ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিববঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’

শনিবার   ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৩ ১৪২৬   ০৯ রবিউস সানি ১৪৪১

আজকের ময়মনসিংহ
৩৩৪

কোকোতে কী লাভ হলো আফ্রিকার?

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর ২০১৮  

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি কোকো উৎপাদিত হয় পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোয়। চকলেট তৈরির মূল উপাদান কোকো। এই কোকোগাছের জন্য আফ্রিকার রেইনফরেস্ট সবচেয়ে উপযুক্ত জায়গা। আফ্রিকায় কোকো কীভাবে এল—এর ছোট্ট একটা গল্প আছে। তেতেহ কোয়ারশি নামের এক কামার প্রথম কোকো বীজ নিয়ে আসেন ঘানায়।

১৮৪২ সালে এক কৃষক পরিবারে জন্ম নেন তেতেহ। কৃষক পরিবারে জন্ম হলেও কৈশোর থেকেই কামারের কাজে আগ্রহ তৈরি হয় তাঁর। ওই বয়সেই একটা ওয়ার্কশপে কাজ নেন। সেই থেকে কামারের কাজ ছিল তাঁর পেশা আর কৃষিকাজ ছিল তাঁর শখ। ১৮৭০ সালে স্প্যানিশ উপনিবেশ ফার্নান্দো পো (বর্তমানে গিনির বায়োকো) ভ্রমণের জন্য সমুদ্রপথে যাত্রা করেন তেতেহ। প্রায় ছয় বছর পর ১৮৭৬ সালে ঝোলাতে লুকিয়ে বেশ কয়েকটি কোকোর বীজ নিয়ে ঘানায় ফিরে আসেন তিনি। ওই বীজ বাড়িতে এনে রোপণ করেন তেতেহ এবং নতুন ইতিহাসের জন্ম দেন। ব্যাগে করে আনা ওই বীজ গোটা জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দিয়েছে। জাতীয় বীর হিসেবে তাঁকে স্মরণ করে আফ্রিকাবাসী।

তবে এই বীজ কিন্তু তেতেহকে ধনদৌলত এনে দিতে পারেনি। প্রথম চাষাবাদের পরই মারা যান তিনি। আফ্রিকার অর্থনীতি যেন তেতেহর জীবনের সঙ্গেই গাঁথা। তেতেহর সময় থেকে পশ্চিম আফ্রিকার মানুষ কোকো থেকে নিজেদের ভাগ্য খুঁজে নিতে চেয়েছে। তবে তেতেহর মতোই তাদের সুদিন ক্ষণস্থায়ী। ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বিষয়টি।

দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন উপত্যকার এক বিশেষ উদ্ভিদ কোকো, যার বীজ থেকে তৈরি হয় চকলেট। দক্ষিণ আমেরিকা থেকে মধ্য আমেরিকার আরও কয়েকটি দেশে প্রথম এর চাষ শুরু হয়। এরপর এই বীজ আসে আফ্রিকায়। আফ্রিকার আইভরি কোস্ট, ঘানা, নাইজেরিয়া ও ক্যামেরুনে ব্যাপকভাবে চাষ হয় কোকোর। বিশ্বের মোট কোকোর ৬০ শতাংশ উৎপাদিত হয় ঘানা ও আইভরি কোস্টে। তবে দেশ দুটি মূলত অপ্রক্রিয়াজাত বীজ রপ্তানি করে। বিশ্বের মোট চকলেট বিক্রি করে যে আয় হয়, কোকো বিক্রি করে তার এক–দশমাংশ আয় হয় আফ্রিকার। সমৃদ্ধ দেশগুলোর ট্রেডিং সংস্থা এবং ধনী চকলেট প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোর হাতে কুক্ষিগত এ ব্যবসার মূল ঘুঁটি।

ঘানার কৃষিমন্ত্রী ওউসু আফ্রিয়ি আকোতো দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, ‘আমরা কাঁচামাল বিক্রি করি আর ওরা ভ্যালু যোগ করে। ঘানা ও আইভরি কোস্ট এই ভ্যালু চেইনে ভাগ বসাতে চাইছে।’ এ লক্ষ্যে আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক থেকে ৬০ কোটি ডলার ঋণ নিতে যাচ্ছে ঘানা, যার বেশ বড় একটি অংশ কোকো প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রকল্পে ব্যয় করা হবে। একটি রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত উৎপাদন কারখানা তৈরির জন্য চীনের সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে। পর্যবেক্ষকেরা কোকো প্রক্রিয়াজাতকরণকে আফ্রিকার শিল্পায়নের ক্ষেত্রে একটি পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তবে তা খুব বেশি কাজে আসছে না। কোকো অর্থনীতিতে খুব বেশি আয় বা কর্মসংস্থান যোগ করতে পারছে না।

