ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিববঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’

সোমবার   ১৪ অক্টোবর ২০১৯   আশ্বিন ২৯ ১৪২৬   ১৪ সফর ১৪৪১

আজকের ময়মনসিংহ
৩২৪৬

ইসলাম বিষয়ক

আকিকার বিধি-বিধান

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ জানুয়ারি ২০১৯  

ইসলাম শাশ্বত সত্য ধর্ম। এতে দেয়া আছে জীবনের চলার ক্ষেত্রে প্রতিটি কাজের বিধিবিধান। শিশুর জন্মের পর আকিকা দেওয়ার বিধান ইসলামে দেয়া আছে।

প্রিয়নবী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম আকিকা করার জন্য উৎসাহ দিয়েছেন। আকিকার মাধ্যমে সন্তানের বালা মুসিবত, বিপদ আপদ দূর হয়। প্রত্যেক পরিবারের উচিত সন্তান জন্মের পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের নির্দেশ অনুযায়ী আকিকা দিয়ে দেয়া।

আকিকা কে দেবেন...

যিনি শিশুর ভরণ পোষণের দায়িত্ব নেন, তার ওপর আকিকা দেয়া দায়িত্ব হয়ে পড়ে। অর্থাৎ আকিকা দেয়ার দায়িত্ব পিতার ওপর বর্তায়। তবে পিতা দিতে না পারলে মায়ের সামর্থ্য থাকলে মাকে দিতে হবে। অথবা, বাবা এবং মা দু’জন মিলেও সন্তানের আকিকা দিতে পারবেন। মা-বাবাও যদি না পারেন তবে সেক্ষেত্রে তাদের পক্ষ হতে দাদা-দাদী অথবা নানা-নানী আকিকা আদায় করতে পারবেন। তবে এ ধরনের ধারণা পোষণ করা যাবে না, আকিকার পশু নানার বাড়ি থেকেই পাঠাতে হবে এবং তা দিয়ে আকিকা দিতে হবে।

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম হজরত ইমাম হাসান (রা.) ও ইমাম হোসাইন (রা.) এর পক্ষ হতে আকিকা করেছিলেন।

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘প্রত্যেক শিশু তার আকিকার বিনিময়ে বন্ধক স্বরূপ থাকে। কাজেই সপ্তম দিনে তার পক্ষ থেকে যবাই করবে এবং তার মাথা মুন্ডন করে নাম রাখবে।’ (সুনান আবু দাউদ: ২/৩৯২)

আকিকা কখন দিবেন...

শিশুর জন্মের পর সপ্তম দিনে আকিকা করা উত্তম। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর দৌহিত্রদ্বয় হাসান ও হুসাইন (রা.)-এর আকিকা সপ্তম দিনে করেছেন। সপ্তম দিনে আকিকা করতে না পারলে ১৪ তম দিনে আকিকা করা যাবে, ১৪ তম দিনে না পারলে ২১ তম দিনে আকিকা দেয় যাবে। ২১তম দিনেও আকিকা করতে অপারগ হলে এরপরে যেকোনো দিনে করা যাবে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আকীকার পশু সপ্তম বা চৌদ্দতম বা একুশতম দিনে যবাই করা হবে।’ (আলমুজামুল আওসাত ৫/৪৫৭)

কোনো সন্তানের জন্ম শনিবার হলে, তবে সে সন্তানের আকিকা সাত দিন হিসেবে শুক্রবার দিতে হবে। কিন্তু আরবি মাস অনুযায়ী রাত আগে আসে, সূর্যাস্তের পর নতুন তারিখের দিন আরম্ভ। কাজেই কোনো সন্তান শনিবার রাতে জন্মগ্রহন করলে, তার জন্ম রবিবার হয়েছে ধরে নেয়া হয়। তাই সে সন্তানের আকিকা সাত দিন হিসেবে শনিবার দিতে হবে।

শরিয়তের নিয়ম অণুযায়ী আকিকা করা হলো সুন্নত। আকিকার দিন শিশুর মাথা কামানো হয়।

আকিকার জন্য কেমন পশু...

