ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিববঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’
  • সোমবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||

  • আশ্বিন ১২ ১৪২৭

  • || ১০ সফর ১৪৪২

আজকের ময়মনসিংহ
২৪২

কেউ খোঁজ নেয়নি খন্দকার মালেকের

আজকের ময়মনসিংহ

প্রকাশিত: ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

খন্দকার আব্দুল মালেক শহিদুল্লা ৫২ ভাষা আন্দোলন, ৬৬’র ছয় দফা আন্দোলন, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, ৭০’র নির্বাচন, ৭১’র মুক্তিযুদ্ধসহ প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে ইতিহাসের পরতে পরতে নামটি জুড়ে রয়েছে।

১৯৫২ ভাষা আন্দোলনের সক্রিয় অংশগ্রহণ, পরবর্তীতে তিনি বৃহত্তর ময়মনসিংহের আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলনের অন্যতম আঞ্চলিক নেতা ছিলেন।

উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে অনবদ্য ভূমিকার কারণে বঙ্গবন্ধুর পছন্দে ১৯৭০ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে গণপরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন। 

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে চলে যান ভারতে। বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষকে যুদ্ধের ট্রেনিং ও অস্ত্র রসদ যোগানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন তিনি।

ইবনে আজাদ  (উনার ছন্দ নাম)  সম্পাদিত সাপ্তাহিক মুক্তি নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করতেন। পত্রিকাটিতে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন দিক তোলে ধরা হতো।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দেশে ফিরে ১৯৭২ সালে জাসদ প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি জাসদে যোগদান করেন। এর ফলে আওয়ামী লীগের মূল সংগঠনের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়। 

১৯৯০ সালে আবারো তিনি আওয়ামী লীগে ফিরে গিয়ে মুক্তাগাছা থানা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য নির্বাচিত হন। এর কিছুদিন পর মুক্তাগাছা পৌর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে মেয়র নির্বাচিত হন।

১৯৯২ সালে গঠিত ৭১’র ঘাতক দালাল নির্মূল কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমানেও তিনি ওই কমিটিতে যুক্ত আছেন।

৯৫ বছর বয়সী বঙ্গবন্ধুর এই প্রিয় সহকর্মী ইতিহাসের উজ্জ্বল নক্ষত্র, বয়সের ভারে আজ নতজানু,, বিভিন্ন রোগ বাসা বেঁধেছে শরীরে। ঠিকমত কথাও বলতে পারেন না। স্বরণ শক্তি লোপ পেয়েছে। প্রয়োজন উন্নত চিকিৎসা। 

স্ত্রী সুরাইয়া মালেক কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমার স্বামী কি না করেছে এদেশের জন্য।

কিছুদিন পূর্বে সাবেক আইনমন্ত্রী আব্দুল মতিন খুসরু গিয়েছিলেন তাকে দেখতে, তিনি মাঝেমধ্যেই ফোন করে খোঁজ খবর নেন। এছাড়া দলীয় নেতাকর্মী প্রশাসনের কেউ খোঁজ খবর নেন না।

তিনি আরো বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে তিনি নিজে ছুটে আসতেন। আজ আমাদের একটি ঘর নেই, পরের ঘরে বসবাস করি। টাকা পয়সার অভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে পারছিনা। দুই ছেলে যা আয় করে নিজেদের সংসার কোনোমতে চলে যায়। এই কষ্টগুলো প্রধানমন্ত্রীর নিকট কেউ পৌঁছায় না। তিনি জানলে হয়ত কিছু পাই আর না পাই অন্তত ভালো একটু চিকিৎসার ব্যবস্থা হতো।’

সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জিন্নত আলী জিন্নাহ বলেন, সত্যিকার অর্থেই আমরা কেউ তার খোঁজ নেই না। 

ময়মনসিংহ বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর