে।

দেশের গুণী কথাশিল্পী সৈয়দ মুজতবা আলীর লেখায় বাংলাদেশের রসগোল্লা নিয়ে রোম এয়ারপোর্টে কি কাহিনিই না ঘটেছিল। রসগোল্লার স্বাদ পেতে ইমিগ্রেশনের বড়কর্তা নাছোড় বান্দার মতো জেরা করে শেষ পর্যন্ত রসগোল্লার হাঁড়ি খুলেই ফেলেছিল। এমন মজার গল্প আজও পাঠকদের নাড়া দেয়। বগুড়ার দই এখন আর কোনো নিদিষ্ট এলাকায় নয়, সারা দেশ বা ঢাকার বাজারও দখল করে নিয়েছে।

 

ফেনীর খন্ডলের মিষ্টি

ফেনীর খন্ডলের মিষ্টি

ফেনীর খন্ডলের মিষ্টি

সত্তরের দশকে যোগাল দাশ তৈরি করেন এই মিষ্টি। অল্পদিনের মধ্যে তার তৈরি মিষ্টির সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৭০ সালে পরশুরামের খন্ডল স্কুলের পাশে একটি ছোট দোকান দেন যোগাল। গরুর দুধের সঙ্গে সামান্য ময়দা, আর চিনি দিয়ে তৈরি করা হয় এই মিষ্টি। সুস্বাদু এই রসগোল্লার স্বাদ যারা মিষ্টি অপছন্দ করেন তাদেরকেও তৃপ্ত করবে।

এখানে দূর-দুরান্ত থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য বা কখনো কখনো গরম মিষ্টি খাওয়ার জন্য ছুটে যায় মানুষ। এদিকে দিন-দিন এ মিষ্টির কদর বাড়ায় এখানকার দোকানদাররাও বেজায় খুশি। খন্ডলের আবদুল কাদের নামের এক মিষ্টি কারিগর জানান, দুধের সঙ্গে সামান্য ময়দা ব্যবহার করা হয় ছানাকে গাড় করার জন্য। এছাড়া অন্য কোনো উপাদান ব্যবহার করা হয় না। এরপর মন্ড বানিয়ে করে মিষ্টি তৈরি করা হয়। এক কেজি মিষ্টি বিক্রি হয় ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়।

 

মুক্তাগাছার মণ্ডা

মুক্তাগাছার মণ্ডা

মুক্তাগাছার মণ্ডা

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার নাম নিলেই চলে আসে মণ্ডার নাম। এখানকার মণ্ডার সুখ্যাতি শোনেননি, এমন মানুষ বোধ হয় কম পাওয়া যাবে। আর এই মানুষেরা মণ্ডার নাম শুনে দেরি করেন না। কিনে নেন সুস্বাদু এই মিষ্টি। ময়মনসিংহ সদর থেকে ১৬ কিলোমিটার পশ্চিমের মুক্তাগাছা। সেখানে গেলে এক সঙ্গে জমিদারবাড়ি দর্শন করাও হয় সঙ্গে মণ্ডার স্বাদও নেয়া যায়। মুক্তাগাছায় গিয়ে মণ্ডা না খেলে কি চলে! এখানে মণ্ডার জন্য সবচেয়ে প্রসিদ্ধ দোকানের নাম ‘গোপাল পালের প্রসিদ্ধ মণ্ডার দোকান’।

দেশের বাইরেও মণ্ডার রয়েছে আলাদা কদর। উপমহাদেশের প্রখ্যাত সারোদ বাদক ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ ও রাশিয়ার কমরেড স্ট্যালিন মণ্ডা খেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে প্রশংসা করেছেন। দুধ ও চিনি মণ্ডা তৈরির মূল উপাদান। বর্তমানে ২০টির এক কেজি মণ্ডা ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। মণ্ডা তৈরির পর ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হয় না। স্বাভাবিক তাপমাত্রায় গরমের সময় ৩/৪ দিন ও শীতকালে ১০/১২ দিন ভালো থাকে।

আজকের ময়মনসিংহ
আজকের ময়মনসিংহ