ব্রেকিং:
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ! চামড়া সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়েছে: শিল্প সচিববঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর ‘এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ’ ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’

শনিবার   ১৯ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৪ ১৪২৬   ১৯ সফর ১৪৪১

আজকের ময়মনসিংহ
২৫

অভিশপ্ত চেয়ারটিতে বসলে মৃত্যু নিশ্চিত!

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯ অক্টোবর ২০১৯  

চেয়ার। যেখানে মানুষ আরাম করার জন্যই বসে থাকে। চেয়ারকে সবাই আরামের প্রতীক হিসেবেই জানে। তবে সেই আরামের প্রতীক যদি হয়ে ওঠে মৃত্যুর কারণ, তবে বিষয়টি অস্বাভাবিকই বটে! কিন্তু চেয়ার অব ডেথ বা মৃত্যু চেয়ারের গল্প যেন অস্বাভাবিকতাকেও হার মানায়।

পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে কুখ্যাত এই চেয়ারটি রয়েছে ইংল্যান্ডের উত্তর ইয়র্কশায়ারের বাসবি স্টুপ ইন নামে এক সরাইখানায়। কেবল এই চেয়ারটির কারণেই জায়গাটি সমগ্র ইংল্যান্ডের মানুষের কাছে এক রহস্যময় স্থান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। অবশ্য চেয়ারটির অভিশপ্ত ইতিহাসের সঙ্গেও এই সরাইখানাটি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। 

মূল ঘটনাটি বেশ পুরনো। সেই ১৭০২ সালের কথা। সে বছর থমাস বাসবি নামে একজন অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড হয়। অপরাধী যত ভয়ঙ্করই হোক না কেন, মৃত্যু দণ্ডাদেশ কার্যকর করার আগে তার শেষ ইচ্ছা জানতে চাওয়ার নিয়ম সেই তখন থেকেই প্রচলিত ছিল।

১৬৬৯ অথবা ১৭০২ সালে ইংল্যান্ডে থমাস বাসবি নামে একজন অপরাধীর খুনের দায়ে মৃত্যুদণ্ড হয়। তবে অপরাধী যত ভয়ংকরই হোক না কেন, মৃত্যু দণ্ডাদেশ কার্যকর করার আগে তার শেষ ইচ্ছা জানতে চাওয়ার নিয়ম সেই তখন থেকেই প্রচলিত ছিল। আর তাই ফাঁসিতে ঝুলিয়ে থমাসের মৃত্যু দণ্ডাদেশ কার্যকর করার আগে তার শেষ ইচ্ছা জানতে চাওয়া হয়। 

এসময় থমাস কর্তৃপক্ষের কাছে এক অদ্ভুত আবদার করে বসে। সে তার পানশালাতে গিয়ে নিজের প্রিয় চেয়ারে বসে জীবনের শেষ খাবার খাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে। ফলে থমাসের শেষ ইচ্ছা পূরণের ব্যবস্থা করে কর্তৃপক্ষ। খাবার শেষ করে চেয়ারটি ছেড়ে উঠে দাঁড়ায় থমাস। এরপর বক্তৃতার ঢঙে বলে ওঠে- ‘সবাইকে সাবধান করে দিচ্ছি। এটা আমার প্রিয় চেয়ার। আমি আর কখনো এটাতে বসার সুযোগ পাব না। তাই বলে দিচ্ছি, এই চেয়ারে যে বসবে সে হঠাৎ করেই মারা যাবে’।

এ ঘটনাটির সাক্ষী ছিলেন অনেকেই এবং ভয় পেয়ে কেউই আর চেয়ার ব্যবহার করত না। ইংল্যান্ডের উত্তর ইয়োর্কশায়ারের বাসবি স্টুপ ইন নামের সরাইখানার মালিক ছিলেন এই থমাস বাসবি। মানুষজনের কাছে জায়গাটি রহস্যময় হিসেবে পরিচিত। কারণ এখানে রয়েছে সেই অভিশপ্ত চেয়ারটি,  যার নাম চেয়ার অব ডেথ। কথিত এই চেয়ারটি বাসবির খুব পছন্দের ছিল। এই চেয়ারে বসেই তিনি মদ্যপান করতেন। 

