ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিববঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’

বুধবার   ১৩ নভেম্বর ২০১৯   কার্তিক ২৮ ১৪২৬   ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

আজকের ময়মনসিংহ
৬৭৩

টিয়া পাখির বৈচিত্র্যতা!

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারি ২০১৯  

পৃথিবীর সবচেয়ে রঙিন বৈচিত্র্যময় পাখিদের মধ্যে টিয়া পাখি অন্যতম। মানুষের অনুকরণে কথা বলার ক্ষমতা এই সুন্দর পাখিগুলোকে করেছে ভীষণ জনপ্রিয়। এই বুদ্ধিমান পাখিদের বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে রয়েছে প্রচুর বৈচিত্র্যতা। তাই এদের সম্পর্কে অজানা ও চমকপ্রদ তথ্যেরও যেন কোনো শেষ নেই! তাদের নিয়ে ঘটা কিছু মজার ঘটনা সম্পর্কে তবে জেনে নিন-

১। হেটবিক নামে একটি ডেথ মেটাল ব্যান্ড রয়েছে, যেটির একমাত্র ভোকালিস্ট বা কণ্ঠশিল্পী হলো একটি ধূসর রঙের টিয়া পাখি। পাখিটির নাম ওয়ালডো।

২। পৃথিবীর সবচেয়ে পলায়নপর ও গা-ঢাকা দিয়ে থাকা পাখি হলো অস্ট্রেলিয়ান নাইট প্যারোট নামের এক প্রজাতির টিয়া পাখি। গত এক শতাব্দীতে মাত্র তিনবার তাদের নিশ্চিতভাবে দেখা ও শনাক্ত করা গিয়েছে।

৩। টিয়া পাখিরা তাদের প্রখর বুদ্ধিমত্তার জন্য বেশ বিখ্যাত। বিশেষ করে বলতে গেলে গফিন কোকাটু জাতের টিয়া পাখির কথা বলতেই হয়। এরা তাদের বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে জটিল সব মেকানিকাল পাজলও সমাধান করতে পারে!

৪। টিয়া পাখির মোট ৪০০ টি ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতি রয়েছে! এত সব প্রজাতির মধ্যে শুধু একটি প্রজাতিই রয়েছে যারা উড়তে পারে না- তাদেরকে বলা হয় কাকাপো প্যারোট! আকারের দিক থেকে এরা টিয়া পাখির সবচেয়ে বড় প্রজাতি। কাকাপো টিয়া পাখিরা দীর্ঘ জীবন পেয়ে থাকে, এদের গড় আয়ু প্রায় ৯৫ বছর! তবে আশঙ্কার বিষয় টিয়া পাখির এই বৈচিত্র্যময় প্রজাতিটি বিলুপ্তির কাছাকাছি। ২০১৮ সালের হিসাব মতে পৃথিবীতে মাত্র ১৪৯ টি কাকাপো প্যারোট রয়েছে।

৫। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ দিকে একটি স্কচ হুইস্কি কোম্পানি তাদের মদের প্রচার প্রচারণার জন্য টিয়া পাখিদের বিভিন্ন স্লোগান দেয়ার প্রশিক্ষণ প্রদান করত। তারপর সেই টিয়া পাখিগুলোকে বিভিন্ন পাব ও বারে পাঠিয়ে দেয়া হতো, যাতে তারা সেসব স্থানে সারাদিন তাদের কোম্পানির গুণগান গাইতে পারে এবং ক্রেতারাও আকৃষ্ট হয়!

৬। মিনেসোটার সেইন্ট পলে বন্য ও মালিকানাহীন টিয়া পাখিদের জন্য একটি আশ্রম রয়েছে। সেখানে আশ্রিত টিয়া পাখিদের ছবি আঁকা শেখানো হয়! আশ্রমটির সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করা হয় টিয়া পাখিদের আঁকা ছবি গুলো বিক্রি করে!

৭। ভারতে টিয়া পাখিদের বাড়িতে এনে পোষা প্রাণী হিসেবে পালন করা বেআইনি।

৮। বিভিন্ন পশ্চিমা উপকথায় পাইরেট বা জলদস্যুদের সঙ্গে টিয়া পাখিদের বেশ সৌহার্দ্য লক্ষ্য করা যায়। অনেক গল্প, উপন্যাস ও সিনেমায় জলদস্যুদের কাঁধে পোষা টিয়া পাখি থাকার বর্ণনা পাওয়া যায়। এ ব্যাপারটি সর্বপ্রথম জনপ্রিয় হয় 'ট্রেজার আইল্যান্ড' উপন্যাসটির মাধ্যমে, যেখানে লং জন সিলভারের একটি কথা বলতে পারা পোষা টিয়া পাখি থাকে, যে টির নাম ক্যাপ্টেন ফ্লিন্ট!

৯। অনেকেই মনে করে থাকেন টিয়া পাখিদেরও মানুষের মতো ভোকাল কর্ড রয়েছে এবং তারা সেটি ব্যবহার করেই কথা বলে থাকে। কিন্তু আসলে টিয়াপাখিদের কোনো ভোকাল কর্ড নেই! তারা তাদের গলার পেশিকে বিভিন্ন ভাবে ব্যবহার করে বাতাসের চাপ সৃষ্টি করে এবং এভাবেই শব্দ উৎপন্ন করে।

১০। অধিকাংশ টিয়া পাখি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এবং উপগ্রীষ্মণ্ডলীয় অঞ্চল যেমন- অস্ট্রেলিয়া, এশিয়া, মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা এবং আফ্রিকায় বসবাস করে। বরফাবৃত অঞ্চলে বসবাসকারী মাত্র একটি জাতের টিয়া পাখি রয়েছে, তারা হল কিয়া প্যারোট। এদের পুরু পালকের স্তর অতি শীতল পরিবেশেও এদেরকে বাঁচতে সহায়তা করে। কিয়া প্যারোটরা সাধারনত উঁচু পর্বত গাত্রে শীতল পরিবেশে বসবাস করে।

১১। টিয়া পাখিদের সঠিক জীবনকাল নির্ধারণ করা কঠিন, কেননা প্রজাতি ভেদে এদের আয়ুও ভিন্ন হয়। সাধারণত এরা ৭ থেকে শুরু করে ৬০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে।

১২। সবচেয়ে বড় ডাল আর টিয়া পাখি হায়াসিন্থ ম্যাকাও, এদের ডানার দৈর্ঘ্য প্রায় ৫ ফুট!

আজকের ময়মনসিংহ
আজকের ময়মনসিংহ