কোরবানির মতো আকিকার পশু হতে হবে ত্রুটিমুক্ত, সুস্থ, সবল। কোরবানির পশু কেনার সময় বা পশু বাছাই করার সময় শরিয়তসম্মতভাবে যে সমস্ত বিষয়গুলো দেখার প্রয়োজন সেই বিষয়গুলো ও আকিকার পশুর ক্ষেত্রে দেখতে হবে। যে পশু দিয়ে কোরবানি দেয়া যায় না, সেই পশু দিয়ে আকিকাও দেয়া যাবেনা। আকিকার ক্ষেত্রে জন্তুর বয়স ও ধরনের দিক থেকে কোরবানির জন্তুর গুণ পাওয়া যায়, এমন জন্তুই নির্বাচন করতে হবে। (তিরমিযি)

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘যার কোনো সন্তান জন্ম লাভ করে, সে যেন উট, গরু অথবা ছাগল দ্বারা আকিকা করে।’ (আলমুজামুল আওসাত: ৩৭১)

ছেলেদের জন্য দুটি ছাগল এবং মেয়েদের জন্য একটি ছাগল যথেষ্ট। ছেলেদের দুটি ছাগল দেয়ার ক্ষেত্রে ছাগলদ্বয় সম পর্যায়ের হতে হবে, অর্থাৎ দেখতে একই অথবা একই বয়সের হওয়া দরকার। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম হজরত ইমাম হাসান (রা.) ও ইমাম হোসাইন (রা.) এর পক্ষ হতে একটি করে দুম্বা দিয়ে আকিকা করেছিলেন।( সুনানে আবু দাউদ)

কোরবানির পশুর সঙ্গে কি আকিকা করা যাবে?

হ্যা, কোরবানির পশুর সঙ্গে আকিকা করা যাবে।

আকিকার গোশত বিতরণ করা...

আকিকার গোশত কোরবানির গোশতের মতোই সবাই খেতে পারবে। গরীব দুঃখীকে এবং আত্নীয় স্বজনকে আকিকার গোশত দিতে হবে। গোশত রান্না বা কাঁচা যেকোনো ভাবেই দেয়া যাবে। সর্বস্তরের লোক এ গোশত খেতে পারবে। কারো খাওয়াতে কোনো নিষেধ নেই।

আকিকা যদি ইচ্ছে হয় রান্না করে আত্নীয় স্বজনকে নিয়ে পারিবারিক অনুষ্ঠানের মতো করে খাবেন, তা খাওয়া যাবে। তবে তার বিনিময়ে কোনো ধরনের বিনিময় নেয়া হারাম। কিন্তু, কোনো সামর্থ্যবান ব্যক্তি যদি খুশি হয়ে শিশু সন্তানকে কোনো উপহার দেয়, তবে সে উপহার গ্রহন করতে হবে। ইসলামে উপহার দেয়া মুস্তাহাব। এক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে উপহারকৃত জিনিসের মালিক শিশু সন্তান হবে, অন্য কেউ সে উপহার নিতে পারবে না, এটি তখন হারাম হয়ে যাবে।

যদি দেখা যায় একই সঙ্গে আকিকা দুই জায়গায় দেয়া হচ্ছে সেক্ষেত্রে পশু দুই স্থানে ভিন্ন সময়ে জবেহ করা যাবে। এতে কোনো নিষেধ নেই।

পিতা-মাতা কি আকিকার গোশত খেতে পারবে?

হ্যা, পিতা-মাতা অবশ্যই আকিকার গোশত খেতে পারবে। আমাদের সমাজে অনেকে মনে করেন, আকিকার গোশত মাতা-পিতা খেতে পারবে না, এ ধারণা ভুল। অনেকে আবার মা খেতে পারবে না মনে করেন। ইসলামে এ ধরনের কোনো নিষেধ নেই। এটি ভ্রান্ত ধারণা। মা-বাবা, নানা-নানী, দাদা-দাদীসহ যেকোনো আত্নীয়-স্বজন, প্রতিবেশি সকলেই এ গোশত খেতে পারবেন। হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, (আকীকার গোশত) নিজে খাবে, অন্যদের খাওয়াবে এবং সদকা করবে।

নিজের আকিকা নিজে দেয়া যাবে...

কোনো কারণে আকিকা দেয়া না হলে, সন্তান বড় হওয়ার পর এবং সামর্থ্যবান হলে আকিকা দিতে পারবে। কোনো না কোনো কারণে পরিবারের পক্ষ হতে আকিকা ছুটে যেতে পারে। নিজে আকিকা দিলে সেই আকিকার গোশত নিজে খেতে পারবে, এতেও কোনো মানা নেই। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বড় হওয়ার পর এবং সামর্থ্য হওয়ার পর নিজের আকিকা নিজে করেছিলেন।

আকিকাও মহান আল্লাহর উদ্দ্যেশ্যে কোরবানি যা অন্যতম আমল এবং ইবাদত। আকিকার সঙ্গে 'নুসুক' একটি শব্দ এসেছে, সেই নুসুক শব্দের অর্থ কোরবানি। তাই আকিকা আদায় করার যথাযথ নিয়মসমূহ মেনে চলা উচিত।

আজকের ময়মনসিংহ
আজকের ময়মনসিংহ
এই বিভাগের আরো খবর