ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিববঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’
  • বৃহস্পতিবার   ০৯ এপ্রিল ২০২০ ||

  • চৈত্র ২৬ ১৪২৬

  • || ১৫ শা'বান ১৪৪১

আজকের ময়মনসিংহ
২৪১

ইশরাক-তাবিথে ক্ষুব্ধ তারেক, ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

আজকের ময়মনসিংহ

প্রকাশিত: ১ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

উত্তর-দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী ইশরাক-তাবিথসহ নির্বাচনে পরাজয় নিয়ে শঙ্কিত বিএনপির শীর্ষ নেতারা। সে শঙ্কায় পড়েছেন খোদ দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানও। সূত্র বলছে, পরিকল্পনা মোতাবেক প্রচারণা না করতে পারায় ঢাকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন তিনি।

জানা গেছে, গত ২৯ জানুয়ারি থেকে ঢাকার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন তারেক রহমান। গত দুই দিনে তার সর্বশেষ টেলিফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে। এছাড়া হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসটাইম কিংবা ভাইবারেও তিনি কারো সঙ্গে যোগাযোগ করছেন না।

বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতারা তারেক রহমানের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন কারার পেছনে বেশকিছু কারণ তুলে ধরেছেন। তবে পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি তাদের কেউই।

প্রথম কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করছেন, এবার বিএনপির নেতারা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তারেক রহমানের কোনো পরামর্শ সেভাবে গ্রহণ করেননি। তারেক রহমানকে অনেকটা বাইরে রেখেই তারা সব ধরনের নির্বাচনী পরিকল্পনা এবং প্রচারণা করেছে। এটা লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া পছন্দ করেননি।

দ্বিতীয় কারণ হলো, বিএনপির দুই মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল এবং ইশরাক হোসেনের কেউই তারেক রহমানের দেখানো পথ অনুসরণ করেননি। বরং নির্বাচনী মাঠে বিভিন্ন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। ফলে নির্বাচন প্রচার ও কৌশল বিষয়ে তারেকের পরামর্শে কোনো গুরুত্ব দেয়া হয়নি বলেই অনুমান করছেন দলের নীতিনির্ধারকরা।

তৃতীয়ত, দুই প্রার্থীর কেউই নির্বাচনী প্রচারণার সময় একটিবারের জন্যও তারেক রহমানের নাম উল্লেখ করেননি। এমনকি তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার কোনো প্রতিশ্রুতিও ভোটের মাঠে দেয়নি এই দুই প্রার্থী। ফলে এ থেকে তিনি কিছুটা বিরক্ত বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

চতুর্থত, তারেক রহমানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময় খালেদা জিয়ার ভাই ও বোনের সম্পর্কের তীব্র অবনিত ঘটেছে। খালেদা জিয়ার ভাই এবং বোন খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য প্যারোলের আবেদন করার জন্য নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পরপরই তারা এই প্যারোলের আবেদন করবেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। যে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারেক রহমানের অবস্থান।

বিএনপির একজন নেতা স্বীকার করেছেন, তারেক রহমান মনে করছেন রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে প্যারোলে মুক্তি চাওয়া হবে আত্মঘাতী। আর এ কারণেই খালেদা জিয়ার ভাই বোনের সঙ্গে এখন সম্পর্ক রাখছেন না তারেক রহমান। এছাড়া তাকে যেন দল থেকে চাপ প্রয়োগ করা না হয় এজন্য তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখছেন।

পঞ্চম ও সর্বশেষ কারণ হচ্ছে, তারেক রহমান তৃণমূলের একাধিক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় তিনি তাদের নানা রকম নির্দেশনাও দেন কিন্তু তার দেওয়া নির্দেশনাগুলো কেউই প্রতিপালন করেননি। এতে তারেক জিয়া অসন্তুষ্ট হয়েছেন।

বিএনপির একজন নেতা বলেছেন, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন একটি লাভ হয়েছে- তা হলো তারেক মুক্তি বিএনপির পথে দল এক ধাপ এগিয়েছে। এটা নির্বাচনের পরও ধরে রাখা যায় তাহলে আস্তে আস্তে বিএনপির সংগঠিত হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, তারেক জিয়ার যে কৌশল সেই কৌশলের সঙ্গে বিএনপি শুধু সিনিয়র নেতারাই নন, দলের তৃনমূলের কর্মীরাও একমত নন। অন্যদিকে খালেদা জিয়াকে আটকে রেখে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের যে কৌশল সেই কৌশলও ক্রমশ অগ্রহণযোগ্য হচ্ছে বিএনপি এবং খালেদা জিয়ার পরিবারের কাছে। আর এ কারণে দলে এবং পরিবারে তারেক অপাংক্তেয় হয়ে উঠেছেন। তাই তারেক রহমান কিছুটা অভিমান ও ক্ষোভে নির্বাচনের আগে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন বলেই মনে করা হচ্ছে।

আজকের ময়মনসিংহ
আজকের ময়মনসিংহ
রাজনীতি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর