ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিববঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’
  • সোমবার   ০১ জুন ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৭ ১৪২৭

  • || ০৯ শাওয়াল ১৪৪১

আজকের ময়মনসিংহ
১৬৫

তারেক রহমানের ‘আন্তরিকতায়’ বেপরোয়া হয়ে ওঠেন পাপিয়া!

আজকের ময়মনসিংহ

প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

গিরগিটির মতো রং বদলানোই যেন শামিমা নূর পাপিয়ার কাজ। সম্প্রতি তিনি মাদক, বিদেশে টাকা পাচার ও অবৈধ অস্ত্র রাখার অপরাধে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

পাপিয়া গ্রেপ্তারের পর থেকেই একের পর এক বেরিয়ে আসছে থলের বিড়াল। নতুন তথ্য হলো, পাপিয়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অনেক রাজনীতিবিদের শয্যাসঙ্গী হয়ে নিজের স্বার্থ সিদ্ধি করেছেন। এমনকি তারেক রহমানের আহ্লাদ ও আন্তরিকতায় তিনি পা রাখেন অন্ধকার জগতে। অল্প দিনেই রূপের মোহ ও রাজনৈতিক ক্ষমতাকে লাগিয়ে বনে যান এই জগতের রাণী।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়িক অংশীদার গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের সঙ্গে অন্তরঙ্গতা ছিল পাপিয়ার। তার মাধ্যমেই তারেক রহমানের সখ্যতা হয় পাপিয়ার। একে-অপরকে আরো গভীরভাবে জানতে তারা প্রায়ই সময় কাটাতেন গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের বাগানবাড়ি ‘খোয়াব ভবন’-এ। সেখানে প্রায় প্রতি রাতেই বসতো মদ, নাচ ও জুয়ার আসর। ওই আসরে আমন্ত্রিত অতিথিদের মনোরঞ্জনে ব্যস্ত থাকতো বিভিন্ন বয়সী নারীরা। যাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন এই পাপিয়া। তিনি রূপের মোহে ছলে-বলে-কৌশলে তারেকের প্রিয়ভাজন হয়ে ওঠেন। তাকে খুশি করতে একাধিকবার তার সঙ্গে রাত্রিযাপন করেন। এসময় তিনি নিজের স্বার্থ হাসিল করতে মদ্যপ তারেককে দিয়ে বিভিন্ন আবদার পূরণ করে নিতেন। করাতেন বিভিন্ন মহলে তদবিরও। এমনকি অন্তরঙ্গতার চরম মুহূর্তে তারেক রহমানকে বাধ্য করতেন বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসায় মদদের জন্য।

এদিকে আরও জানা গেছে, তারেক রহমান ও গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের মিশন বাস্তবায়নের জন্য পাপিয়াকে সুকৌশলে যুব মহিলা লীগে প্রবেশ করায় বিএনপি। তার সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতারা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতেন। অনুসন্ধানে এমন মোবাইল নাম্বারও পাওয়া গেছে। এই মোবাইল নাম্বারগুলোতে পাপিয়া গ্রেপ্তার হওয়ার আগের দিন পর্যন্ত কথা বলেছেন, এমন সত্যতাও মিলেছে। যাদের সঙ্গে পাপিয়া কথা বলতেন, তারা দেশ-বিদেশে অবস্থানরত বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা। তাদের মধ্যে আবার অনেক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীও রয়েছেন।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, বিভিন্ন সময়ে পাপিয়া যখন বিভিন্ন জায়গায় আটকে যেতেন-তখন তিনি বলতেন, আমি তারেক রহমানের লোক, এটা তোরা জানিস? ভালো চাইলে আমারে ছেড়ে দে। এভাবে দিনের পর দিন বেপরোয়া হয়ে ওঠেন পাপিয়া। মানুষকে ঠকিয়ে, জিম্মি করে এবং অবৈধ অস্ত্রের ব্যবসা করে গড়েছেন নিজের অর্থ সাম্রাজ্য। হয়েছেন দেহপসারিনীদেরও নেত্রী।

রাজনৈতিক বিজ্ঞজনরা বলছেন, পাপিয়াদের জন্ম দিয়েছে বিএনপি। শুধু তাই নয়, ষড়যন্ত্র করে তাদেরকে ক্ষমতাসীন সরকারের দলে ভিড়িয়ে দিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের মাধ্যমে বহির্বিশ্বে সরকারের ইমেজ নষ্ট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে দলটি। তবে তারা হয়তো ভুলে গেছেন, চোরের সাতদিন গৃহস্থের একদিন। আর তার ফলাফল ইতোমধ্যে তারা হাতেহাতে পাওয়া শুরু করেছেন।

রাজনীতি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর