ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিববঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’

শনিবার   ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৫ ১৪২৬   ২১ মুহররম ১৪৪১

আজকের ময়মনসিংহ
২৪

এবার ঈদ যাত্রায় ১৩৫ দুর্ঘটনায় নিহত ১৮৫

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট ২০১৯  

ঈদুল আজহায় পথযাত্রায় সারাদেশে ১৩৫ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৮৫ জন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩৫৫ জন বলে জানিয়েছে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সংগঠন।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব লিটন এরশাদ।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ঈদুল আজহার ছুটিতে সারাদেশে মোট দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে ১৩৫ টি। এসব দুর্ঘটনায় ১৮৫ জন নিহত এবং ৩৫৫ জন আহত হয়েছে। এরমধ্যে সড়কপথে ১৩০ টি, রেলপথে ২ টি এবং নৌপথে ৩ টি দুর্ঘটনা ঘটে। ১০ আগস্ট থেকে ১৮ আগস্ট এই ৯ দিনে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের যানবাহনের দুর্ঘটনায় এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে। 

বিভিন্ন পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল, সংবাদসংস্থা ও টেলিভিশন চ্যানেলের তথ্য-উপাত্তের উপর ভিত্তি করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

এই ঈদে উত্তরবঙ্গের সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এ বছর ঈদুল আজহার সময় সারাদেশে সড়ক পথে গাড়ি চলাচল নিবিড় ভাবে পর্যবেক্ষণ করে এই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। 

পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এই ঈদে উত্তরবঙ্গে সড়কে দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে তিনটি সেতু খুলে দেয়ার ফলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে বিভিন্ন জেলায় যানজট হয়নি বললেই চলে এবং সড়ক দুর্ঘটনা এ সব অঞ্চলে তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে। কিন্তু খুলনা ও যশোর অঞ্চলে সড়ক দুর্ঘটনা কমেনি বরং বেড়েছে।

দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালনা ও ওভারটেকিং করার প্রবণতা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও পণ্যবাহী যানবাহনের যাত্রী বহন, পণ্যবাহী যানবাহন বন্ধের নিষেধাজ্ঞা অমান্য, অদক্ষ চালক ও হেলপার দ্বারা যানবাহন চালানো, বিরামহীন ও বিশ্রামহীনভাবে যানবাহন চালানো, যানবাহনের সিডিউল বিপর্যয়, অতিরিক্ত যাত্রী বহনের প্রবণতা, মহাসড়কে অটোরিকশা, ব্যাটারি চালিত রিকশা, নসিমন-করিমন ও স্থানীয়ভাবে মোটরসাইকেলের অবাধ চলাচল, মহাসড়কে ছোট যানবাহনের জন্য আলাদা লেন বা সার্ভিস রোড না থাকা, ঈদ ফেরত যাতায়াতে মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকা, সড়কের বেহাল দশা, গাড়ি না পেয়ে মোটরসাইকেলের যাত্রা, সড়কে নৈরাজ্য নিয়ম না মানার প্রবণতা ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার অধিকাংশ ঘটেছে দ্রুতগতি ট্রাফিক আইন না মানা আর একের অধিক যাত্রী নেয়া।

সড়ক দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে নিসচার প্রস্তাবনায় তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে মনিটরিং শুধু ঈদের আগে করলেই হবে না, ঈদ পরবর্তী সময় মনিটরিং করতে হবে, চালক হেলপারসহ পরিবহন শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা ও বেতন নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধ করা যাবে না। কারণ তাদের মধ্যে একটি প্রতিযোগিতা তৈরি করা হয়, চালক প্রশিক্ষণ, লাইসেন্স ইস্যু পদ্ধতি আধুনিকায়ন, যানবাহনের ফিটনেস প্রদান পদ্ধতি আধুনিকায়ন করতে হবে। 

জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলকে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা ও চালক প্রশিক্ষণের জন্য সরকারি-বেসরকারিভাবে ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করা, ঈদযাত্রা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নৈরাজ্য বন্ধ করা, ওভারলোড নিয়ন্ত্রণে মানসম্মত পর্যাপ্ত পরিমাণে ব্যবস্থা করা, মহাসড়কের গতি নিরাপদ করে দ্রুতগতির যানের জন্য আলাদা আলাদা লেনের ব্যবস্থা করা, ফিটনেস বিহীন লক্কর-ঝক্কর ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন চলাচলে বন্ধের আদেশ শতভাগ কার্যকর করা, সড়ক নিরাপত্তা এরই মধ্যে যেসব সুপারিশ প্রণীত হয়েছে তার শতভাগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা।

এছাড়াও দীর্ঘমেয়াদি আরো কিছু পরিকল্পনা তিনি তুলে ধরেন। সেগুলো হচ্ছে- মিডিয়ার মাধ্যমে সচেতন মূলক অনুষ্ঠান প্রচারের যে ধারাবাহিকতা শুরু হয়েছে তা ব্যাপকভাবে তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে, স্কুলের পাঠ্যক্রমের সড়ক দুর্ঘটনা রোধের বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, নির্দিষ্ট স্থান ব্যতিরেখে যেখানে সেখানে যাত্রী উঠানো নামানো, ওভারটেকিং, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, অতিরিক্ত যাত্রী ও মালবোঝাই করা গাড়ির ছাদে যাত্রী বহন করা এবং জেব্রাক্রসিং থাকা সত্ত্বেও সেগুলো ব্যবহার না করার প্রবণতাকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, দরিদ্র ও বেকার যুবকদের বিনা বেতনে অথবা ঋণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ চালক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বিদ্যমান চালকদের মাঝে দক্ষতা বৃদ্ধি ও সচেতনতা মূলক নিয়ন্ত্রণ নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রদান কার্যক্রম চালু অব্যাহত রাখতে হবে। পথচারীদের নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য ফুটপাতগুলো দখলমুক্ত করে এবং যেখানে ফুটপাত নেই সেখানে ফুটপাত তৈরি করে হাঁটার ব্যবস্থা করতে হবে। দেশের ৬৬ টি প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণরত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সড়ক দুর্ঘটনা রোধে করণীয় সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে করে প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে সব শিক্ষক তাদের স্কুলে গিয়ে ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণকে সচেতন করতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে বিআরটিএর সাবেক চেয়ারম্যান আইয়ুবুর রহমান বলেন, সরকার এক লাখ দক্ষ প্রশিক্ষিত চালক তৈরি করার যে পরিকল্পনা নিয়েছে, সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে দক্ষ চালক তৈরি করতে হবে। এতে সরকারের যে পরিকল্পনা, প্রতি ঘরে ঘরে একজনের কর্মসংস্থান করে দেয়া সেটা বাস্তবায়ন হবে। এটাই একমাত্র সেক্টর যেখানে প্রশিক্ষণ দেয়া হলে কেউ বেকার থাকবে না। তাই, সরকারের প্রতি আহ্বান আপনারা প্রশিক্ষিত চালক তৈরি করুন। এতে করে একদিকে যেমন বেকার সমস্যা দূর হবে অন্যদিকে দুর্ঘটনা হ্রাস পাবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শামীম আলম দীপেন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মিরাজুল মইন জয় প্রমুখ।

আজকের ময়মনসিংহ
আজকের ময়মনসিংহ
এই বিভাগের আরো খবর