ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিববঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’
  • মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||

  • আশ্বিন ১৩ ১৪২৭

  • || ১১ সফর ১৪৪২

আজকের ময়মনসিংহ
১৫০

গৌরীপুরে জনপ্রিয় ডা. আশরাফুলের বদলিতে সাধারণ মানুষের কান্না!

আজকের ময়মনসিংহ

প্রকাশিত: ৩ ডিসেম্বর ২০১৯  

ডাক্তার শূন্যতায় যখন চিকিৎসা সেবার বেহাল হাল, জরুরি বিভাগেও ডাক্তার শূন্য। দুই বছর আগে ঠিক ওই অবস্থায় ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগ দিয়েছিলেন ডা. মো. আশরাফুল আলম কবির।

তার তত্ত্বাবধানে সোমবার (২ ডিসেম্বর) সকালে হাসপাতালে তিন নবজাতক জন্মদান, সুস্থ্য মা ও শিশুর নবহাসির মধ্য দিয়ে শেষ কর্মদিবস অতিবাহিত করেন। সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পাওয়ায় তার নতুন কর্মস্থল ঢাকা মহাখালীর নিপসম।

রোববার সকাল ১০টায় এ হাসপাতালে প্রবেশ করেন, টানা ২৪ ঘন্টা ডিউটি করে সোমবার ১০টায় হাসপাতাল থেকে তিনি বের হয়ে আসেন।

টানা ৭২ ঘন্টায় জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগে ২ হাজার ৩১৮জন রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে তাক লাগিয়ে দেন। সেই সময় মুখে মুখে ছড়িয়েও যায় ‘একাই একশ’!

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ডা. আশরাফুল আলম কবিরের বদলিতে হতাশ হয়ে পড়েছেন গৌরীপুরের রোগী ও স্বজনরা। তার মতো এমন বিশেষজ্ঞ ও রোগীবান্ধব চিকিৎসকের চলে যাওয়াকে অনেকে মেনে নিতে পারছেন না। অনেকেই তার বদলির খবরে নীরবে চোখের পানি ফেলেছেন।

এ ব্যাপারে ডা. মো. আশরাফুল আলম কবির যুগান্তরকে বলেন, ২০১৭ সালে যখন এ হাসপাতালে পোস্টিং হয় তখন থেকে ভয়, শংকা, আতঙ্ক ছিল। অনেকেই বলেছিল- ‘এ হাসপাতালে যাইস না; ডাক্তারকে মারে’। সেই ধারণা পাল্টে গেছে; মায়াও লাগছে আজ রাতেও কেঁদেছি, চারপাশের মানুষ অনেক সহযোগী, সত্যিই খুব খারাপ লাগছে। কথাগুলো বলতে বলতেই সেই ডাক্তারের চোখের কোনায় জমে যায় ‘মায়াজল’।

তিনি ২৭তম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী সার্জন হিসাবে জামালপুরে যোগদান। প্রথম কর্মস্থল ছিলো নদীভাঙন কবলিত পাথশী উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র। যেখানে স্থাপনা নেই, ডাক্তার বসার স্থান নেই, ছিলো না কোন উপকরণ সেই চরাঞ্চলের মানুষের সেবা দেয়ার জন্য বিছানাপত্র নিয়ে সেখানে দিনরাত কেটেছিল। এরপরে গফরগাঁও ও ফুলবাড়িয়া উপজেলায় সেবা দেন। গৌরীপুর হাসপাতাল থেকে প্রেষণে একমাস ছিলেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে, সেখানেও সাধারণ মানুষের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠেন।

তার বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার বাকতা গ্রামে। বড় হন ময়মনসিংহের আকুয়া এলাকায়। বাবা আলহাজ মো. গোলাপ মিয়া, মাতা উম্মে কুলসুম।

ফুলবাড়িয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৯৪ সালে এসএসসি ও ১৯৯৬ সালে আনন্দমোহন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেডিসিন বিভাগে এমডি করেন।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্লাস্টিক সার্জন ডা. সুলতানা রাজিয়ার সঙ্গে ২০০৮সালে দাম্পত্য জীবন শুরু করেন। এ চিকিৎসক দম্পতির ঘর আলো করেছে তার দুই কন্যা। বড় মেয়ে সামিহা চতুর্থ শ্রেণিতে ও ছোট মেয়ে তবিয়া কেজিতে অধ্যয়নরত।

ময়মনসিংহ বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর