ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিববঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’
  • মঙ্গলবার   ০২ জুন ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৯ ১৪২৭

  • || ১০ শাওয়াল ১৪৪১

আজকের ময়মনসিংহ
২৩২

ঘরে প্রবেশ করার দোয়া ও এর মর্মার্থ

আজকের ময়মনসিংহ

প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ঘরে প্রবেশ করার সময় রাসূল সালালাহু আলাইহি ওয়াসালাম যেই দোয়া পড়তেন, তা হলো- 

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَ الْمَوْلِجِ وَخَيْرَ الْمَخْرَجِ بِسْمِ اللَّهِ وَلَجْنَا وَبِسْمِ اللَّهِ خَرَجْنَا وَعَلَى اللَّهِ رَبِّنَا تَوَكَّلْنَا

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরল মাউলিজি, ওয়া খাইরাল মাখরাজি বিসমিল্লাহি ওয়ালাজনা ওয়া বিসমিল্লাহি খরাজনা ওয়া আলাল্লাহি রব্বানা তাওয়াক্কালনা।

অর্থ : আয় আল্লাহ, আপনার কাছে ঘরে প্রবেশের কল্যাণ প্রার্থনা করছি এবং ঘর থেকে বের হওয়ার সময়ও আপনার কল্যাণ প্রার্থনা করছি। আমি আল্লাহ তায়ালার নামেই বের হই। এবং আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ তায়ালার ওপর ভরসা করি। (আবু দাউদ, শরিফ)।

প্রবেশের কল্যাণ প্রার্থনা করি : এটি একটি সংক্ষিপ্ত দোয়া। এর অর্থ ব্যাপক তাৎপর্যপূর্ণ। এই দোয়ায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েকটি জিনিস প্রার্থনা করেছেন। উক্ত দোয়ার প্রথম বাক্যে তিনি বলেছেন, আয় আল্লাহ! আমি আপনার কাছে ঘরে প্রবেশের কল্যাণ প্রার্থনা করছি। অর্থাৎ ঘরে প্রবেশ করে যেন সুন্দর সুখকর প্রশানিদায়ক দৃশ্য দেখতে পাই। অসুন্দর ও অপ্রীতিকর দৃশ্য দেখতে না হয়। কেননা অমি ঘরের বাইরে কিছুক্ষণ ছিলাম। জানি না, আমার অবর্তমানে ঘরে কিছু ঘটেছে কিনা। তাই, আয় আল্লাহ, আমি যেন ঘরে প্রবেশ করে প্রশান্তি দায়ক আনন্দঘন ও কল্যাণকর দৃশ্য দেখতে পাই।

আমার প্রবেশ হোক কল্যাণকর : অনেক সময় মানুষ ভালোয় ভালোয় ঘর থেকে বের হয়। কিন্তু যখন ঘরে ফিরে আসে তখন দেখতে পায় কোনো বেদনাদায়ক দৃশ্য। যেমন, ঘরে ফিরে দেখল, পরিবারের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। অথবা দেখল কেউ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। কিংবা দেখল, পরিবারের কেউ ভীষণ দুশ্চিন্তায় আছে। এ কারণেই নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে প্রবেশ করার পূর্বে এই দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন। আয় আল্লাহ, আমি আপনার কছে ঘরে প্রবেশ করার কল্যাণ প্রার্থনা করছি, যাতে ঘরে প্রবেশের পর শান্তি সুখের দৃশ্য দেখতে পাই। পরিবারের সবাইকে যেন সুস্থ সহি সালামতে দেখতে পাই। আমাকে যেন অশান্তি ও অস্বস্তিকর কোনো গুনাহ খাতার দৃশ্য দেখতে না হয়। আয় আল্লাহ, আমার প্রবেশ হোক কল্যাণময়।

বের হওয়ার কল্যাণ প্রার্থনা : আলোচ্য দোয়ার দ্বিতীয় বাক্যে বলা হয়েছে, আয় আল্লাহ, আমি আপনার কাছে ঘর থেকে বের হওয়ার কল্যাণ প্রার্থনা করছি, যাতে আমার ঘরের বাইরে বের হওয়া কল্যাণকর ও মঙ্গল জনক হয়। এর অর্থ হলো, ঘর প্রবেশ করার পর আমি অনেক সময় এখানে থাকব। কিন্তু সব সময় থাকব না। কখনো প্রয়োজনে ঘরের বাইরে দূরে যেতে হবে। সুতরাং আবার যখন ঘরের বাইরে বেরুব, তখন যেন আমার এই বহির্গমন কল্যাণময় হয়। সে সময় যেন আমি শান্তি ও নিরাপদে থাকতে পারি, এই বাক্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হওয়ার এবং প্রবেশ করার এই দু’টি বিষয়ই অন্তভুক্ত করেছেন। অর্থাৎ আমার বের হওয়াও যেন কল্যাণময় হয় এবং আসার প্রবেশ করাও কল্যাণময় হয়। আমি যতক্ষণ ঘরে থাকব সহি সালামতে থাকতে পারি। প্রশান্তির সঙ্গে থাকতে পারি। কোনো দুঃখ দুর্দশার মুখোমুখি যেন আমাকে না হতে হয়।