একদিন বাসবির শ্বশুর ডেনিয়াল ওয়েডিং বাসবির চেয়ারে বসেন। এতে বাসবি তার প্রতি ক্ষুদ্ধ হয়ে তাকে খুন করে। এই চেয়ারে তিনিই প্রথম মারা যান। এরপরে ২০০ বছর পার হয়ে গেলেও চেয়ারটি সেই পানশালাতেই রয়ে যায়। কিন্তু কেউ সেটিতে বসত না। এরপর শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, একদিন একজন বৈমানিক সেই পানসালাতে এসে অভিশপ্ত চেয়ারে বসেন। তবে সেই দিন তার কিছু না হলেও তিনি আর যুদ্ধ থেকে ফিরে আসেননি।

অভিশপ্ত চেয়ার ও থমাস বাসবি

অভিশপ্ত চেয়ার ও থমাস বাসবি

এরপর আরো কয়েকজন সৈন্য চেয়ারে বসেছিলেন, আশ্চর্যের ব্যাপার হলো তাদের কেউই যুদ্ধ থেকে জীবিত ফিরে আসেননি। ১৯৬৭ সালে ব্রিটিশ রাজকীয় বিমান বাহিনীর দুইজন পাইলট ওই চেয়ারে বসেছিলেন। খাবার-দাবার শেষে পানশালা থেকে বের হয়েই তারা এক ট্রাক দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। আর সেই দুর্ঘটনায় দুজনেই মারা যান। এসব ঘটনার পর এই চেয়ারটির দুর্নাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 

লোকমুখে গল্পটি বেশ জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে। তবে যথারীতি এমন অভিশাপে বিশ্বাস করেন না এমন লোকেরও অভাব ছিল না। ১৯৭০ সালে একজন স্থপতি এই চেয়ারে বসে অভিশাপকে ভুল প্রমাণের চেষ্টা করেন। কিন্তু অভিশাপকে ভুল প্রমাণের আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। তিনি যেদিন চেয়ারটায় বসেছিলেন, ঠিক সেদিন বিকালেই এক গর্তে পড়ে মারা যান ওই স্থপতি। 

এরপর আরেক ছাদ ঢালাইকারী ওই চেয়ারে বসেন। তিনিও এখানে বসার পর অভিশাপের বিষয়টি রীতিমতো হেসে উড়িয়ে দেন। এই লোকটি ছাদ থেকে পড়ে যান এবং মৃত্যুবরণ করেন। আরেকজন মহিলা এই চেয়ারে বসার পর মস্তিষ্কের টিউমারে আক্রান্ত হয়ে মারা পড়েন। এভাবে সত্যি সত্যি এই চেয়ারের সঙ্গে আকস্মিক মৃত্যুর যোগসাজেশের অদ্ভুতুড়ে উদাহরণ দিন দিন বাড়তেই থাকল।

শুধু তাই নয়, এত বছর ধরে অনেকেই মৃত থমাসকে পানশালায় ঘুরে বেড়াতে দেখেছে বলে দাবি করেছে। ক্রমাগত এরকম ঘটনায় ভড়কে যান পানশালার মালিক। এরপর তিনি এই চেয়ারটি সেখানকার বেসমেন্টে রেখে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু যে লোকটি এই  চেয়ার বহন করছিল, সে ওই বেসমেন্টে গিয়ে বিশ্রাম নেয়ার জন্য চেয়ারের উপর বসে পড়ে। সে দিনই লোকটি এক গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যায়। 

১৯৭২ সালে অভিশপ্ত এই চেয়ারটি স্থানীয় জাদুঘরে দিয়ে দেয়া হয়। এখনো সেখানেই রয়েছে এটি। চেয়ারটি মাটি থেকে পাঁচ ফুট উপরে ঝুলিয়ে রেখে প্রদর্শন করা হচ্ছে, যাতে সেটিতে কেউ বসতে না পারে। শুধু চেয়ার নয়, রহস্য থমাসকে নিয়েও। অনেকেই থমাসকে ঘুরে বেড়াতে দেখেছে। এতসব ঘটনার পরও বর্তমান সময়ে এটিকে কাকতালীয় বলাটাই স্বাভাবিক। 

তারপরও বিষয়গুলো একটু চিন্তা করলে কিছুটা রহস্য থাকাটাও অস্বাভাবিক কিছু নয়। ইতিহাস বলছে, এই চেয়ারে বসা মানুষগুলোর করুণ পরিণতিও মিথ্যা নয়। তাহলে কী সত্যি চেয়ারটি অভিশপ্ত? হয়তো হাজার হাজার বছর ধরে এটি শুধু ইতিহাসের এক কাহিনী হয়ে থাকবে।

আজকের ময়মনসিংহ
আজকের ময়মনসিংহ