বিশ্বের মোট কোকোর ৬০ শতাংশ উৎপাদিত হয় ঘানা ও আইভরি কোস্টে। ছবি: রয়টার্সতবে কৃষিমন্ত্রী হতাশ হলেও কিছু সাফল্যের মুখ কিন্তু দেখেছে আফ্রিকা। কয়েক বছরের মধ্যে ঘানায় কোকো উৎপাদন বছরে ১০ লাখ টন ছাড়িয়ে যেতে পারে। ঘানার ন্যাশনাল কোকো বোর্ডের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। মূলত, আধুনিক চাষপদ্ধতি জনপ্রিয় হওয়ার কারণে দেশটিতে কোকো উৎপাদন বাড়ছে। বিশ্বের মোট কোকোর ২১ শতাংশ আফ্রিকায় প্রক্রিয়াজাত হয়, যা এক দশক আগেও ছিল মাত্র ১৫ শতাংশ। আইভরি কোস্ট তাদের নিজের উৎপাদিত বীজের এক-তৃতীয়াংশ নিজেদের ঘরেই ভাঙায়। ঘানার তেমা শহরের বাতাসেও যেন কোকোর গন্ধ। এই শহর কোকো প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য ‘মুক্ত এলাকা’ (ফ্রি জোন) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এখানকার প্রক্রিয়াজাত কোকো মাখন, পানীয় ও কেক বিদেশে রপ্তানি করা হয়।

তবে যেসব মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি এখানে কোকো প্রক্রিয়াজাত কাজে নিয়োজিত, তারাই ইউরোপ ও অন্যান্য দেশে কোকো প্রক্রিয়াজাত করে। ঘানার ‘ফ্রি জোনে’ কোম্পানিগুলো করসুবিধা পায়। এমন অবস্থায় স্থানীয় কোকোশিল্পকে প্রভাবিত করতে সরকার ছোট ও হালকা বীজ প্রক্রিয়াজাত করণে ছাড় দেয়। তবে সমস্যা হচ্ছে, এসব সস্তা বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ যখন শেষ হয়ে যায়, মেশিনগুলো অলস বসে থাকে। সক্ষমতার অর্ধেকের বেশি বাকি থাকে তখনো।

সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ভৌগোলিক অবস্থান। চকলেটের দাম অনেকাংশেই নির্ভর করে বিপণন ও ব্র্যান্ডিংয়ের ওপর। কোকো গুঁড়ো করা থেকে শুরু করে চকলেট তৈরি পর্যন্ত বড় বড় কিছু ধাপ রয়েছে, যা অতিক্রম করা আফ্রিকার জন্য বেশ কষ্টসাধ্য। আর চকলেটের মূল গ্রাহক হলো ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা। তাই গরম অঞ্চল থেকে ঠান্ডা অঞ্চলে চকলেট পাঠানো আসলেই আফ্রিকার মাথাব্যথার বিষয়। এ ছাড়া আফ্রিকায় চকলেটের চাহিদা খুবই কম। কোকোর রাজ্য হলেও আফ্রিকান ব্র্যান্ড বলে এখানে তেমন কিছু গড়ে ওঠেনি। কিছু কিছু কোম্পানি চকলেটের ব্যবসায় এগিয়ে আসছে। যেমন: আইভরি কোস্টের ‘ইনস্ট্যান্ট চকলেট’ কোম্পানি খুবই দামি চকলেট প্রস্তুত করে। জবা ফুলসহ বিভিন্ন নির্যাসের ওই চকলেট একেবারেই আলাদা ধরনের। ঘানার ‘৫৭ চকলেট’ কোম্পানিও বেশ নামকরা। তবে খুবই অল্প পরিসরে গড়ে উঠেছে এসব কোম্পানি। কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা দুই বোন কিম্বরলি ও প্রিসিলা অ্যাডিসন সুইজারল্যান্ড থেকে আইডিয়া নিয়ে তৈরি করেন এই কোম্পানি। তাই বলা যেতে পারে, আফ্রিকার চকলেট প্রস্তুতকারকদের জন্য কোকো কোনো সোনার টিকিট নয়।

আজকের ময়মনসিংহ
আজকের ময়মনসিংহ
এই বিভাগের আরো খবর