আল্লাহ তায়ালার নামে প্রবেশ করি : দোয়ার তৃতীয় বাক্যে বলা হয়েছে, আল্লাহ তায়ালার নাম নিয়ে আমি ঘরে পবেশ করছি। এর অর্থ আয় আল্লাহ আমি আমার অবস্থা পরিবর্তনের জিম্মাদার আমি না। ঘরে গিয়ে সুন্দর সুখকর দৃশ্য দেখা আমার ক্ষমতা ও ইচ্ছাধীন না। আপনার ইচ্ছা ও ফয়সালা ব্যতীত কখনোই আমার ঘরে সুখ শান্তি আসতে পারে না। তাই আমি আপনার নাম নিয়ে ঘরে প্রবেশ করছি।

আল্লাহ তায়ালার নামে বের হই : দোয়ার চতুর্থ বাক্যে বলা হয়েছে, এবং আল্লাহ তায়ালার নাম নিয়ে ঘর থেকে বের হচ্ছি। অর্থাৎ, আমি যখন প্রবেশ করি আল্লাহ তায়ালার নামেই প্রবেশ করি। তারপর যখন ঘর থেকে বের হই, আল্লাহ তায়ালার নামেই বের হই এই দোয়ার মাধ্যমে আমরা আল্লাহ তায়ালার নিকট ফরিয়াদ করছি, আয় আল্লাহ আমার গমনাগমন, আমার বের হওয়া ও প্রবেশ দু’টিই মঙ্গলময় করুন।

আল্লাহ তায়ালার ওপর ভরসা করি : আলোচ্য দোয়ার শেষ বাক্যে বলা হয়েছে, আমরা আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ তায়ালার ওপর ভরসা করি। এর অর্থ হলো, আয় আল্লাহ আমি আপনার নিকট কল্যাণের দোয়া করেছি। এবং প্রার্থনা করছি কোনো অমঙ্গল যেন আমাকে স্পর্শ না করে। এই প্রার্থনা করার পরও যদি বাহ্যত কোনো অমঙ্গল জনক ঘটনা ঘটে যায়, তা হলে আয় আল্লাহ আমি আপনার ওপরই ভরসা করি। আপনি আমার জন্য যে ফয়সালা করবেন, তাই আমার জন্য উত্তম। আপনার নিকট প্রার্থনা করার আগ পর্যন্ত যে কোনো বিরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়াটাই ছিল স্বাভাবিক। বড় থেকে আরো বড় কোনো ঘটনাই ঘটে যেতে পারত। কিন্তু এখন আয় আল্লাহ, আমার সব বিষয় আশয় আপনার হাওলা করে দিয়েছি, এবং আপনার কাছেই কল্যাণ প্রার্থনা করছি। প্রার্থনা করেছি, এই বিশ্বাস নিয়ে যে, আপনি অবশ্যই আমাকে কল্যাণ দান করবেন। এরপর যদি হঠাৎ কোনো ঘটনা ঘটে যায়, যা বাহ্যত মঙ্গল জনক নয়, তারপরও আমি আপনার ওপর পূর্ণ আস্থা ও ভরসা রাখছি। কেননা বাহ্যিক ভাবে আমি এ ঘটনাকে অশুভ ও ক্ষতিকর মনে করছি, কিন্তু আল্লাহ তায়ালার ফয়সালা অনুযায়ী এটিই আমার জন্য উত্তম ও কল্যাণকর।

