ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিববঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’

শনিবার   ১৯ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৩ ১৪২৬   ১৯ সফর ১৪৪১

আজকের ময়মনসিংহ
১৮

‘গিবত’ একটি ব্যাধি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭ অক্টোবর ২০১৯  

দুনিয়াতে যত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় ‘গিবত’ তার অন্যতম কারণ। এটি সমাজবিধ্বংসী একটি ব্যাধি। গিবতের কারণে ভ্রাতৃত্ব নষ্ট হয়। পরস্পরে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়।  

‘গিবত’ শব্দের অর্থ পরনিন্দা, পরচর্চা, পেছনে সমালোচনা ও দোষচর্চা ইত্যাদি এ ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেন, 

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اجْتَنِبُوا كَثِيرًا مِّنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا يَغْتَب بَّعْضُكُم بَعْضًا أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَن يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ تَوَّابٌ رَّحِيمٌ

‘হে মুমিনগণ, তোমরা অধিক ধারণা থেকে বেঁচে থাকো। নিশ্চয় কতক ধারণা গোনাহ। আর কারো গোপনীয় বিষয় অনুসন্ধান করো না। তোমাদের কেউ যেন কারো পশ্চাতে নিন্দা না করে। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের মাংস খেতে পছন্দ করবে? বস্তুতঃ তোমরা তো একে ঘৃণাই কর। আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয় আল্লাহ তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।’ (সূরা হুজুরাত, ৪৯ : ১২) 

`গিবত' কাকে বলে?
এ বিষয়ে হাদিসে এসেছে, একবার রাসূল (সা.) সাহাবীদের জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমরা কি গিবতের পরিচয় জানো?’ তারা বললেন, ‘আল্লাহ ও তার রাসূলই অধিক অবগত।’ তখন তিনি বললেন, ‘তোমার কোনো ভাই সম্পর্কে এরূপ কথা বলা, যা সে অপছন্দ করে, তাই গিবত।’ জিজ্ঞাসা করা হলো, ‘আমি যা বলি তা আমার ভাইয়ের মধ্যে থাকলেও কি?’ রাসূল (সা.) বললেন, ‘তুমি যা বলো তার মধ্যে তা থাকলে তুমি তার গিবত করলে। আর যদি তার মধ্যে তা না থাকে তখন তুমি তার ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করলে।’ (মুসলিম, আসসাহিহ : ৬৭৫৮) 

সাহল ইবনু সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, 

مَنْ يَضْمَنْ لِي مَا بَيْنَ لَحْيَيْهِ وَمَا بَيْنَ رِجْلَيْهِ أَضْمَنْ لَهُ الْجَنَّةَ

‘যে ব্যক্তি আমার কাছে তার দু’চোয়ালের মধ্যস্থিত বস্তু (জিহ্বা) এবং দুপায়ের মধ্যস্থিত বস্তুর (লজ্জাস্থান) জিম্মাদার হবে, আমি তার জন্য বেহেশতে জিম্মাদার হব।’ (বুখারি, আসসাহিহ : ৬৪৭৪) 

আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত। একবার রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘তোমরা কি জানো কিয়ামতের দিন অধিক মানুষ কী কারণে জান্নাতে প্রবেশ করবে?’ (তিনিই বললেন) তাকওয়া ও উত্তম চরিত্রের কারণে। (আবার প্রশ্ন করলেন) ‘তোমরা কী জানো কিয়ামতের দিন অধিক মানুষ কী কারণে জাহান্নামে প্রবেশ করবে?’ (তিনিই বললেন) ‘মুখ ও লজ্জাস্থানের কারণে।’ (তিরমিযি, আসসুনান : ২০০৪)

প্রখ্যাত তাবিয়ি সাইদ ইবনুল মুসায়্যিব (রহ.) বলেন, একদিন আমি আবু যর গিফারি (রা.)-কে মসজিদে কালো চাদর মুড়ি দিয়ে বসা দেখতে পাই। তখন আমি তাকে প্রশ্ন করলাম, ‘একাকী থাকা কী? কী তার হাকিকত?’ তখন তিনি বললেন, ‘একাকী থাকা উত্তম খারাপ লোকের সংস্পর্শে থাকার চেয়ে। একাকী থাকা খারাপ, সৎলোকের সংস্পর্শে থাকার চেয়ে। চুপ থাকা উত্তম, খারাপ কথা প্রচার-প্রসার করার চেয়ে, কল্যাণকর কথা বলা উত্তম চুপ করে থাকার চেয়ে।’ 

আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে গিবত বা পরচর্চা থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আজকের ময়মনসিংহ
আজকের ময়মনসিংহ
এই বিভাগের আরো খবর