দোয়ার মাধ্যমে সব বিষয় আল্লাহর হাতে সোপর্দ করা হয় : এ কারণেই নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই শিক্ষা দিয়েছেন যে, যখন তোমরা আল্লাহ তায়ালার নিকট কোনো দোয়ার প্রার্থনা কর, তখন এই প্রার্থনার অর্থ হলো তোমরা তোমাদের সব বিষয় আল্লাহ তায়ালার কুদরতি হাতে সপে দিয়েছ। যেমন কেউ আল্লাহ তায়ালার নিকট প্রার্থনা করেছে, আয় আল্লাহ, আমার এই অসুখ হয়েছে। আমাকে সুস্থ করে দিন। দোয়া করা সত্তেও অসুখ ভালো হল না। বরং দীর্ঘায়িত হলো। তবে দীর্ঘদিন পর অসুখ সেরে উঠল। অনেকের ক্ষেত্রেই এমনটি হয়ে থাকে। বাহ্যিক ভাবে মনে হতে পারে দোয়া কবুল হয়নি। কিন্তু নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লামের শিক্ষা হল তুমি আল্লাহ তায়ালার নিকট যেই দোয়া করেছ, এর মানে হলো তুমি তোমার সব বিষয় আল্লাহ তায়ালার কুদরতি হাতে সপে দিয়েছ এবং বলেছ, আমার একান্ত ইচ্ছা, আমার এই অসুখ ভালো হয়ে যাক। এখন যদি আল্লাহ তায়ালা তোমার এই অসুখ আরো কিছু দিন জিইয়ে রাখেন, তাহলে বোঝতে হবে, অসুখ দীর্ঘায়িত হওয়া তোমার জন্য উত্তম ও কল্যাণকর। কারণ তুমি তোমার সব বিষয় আশয় আল্লাহ তায়ালার হাওলা না করতে তাহলে তোমার এই অসুখ তোমার জন্য আজাব হয়ে দাঁড়াত। কিন্তু যেহেতু আল্লাহ তায়ালার হাওলা করে দিয়েছ, তাই এই অসুখ তোমার জন্য নিঃসন্দেহে কল্যাণ বয়ে আনবে। 

প্রতিপালকের ওপর ভরসা : দেখুন আলোচ্য দোয়ায় কেবল এতটুকু বলা হয়নি وعلى الله توكلنا (আমরা আল্লাহর তায়ালার ওপর ভরসা করি) বরং ربنا  শব্দ বাড়িয়ে বলা হয়েছে,  وعلى الله ربنا توكلنا আমরা আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ তায়ালার ওপর ভরসা করি। যেহেতু তিনি আমাদের রব ও প্রতিপালক, তাই আমাদের জন্য তিনি যে ফয়সালাই করবেন তাই আমাদের জন্য কল্যাণ কর হবে। তিনিই জানেন, প্রতিপালন ব্যবস্থাপনায় কোন জিনিসটি আমার জন্য উত্তম ও উপযোগী হবে। সুতরাং তাই আমি তারই ওপর ভরসা করব। আমরা আদৌ জানি না আমাদের জন্য উত্তম ও কল্যাণকর বিষয় কোনটি। সুরাং আমরা সব কিছু তার হাওলা করছি এবং তারই ওপর ভরসা করে আমি ঘরে প্রবেশ করছি।

সুস্থ জীবন হাসিল হবে : এবার চিন্তা করুন যে ব্যক্তি ঘরে প্রবেশ করার সময় আল্লাহ তায়ালার নিকট কল্যাণের দোয়া করে এবং বলে, আয় আল্লাহ আমি আপনারই নামে প্রবেশ করছি। এরপর যখন চাইব তখন আপনারই নাম নিয়ে বেরুব এবং যে ব্যক্তি এই প্রার্থনা করে আয় আল্লাহ আমার সব বিষয়ে একমাত্র ভরসা আপনি। আয় আল্লাহ আমি একথা স্বীকার করছি যে, আপনিই আমার প্রভু ও প্রতিপালক। আপনি আমার ব্যাপারে যে ফয়সালা গ্রহণ করবেন তাই হবে উত্তম ও মঙ্গল জনক। যে ব্যক্তি এই দোয়া করে ঘরে প্রবেশ করবে, আল্লাহ তায়ালা কি তাকে ব্যর্থ নাকাম করতে পারেন। আল্লাহ তায়ালা কি এমন ব্যক্তিকে মাহরুম ও বিরত রাখতে পারেন? না, কখনোই এমন হওয়া সম্ভব না। দুনিয়া ও আখেরাতের হিসেবে আল্লাহ তায়ালা তার পারিবারিক জীবনকে সুস্থ্য, সুন্দর ও শান্তি পূর্ণ বানিয়ে দেবেন।

সারকথা : মোটকথা, এই দোয়া খানা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসালাম ঘরে প্রবেশ করার সময় পড়ার ব্যাপারে উৎসাহ দিয়েছেন। দোয়া খানা সবাইর মুখস্থ থাকা উচিত। দোয়ার মূল আরবি পাঠ মুখস্থ করার আগ পর্যন্ত মাতৃভাষায় এই দোয়া করবে, আয় আল্লাহ আমি আপনার নিকট ঘরে প্রবেশ করার কল্যাণ প্রার্থনা করছি। আমি আপনার নামে এবং আপনার ওপর ভরসা করে ঘরে প্রবেশ করছি। তাহলে ইনশা আলাহ! এই দোয়ার নুর ও বরকত খোলা চোখে দেখতে পাবে। আলাহ তায়ালা আমাকে এবং আপনাদের সবাইকে এর ওপর আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ধর্ম বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর